| ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

ঈদের আনন্দে বান্দরবানে চতুর্থ দিনে পর্যটকের ভিড়।

ঈদের আনন্দে বান্দরবানে চতুর্থ দিনে পর্যটকের ভিড়।

 

মো.আলম; বান্দরবান প্রতিনিধি:

কোরবান ঈদের ছুটির শেষ দিনে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে কিছুটা বেড়েছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।

রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই বিভিন্ন পর্যটন স্পট, বিনোদন কেন্দ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা এলাকাগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই শেষ মুহূর্তে ঘুরতে বের হয়েছেন

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির শুরুতে তুলনামূলক কম পর্যটক এলেও শেষ দিনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন খাতেও কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

পর্যটকদের অনেকে জানান, কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে স্বল্প সময়ের অবকাশ কাটাতে তারা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে এসেছেন। তবে ভিড় বাড়ায় কিছু এলাকায় যানজট ও পার্কিং সমস্যারও সৃষ্টি হয়েছে।

হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ছুটির শেষ দিন হওয়ায় সন্ধ্যার পর পর্যটকদের ফেরার চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সকাল থেকে দিনে প্রায় ৩০০ ঊর্ধ্বে চান্দের গাড়ি ছেড়ে গিয়েছে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। বেশিরভাগ দেবতাখুম, নীলাচল, শৈলপ্রপাত আর চিম্বুক কেন্দ্রে। আর হোটেল মোটেল ৯০ শতাংশ বুকিং হয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণ চাঁন্দের গাড়িতে। খোলা আকাশের নিচে হইহুল্লোড় করে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা।

চাঁদের গাড়ি ও মাইক্রোবাস সমিতি টিকিট কাউন্টার কামাল জানান, সকাল থেকে স্টেশন থেকে গাড়ি ছেড়ে গেছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টা।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে বলেন, ‘ছুটির শেষ দিনেও প্রতিটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশা করছি নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে ঘুরে নিজ গন্তব্য ফিরে যেতে পারবেন পর্যটকরা।’

কাপ্তাইয়ে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারী আটক

ঈদের আনন্দে বান্দরবানে চতুর্থ দিনে পর্যটকের ভিড়।

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি :

কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাপ্তাই থেকে একটি সিএনজি চোলাই মদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান অভিমুখে রওনা দেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪১ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইটে ওই সিএনজিটিতে তল্লাশি চালায়। এসময় সিএনজিতে থাকা ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে বিজিবি।

বিজিবির প্রেস নোটে জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের কাপ্তাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূলে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​ছবি ক্যাপসন – উদ্ধারকৃত চোলাই মদ ও আটক ৪ পাচারকারী

নারীকে সামনে রেখে আলীকম প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা, নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা

ঈদের আনন্দে বান্দরবানে চতুর্থ দিনে পর্যটকের ভিড়।

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মমতাজ উদ্দিন আহমদ গংদের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রেস ক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা,মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

‎তথ্য সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ ২৭ বছর পর গণতান্ত্রিক নিয়মে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যরা মিলে আলীকদম প্রেসক্লাবে প্রবেশ করার সময় মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ তার ভাইদের নেতৃীত্বে একদল নারী ও তাদের পরিবারের লোকজন হঠাৎ করে আলীকদম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য,নির্বাচিত উপর ব্যাপক হারে হামলা-মারধর করা হয়েছে এবং সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। আলীকদম প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সদস্যরা আশার পর কিছু পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আবারও যে কোন সময় বড় ধরণের রক্তক্ষয়ি-সংঘাত হওয়ার সম্ববনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

‎নির্বাচিত কমিটির সভাপতি এসএম জিয়াউদ্দিন জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক আবু জুয়েল নুরখান অভিযোগ করে বলেন,একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিত ভাবে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রেস ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

‎স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে,ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়াতে নারী শিশু নির্যাতন দমন অপহরণ মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও গ্রেপ্তারে ধীরগতি

ঈদের আনন্দে বান্দরবানে চতুর্থ দিনে পর্যটকের ভিড়।

 

বিশেষ প্রতিবেদক, রাঙামাটি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলায় বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন ডাকবাংলা পাড়া নিবাসী কেপ্রু মারমার কনিষ্ঠ মেয়ে নাবালিকা খ্যাইনুউ মারমা (১৫) সে কুন্ডেশরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে অধ্যয়রনত ছিল। রাউজান এলাকা থেকে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ সালের এক মারমা নাবালিকা ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর প্রথমে রাউজান থানায় ভিকটিমের অভিভাবক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নং- ১১৫৫ ও ২১ এপ্রিল। এবং ২৪ এপ্রিল আদালতে গিয়ে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রাম-০৩ আদালতে নারী শিশু নির্যাতন মামলা নং- ৩৫/২০২৬, রাউজান নির্যাতিতার অভিভাবক আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। যার নারী ও শিশু দমন আইন ২০০০ সংশোধনী ২০০৩ (ধারা ৭/৩০) হলেও প্রধান আসামিসহ অন্যান্য অপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ উঠেছে।

ভিকটিমের নামঃ খ্যাইনুউ মারমা (১৫) পিতাঃ কেপ্রু মারমা মাতাঃ নুম্রাসিং মারমা, সাং ডাকবাংলা পাড়া চন্দ্রঘোনা, থানা- রাজস্থলী,  রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। সরকারী নিয়মে কোন নারী ১৮ বছরের নিচে বিয়ের নামে অবৈধ বাল্যবিবাহ, অসামাজিক কার্যকলাপ, বিয়ে করা ও সংসার নামে একসঙ্গে বসবাস করা আইনের লঙ্ঘন ও পরিপন্থী। আসামীঃ ১. মোঃ আরজ তালুকদার, পিতা- মৃতঃ আব্দুল মফেজ তালুকদার, বাসিন্দাঃ ডাকবাংলা মধ্য পাড়া, বাঙ্গালহালিয়া চন্দ্রঘোনা, থানা- রাজস্থলী, রাঙ্গামাটি।

সূত্রে জানা যায়, ১নং আসামি তার বিশাল দালান কোঠা তিন তলা বিশিষ্ট বাড়ি অবস্থিত উত্তর সুখবিলাস পাড়া পদুয়া ইউনিয়ন চট্রগ্রাম। আসামি নং-২, মোঃ আলাউদ্দিন পিতাঃ আলী আহম্মদ সাকিনঃ সুখবিলাস, ফলহারিয়া পাড়া পোস্টঃ পদুয়া থানাঃ রাঙ্গুনিয়া উপজেলাঃ রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম। মূলহোতা আসামীসহ সহযোগিতায় আসামীরা ধরা ছোঁয়া বাইরে স্বাভাবিক প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছেন।

স্থানীয়রা এ প্রতিবেদককে জানান, আসামিরা এখনও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ১ম আসামি পূর্বেও একাধিক পাহাড়ি নারী ও বাঙালি নারীদের সাথে বিয়ে নামে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। ১নং আসামি পূর্বের জন্ম স্থান সাং- নাপিত পুকুরিয়া গ্রাম দক্ষিণ পদুয়া ইউনিয়ন রাঙ্গুনিয়া থানা/ উপজেলা জেলা : চট্টগ্রাম।

স্থানীয়রা জানান, নারী কেলেংকারীর মাধ্যমে এলাকায় পরিস্থিতি অশান্তি সৃষ্টি করতে সে  টাকা অর্থ প্রলোভনের মাধ্যমে নারীদের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যায় অনুসন্ধানে রিপোর্টে। আসামিরা এলাকায় দাপটের প্রভাব খাটিয়ে ভিকটিম পরিবারকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।

ভিকটিমের মেয়ে, অভিভাবক চাচিসহ গণমাধ্যমকে জানান, সুস্থ বিচার, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্তৃক অপরাধীকে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইবুন্যাল আদালতে মামলার আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারসহ বিচারের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন ভিকটিম অভিভাবক ও নির্যাতিত নারী।

×