| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

​

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

​ষাটের দশকের শুরুতে পাহাড়ি জনপদের বুক চিরে যখন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন রাষ্ট্র একে দেখেছিল ‘উন্নয়ন’ হিসেবে। কিন্তু রাঙ্গামাটির পাহাড় আর উপত্যকার মানুষের কাছে তা আজও এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। এই একটি মাত্র বাঁধের কারণে সে সময় প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর স্থায়ী ও ASGI ধানের জমি চিরতরে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারিয়ে উচ্ছেদ হতে হয়েছিল লাখেরও বেশি মানুষকে। সেই ‘বড় পরং’ বা মহা-উদ্বাস্তু হওয়ার ক্ষত পাহাড় আজও বয়ে বেড়াচ্ছে।

​বছরের পর বছর পার হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির ওঠানামার সাথে এই অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাগ্য যেন এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর জুয়াখেলায় মেতে থাকে। বিশেষ করে বর্তমানের এই তীব্র শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার সংকট যেমন চরম রূপ ধারণ করেছে, তেমনি পানির নিচ থেকে ভেসে উঠছে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের নানা খণ্ডচিত্র।

​হাজরী বাগের অলৌকিক গাছ:

অতিত ও বর্তমানের এক জীবন্ত সাক্ষী ​জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবারের শুকনো মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। আর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই রাঙ্গামাটির হাজরী বাগ এলাকায় হ্রদের বুক চিরে জেগে উঠেছে বহু বছরের পুরনো এক নিঃসঙ্গ গাছ। কাপ্তাই বাঁধের আগে যে বিস্তীর্ণ জনপদ ছিল, এই গাছটি মূলত সেই সময়কার। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে পানির নিচে ডুবে থাকার পরও গাছটি যেভাবে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা এক পরম বিস্ময়।

​এই গাছটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে এক অলৌকিক ইতিহাস। জানা যায়, হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই এই মূল্যবান গাছটি কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লোকবিশ্বাস রয়েছে, যখনই কেউ লোভের বশে বা খারাপ উদ্দেশ্যে এই গাছটি কাটতে গেছে, তখনই অলৌকিকভাবে গভীর রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে সতর্ক বা নিষেধ করা হয়েছে।

​স্বপ্নে পাওয়া সেই দৈব বার্তার ভয়ে এবং গাছটির প্রতি এক ধরণের সমীহ থেকে পরবর্তীতে আর কেউ একে কাটার সাহস করেনি। কোনো লোভ বা কুদৃষ্টি একে স্পর্শ করতে পারেনি বলেই আজ এত বছর পরও কাপ্তাই বাঁধের সেই প্রাচীন স্মৃতি হ্রদের তলদেশে অক্ষত রয়ে গেছে। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে এই গাছটি কেবল একটি কাঠের টুকরো নয়, বরং তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটির শেষ চিহ্ন এবং এক পরম শ্রদ্ধার প্রতীক।

​ডুবো জমি ও বর্তমানের জীবিকা সংকট :

​কাপ্তাই হ্রদের চারপাশের পাহাড়ি মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে হ্রদের তীরবর্তী ‘ডুবো জমি’। বর্ষায় হ্রদের পানি যখন উপচে পড়ে, তখন জমিগুলো তলিয়ে থাকে। আর শীতের শেষে যখন পানি নেমে যায়, তখন জেগে ওঠা পলিমাটিতে চাষাবাদ করে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের সারা বছরের খাদ্য সংস্থান করেন। ​কিন্তু এখন পানির স্তর মারাত্মকভাবে ওঠানামা করছে। এবারের শুকনো মৌসুমে পানি এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, অনেক এলাকায় সেচের জলের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। যে জমিতে সোনালী ধানের হাসি থাকার কথা ছিল, পানির অভাবে তা আজ ফেটে চৌচির। প্রখর রোদে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন।

​থমকে গেছে যাতায়াত, ব্যাহত জীবনযাত্রা :

​কাপ্তাই হ্রদ কেবল একটি কৃত্রিম জলাশয় নয়, এটি রাঙ্গামাটির দুর্গম উপজেলাগুলোর যোগাযোগের প্রধান মহাসড়ক। শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ​বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু দূরবর্তী পাহাড়ি গ্রাম। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত জুমের ফসল বা শাকসবজি এখন আর সহজে সদরের বাজারে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। যেখানে নৌকায় কয়েক ঘণ্টায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে, অতিরিক্ত খরচ ও শারীরিক কষ্ট স্বীকার করে মানুষকে পথ চলতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা, যাদের জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানির নিচে ইতিহাস, উপরে খাবার জলের হাহাকার :

​যে হ্রদের পানি উৎপাদনে দেশের একটা অংশ আলোকিত হয়, সেই হ্রদের চারপাশের মানুষ আজ তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি দূষিত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ঝর্ণার বিশুদ্ধ পানিও মিলছে না। ফলে হ্রদের তীরবর্তী গ্রামগুলোতে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
​যে ৫৪ হাজার হেক্টর ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। হাজরী বাগের অলৌকিক গাছটির মতো অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন পানির নিচে চাপা পড়ে আছে, কিন্তু সেই উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর বর্তমান প্রজন্ম আজও এক অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি।

​শেষ কথা  :

কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত পাহাড়ের মানুষের ত্যাগকে রাষ্ট্র কতটা মূল্যায়ন করেছে, সেই প্রশ্ন রয়েই যায়। কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে পর্যটনের জৌলুস বাড়লেও, হ্রদের ওপর নির্ভরশীল আদিবাসী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

​শুকনো মৌসুমের এই মানবিক সংকট দূর করতে হলে হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা (ড্রেজিং), দুর্গম এলাকায় বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংকটকালীন সময়ে প্রান্তিক চাষীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া জরুরি। পাহাড়ের মানুষের বুকের ওপর বয়ে চলা এই কৃত্রিম হ্রদ যেন তাদের চিরস্থায়ী কান্নার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে এখনই নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বিলাইছড়িতে পালবার লিং সেন্টারের বার্ষিক কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালবার লিং সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে বার্ষিক দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভদন্ত দেবানন্দ মহাথের এবং সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞাবারিধি অধ্যাপক ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিপস্সী মহাথের, ভদন্ত ওয়ারাসামী মহাথের, ভদন্ত ইন্দাচারা মহাথের এবং পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘ।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী মৈত্রী দেওয়ান, বিলাইছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক উষা কিরণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো পুণ্যার্থী।

দিনব্যাপী আয়োজনে কঠিন চীবর দানের পাশাপাশি বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার লেখা বুদ্ধকীর্তন এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

দীঘিনালার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনাকুঠিরে ৫ তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনা কুঠিরে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার ১নভেম্বর দিনব্যাপি অনুষ্টানে সকালে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান করা হয়।

এতে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নন্দবংশ মহাস্হবির ভান্তে, ছোট মেরং বিশ্ব শান্তি ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ সুগতবংশ মহাস্হবির ভান্তে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জ্ঞান জীত চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ ও বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বজুড়ে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে দেশনা প্রদানকালে নন্দ বংশ মহাস্হবির ভান্তে বলেন, বুদ্ধ ধর্ম হলো শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের ধর্ম। বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে প্রত্যেক মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে বুদ্ধের উপদেশ মেনে চলতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান।

নন্দ বংশ ভান্তে আরও বলেন, পঞ্চশীল মানুষের নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পঞ্চশীল পালন করলে মানুষ হিংসা, লোভ, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের পঞ্চশীল পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবতার আদর্শে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্টানে দ্বিতীয় পর্ব উপস্তিত ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দিন ব্যাপি কঠিন চীবর দান অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি দায়িত্ব পেলেন অংগ্য মারমা

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে ৩৪ নং সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুব নেতা ও সাংবাদিক অংগ্য মারমা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের প্যাডে সংসদ সদস্য মাধবী মারমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে অংগ্য মারমাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

মনোনীত অংগ্য মারমা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গঞ্জ পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মারমা যুব ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ, সরেজমিন বার্তা, এই বাংলা পত্রিকার এবং স্থানীয় দৈনিক অরণ্য বার্তা ও আলোকিত পাহাড় পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটি বার্তা, আজকের প্রতিদিন ও বার্তা বাজার-এ কাজ করার সুবাদে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ ও নানা সমস্যার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিতাস বাংলাদেশ’ এবং সমবায় অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত দি মারমা ক্রেডিট ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সমবায় সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অংগ্য মারমা সংসদ সদস্য মাধবী মারমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবেন।

এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

×