| ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

​ষাটের দশকের শুরুতে পাহাড়ি জনপদের বুক চিরে যখন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন রাষ্ট্র একে দেখেছিল ‘উন্নয়ন’ হিসেবে। কিন্তু রাঙ্গামাটির পাহাড় আর উপত্যকার মানুষের কাছে তা আজও এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। এই একটি মাত্র বাঁধের কারণে সে সময় প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর স্থায়ী ও ASGI ধানের জমি চিরতরে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারিয়ে উচ্ছেদ হতে হয়েছিল লাখেরও বেশি মানুষকে। সেই ‘বড় পরং’ বা মহা-উদ্বাস্তু হওয়ার ক্ষত পাহাড় আজও বয়ে বেড়াচ্ছে।

​বছরের পর বছর পার হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির ওঠানামার সাথে এই অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাগ্য যেন এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর জুয়াখেলায় মেতে থাকে। বিশেষ করে বর্তমানের এই তীব্র শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার সংকট যেমন চরম রূপ ধারণ করেছে, তেমনি পানির নিচ থেকে ভেসে উঠছে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের নানা খণ্ডচিত্র।

​হাজরী বাগের অলৌকিক গাছ:

অতিত ও বর্তমানের এক জীবন্ত সাক্ষী ​জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবারের শুকনো মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। আর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই রাঙ্গামাটির হাজরী বাগ এলাকায় হ্রদের বুক চিরে জেগে উঠেছে বহু বছরের পুরনো এক নিঃসঙ্গ গাছ। কাপ্তাই বাঁধের আগে যে বিস্তীর্ণ জনপদ ছিল, এই গাছটি মূলত সেই সময়কার। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে পানির নিচে ডুবে থাকার পরও গাছটি যেভাবে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা এক পরম বিস্ময়।

​এই গাছটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে এক অলৌকিক ইতিহাস। জানা যায়, হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই এই মূল্যবান গাছটি কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লোকবিশ্বাস রয়েছে, যখনই কেউ লোভের বশে বা খারাপ উদ্দেশ্যে এই গাছটি কাটতে গেছে, তখনই অলৌকিকভাবে গভীর রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে সতর্ক বা নিষেধ করা হয়েছে।

​স্বপ্নে পাওয়া সেই দৈব বার্তার ভয়ে এবং গাছটির প্রতি এক ধরণের সমীহ থেকে পরবর্তীতে আর কেউ একে কাটার সাহস করেনি। কোনো লোভ বা কুদৃষ্টি একে স্পর্শ করতে পারেনি বলেই আজ এত বছর পরও কাপ্তাই বাঁধের সেই প্রাচীন স্মৃতি হ্রদের তলদেশে অক্ষত রয়ে গেছে। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে এই গাছটি কেবল একটি কাঠের টুকরো নয়, বরং তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটির শেষ চিহ্ন এবং এক পরম শ্রদ্ধার প্রতীক।

​ডুবো জমি ও বর্তমানের জীবিকা সংকট :

​কাপ্তাই হ্রদের চারপাশের পাহাড়ি মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে হ্রদের তীরবর্তী ‘ডুবো জমি’। বর্ষায় হ্রদের পানি যখন উপচে পড়ে, তখন জমিগুলো তলিয়ে থাকে। আর শীতের শেষে যখন পানি নেমে যায়, তখন জেগে ওঠা পলিমাটিতে চাষাবাদ করে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের সারা বছরের খাদ্য সংস্থান করেন। ​কিন্তু এখন পানির স্তর মারাত্মকভাবে ওঠানামা করছে। এবারের শুকনো মৌসুমে পানি এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, অনেক এলাকায় সেচের জলের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। যে জমিতে সোনালী ধানের হাসি থাকার কথা ছিল, পানির অভাবে তা আজ ফেটে চৌচির। প্রখর রোদে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন।

​থমকে গেছে যাতায়াত, ব্যাহত জীবনযাত্রা :

​কাপ্তাই হ্রদ কেবল একটি কৃত্রিম জলাশয় নয়, এটি রাঙ্গামাটির দুর্গম উপজেলাগুলোর যোগাযোগের প্রধান মহাসড়ক। শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ​বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু দূরবর্তী পাহাড়ি গ্রাম। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত জুমের ফসল বা শাকসবজি এখন আর সহজে সদরের বাজারে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। যেখানে নৌকায় কয়েক ঘণ্টায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে, অতিরিক্ত খরচ ও শারীরিক কষ্ট স্বীকার করে মানুষকে পথ চলতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা, যাদের জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানির নিচে ইতিহাস, উপরে খাবার জলের হাহাকার :

​যে হ্রদের পানি উৎপাদনে দেশের একটা অংশ আলোকিত হয়, সেই হ্রদের চারপাশের মানুষ আজ তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি দূষিত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ঝর্ণার বিশুদ্ধ পানিও মিলছে না। ফলে হ্রদের তীরবর্তী গ্রামগুলোতে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
​যে ৫৪ হাজার হেক্টর ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। হাজরী বাগের অলৌকিক গাছটির মতো অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন পানির নিচে চাপা পড়ে আছে, কিন্তু সেই উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর বর্তমান প্রজন্ম আজও এক অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি।

শেষ কথা  :

কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত পাহাড়ের মানুষের ত্যাগকে রাষ্ট্র কতটা মূল্যায়ন করেছে, সেই প্রশ্ন রয়েই যায়। কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে পর্যটনের জৌলুস বাড়লেও, হ্রদের ওপর নির্ভরশীল আদিবাসী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

​শুকনো মৌসুমের এই মানবিক সংকট দূর করতে হলে হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা (ড্রেজিং), দুর্গম এলাকায় বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংকটকালীন সময়ে প্রান্তিক চাষীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া জরুরি। পাহাড়ের মানুষের বুকের ওপর বয়ে চলা এই কৃত্রিম হ্রদ যেন তাদের চিরস্থায়ী কান্নার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে এখনই নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কাপ্তাইয়ে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারী আটক

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি :

কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাপ্তাই থেকে একটি সিএনজি চোলাই মদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান অভিমুখে রওনা দেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪১ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইটে ওই সিএনজিটিতে তল্লাশি চালায়। এসময় সিএনজিতে থাকা ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে বিজিবি।

বিজিবির প্রেস নোটে জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের কাপ্তাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূলে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​ছবি ক্যাপসন – উদ্ধারকৃত চোলাই মদ ও আটক ৪ পাচারকারী

নারীকে সামনে রেখে আলীকম প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা, নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মমতাজ উদ্দিন আহমদ গংদের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রেস ক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা,মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

‎তথ্য সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ ২৭ বছর পর গণতান্ত্রিক নিয়মে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যরা মিলে আলীকদম প্রেসক্লাবে প্রবেশ করার সময় মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ তার ভাইদের নেতৃীত্বে একদল নারী ও তাদের পরিবারের লোকজন হঠাৎ করে আলীকদম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য,নির্বাচিত উপর ব্যাপক হারে হামলা-মারধর করা হয়েছে এবং সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। আলীকদম প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সদস্যরা আশার পর কিছু পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আবারও যে কোন সময় বড় ধরণের রক্তক্ষয়ি-সংঘাত হওয়ার সম্ববনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

‎নির্বাচিত কমিটির সভাপতি এসএম জিয়াউদ্দিন জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক আবু জুয়েল নুরখান অভিযোগ করে বলেন,একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিত ভাবে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রেস ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

‎স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে,ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়াতে নারী শিশু নির্যাতন দমন অপহরণ মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও গ্রেপ্তারে ধীরগতি

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

বিশেষ প্রতিবেদক, রাঙামাটি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ডাকবাংলা পাড়া নিবাসী কেপ্রু মারমার কনিষ্ঠ মেয়ে নাবালিকা খ্যাইনুউ মারমা (১৫) সে কুন্ডেশরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়রনত ছিল। রাউজান এলাকা থেকে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ সালের এক মারমা নাবালিকা ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর প্রথমে রাউজান থানায় ভিকটিমের অভিভাবক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নং- ১১৫৫ ও ২১ এপ্রিল। এবং ২৪ এপ্রিল আদালতে গিয়ে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রাম-০৩ আদালতে নারী শিশু নির্যাতন মামলা নং- ৩৫/২০২৬, রাউজান নির্যাতিতার অভিভাবক আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। যার নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ (ধারা ৭/৩০) হলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্য অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ উঠেছে।

ভিকটিমের নামঃ খ্যাইনুউ মারমা (১৫) পিতাঃ কেপ্রু মারমা মাতাঃ নুম্রাসিং মারমা, সাং ডাকবাংলা পাড়া চন্দ্রঘোনা, থানা- রাজস্থলী,  রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। সরকারী নিয়মে কোন নারী ১৮ বছরের নিচে বিয়ের নামে অবৈধ বাল্যবিবাহ, অসামাজিক কার্যকলাপ, বিয়ে করা ও সংসার নামে একসঙ্গে বসবাস করা আইনের লঙ্ঘন ও পরিপন্থী। আসামীঃ ১. মোঃ আরজ তালুকদার, পিতা- মৃতঃ আব্দুল মফেজ তালুকদার, বাসিন্দাঃ ডাকবাংলা মধ্য পাড়া, বাঙ্গালহালিয়া চন্দ্রঘোনা, থানা- রাজস্থলী, রাঙ্গামাটি।

সূত্রে জানা যায়, ১নং আসামি তার বিশাল দালান কোঠা তিন তলা বিশিষ্ট বাড়ি অবস্থিত উত্তর সুখবিলাস পাড়া পদুয়া ইউনিয়ন চট্রগ্রাম। আসামি নং-২, মোঃ আলাউদ্দিন পিতাঃ আলী আহম্মদ সাকিনঃ সুখবিলাস, ফলহারিয়া পাড়া পোস্টঃ পদুয়া থানাঃ রাঙ্গুনিয়া উপজেলাঃ রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম। মূলহোতা আসামীসহ সহযোগিতায় আসামীরা ধরা ছোঁয়া বাইরে স্বাভাবিক প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছেন।

স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানান, আসামিরা এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ১ম আসামি পূর্বেও একাধিক পাহাড়ি নারী ও বাঙালি নারীদের সাথে বিয়ে নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। ১নং আসামি পূর্বের জন্ম স্থান সাং- নাপিত পুকুরিয়া গ্রাম দক্ষিণ পদুয়া ইউনিয়ন রাঙ্গুনিয়া থানা/ উপজেলা জেলা : চট্টগ্রাম।

স্থানীয়রা জানান, নারী কেলেংকারীর মাধ্যমে এলাকায় পরিস্থিতি অশান্তি সৃষ্টি করতে সে  টাকা অর্থ প্রলোভনের মাধ্যমে নারীদের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যায় অনুসন্ধানে রিপোর্টে। আসামিরা এলাকায় দাপটের প্রভাব খাটিয়ে ভিকটিম পরিবারকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

ভিকটিমের মেয়ে, অভিভাবক চাচিসহ গণমাধ্যমকে জানান, সুস্থ বিচার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্তৃক অপরাধীকে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল আদালতে মামলার আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচারের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন ভিকটিম অভিভাবক ও নির্যাতিত নারী।

×