শিরোনাম:

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গরীব মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গবীর মানুষের মধ্যে ৫০ জনকে ২০ কেজি হারে চাল এবং ৮০ জনকে নগদ এক হাজার টাকা হারে মানবিক সহায়তায় বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো: হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব মো. মীর হোসেন।

বাঘাইছড়িতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ভিড়, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে জ্বালানি তেলের সংকট ঘিরে মোটরসাইকেল চালকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে শত শত মোটরসাইকেল চালককে। এতে করে পাম্প এলাকা ও আশপাশে সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেলের সরবরাহ সীমিত থাকায় অনেকেই আগেভাগে এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা অনেকেই তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, কিছু অসাধু মোটরসাইকেল চালক একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুত করছেন। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তারা আরও বলেন,সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়।”

এদিকে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সচেতন মহল মনে করছেন, এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভিড়, ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খলার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বৃদ্ধি, সুষ্ঠু লাইন ব্যবস্থাপনা এবং তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মজুতদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

কাপ্তাইয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটালো ব্যতিক্রমী এক ইফতার মাহফিল

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে কাপ্তাই ১০ শয্যা হাসপাতাল ও সামাজিক সংগঠন ‘কাপ্তাই ইয়ুথ ক্লাব’।

মঙ্গলবার (১৭ই মার্চ, ২৭শে রমজান) ১০ শয্যা হাসপাতাল (লক গেইট) প্রাঙ্গণে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই মানবিক কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। টানা চতুর্থবারের মতো আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সংগঠনের সকল সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এতিম ও পথশিশুদের জন্য এই বিশেষ আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন এবং কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি লোকনাথ আহমেদ, কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রুইহ্লা অং মারমা প্রমুখ।

কাপ্তাই ১০ শয্যা হাসপাতালের মানবিক ডা: এ কে এম কামরুল হাসান বলেন, “সমাজের অবহেলিত এতিম ও পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কাপ্তাই ইয়ুথ ক্লাবের সহযোগিতায় এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।”

এসময় বক্তারা ডা: কামরুল হাসান এর মানবিক অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন এতিম শিশুদের কল্যাণে এবং তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে পর্দার আড়াল থেকে নিরলসভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তার এই নিঃস্বার্থ সেবামূলক কার্যক্রম এলাকায় বেশ সমাদৃত।

ইফতারের আগ মুহূর্তে শিশুদের নিয়ে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা এবং উপস্থিত শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্থতা প্রার্থনা করেন বিএফআইডিসি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আনোয়ার হোসেন সাইফি। এসময় কাপ্তাই ইয়ুথ ক্লাব সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার জিতু, ইয়ুথ লিডার রিয়াদ, তাহসিন, শুক্কুচদর, রাসেল, তানজিম, রাহাত,জিহান, রাফি, রাসেল,নিপু, গণমাধ্যম কর্মী সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

“পুণ্যস্নানে মেতেছে কাপ্তাই” «ভক্তি আর শ্রদ্ধায় শেষ হলো ঐতিহাসিক সীতামেলা

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থায়নে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহাসিক মহা বারুণী স্নান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই প্রাগৈতিহাসিক তীর্থস্থান শ্রী শ্রী মাতা সীতা মন্দির সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর তীরে হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীর ঢল নামে।

ভোর হওয়ার সাথে সাথেই কর্ণফুলী নদীর শীতল জলে পুণ্য অর্জনের আশায় ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। চট্টগ্রামের পটিয়া, রাঙ্গুনিয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর-দূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ ও শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক চিৎমরম ইউনিয়নের (সীতাঘাট) এলাকা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথিতে গঙ্গা বা পবিত্র নদীতে স্নান করলে পাপমোচন ও পুণ্য অর্জিত হয়।

​স্নান শেষে ভক্তরা সীতামন্দির প্রাঙ্গণে পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনায় অংশ নেন। দিনব্যাপী উৎসবের সূচিতে ছিল, শ্রীকৃষ্ণের নাম সংকীর্তনে মুখরিত ছিল মন্দির প্রাঙ্গণ, মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়।

উপস্থিত হাজারো ভক্তের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।স্নান করতে আসা কয়েকজন পুণ্যার্থী জানান, এই প্রাচীন তীর্থস্থানে এসে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পাহাড় ও নদীর মিশেলে এক স্বর্গীয় প্রশান্তি অনুভব করেন তারা।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি কেবল একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি রূপ নিয়েছিল সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায়। মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী সমলেন্দু বিকাশ দাশের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন।

​প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করেই আজকের এই বিশাল উপস্থিতি। কাপ্তাইয়ের এই ঐতিহাসিক সীতা মন্দির আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।

“অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,  রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য বাবু দয়াল দাশসহ স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাহাড়ের এই জনপদে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

×