| ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

গৌতম বুদ্ধের একটি গভীর জীবনঘনিষ্ঠ বাণী হলো—

“সে আমাকে গালি দিয়েছে, প্রহার করেছে,পরাস্ত করেছে বা লুণ্ঠন করেছে—যারা মনে এমন চিন্তা পোষণ করে, তাদের হিংসা ও বৈরিতা কখনো শেষ হয় না।”

এই বাণী শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয়, বরং মানবমনের এক চিরন্তন সত্যের প্রকাশ। মানুষের জীবনে অপমান, অবিচার, কষ্ট কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলোকে যদি আমরা ক্রমাগত হৃদয়ে ধারণ করি, তাহলে ক্ষত শুকায় না; বরং আরও গভীর হয়। তখন অন্যের প্রতি ঘৃণা জন্মায়, আর সেই ঘৃণা শেষ পর্যন্ত নিজের মনকেই বিষাক্ত করে তোলে।

গৌতম বুদ্ধ উপলব্ধি করেছিলেন, প্রতিশোধ কখনো শান্তি এনে দেয় না। কারণ প্রতিশোধের আগুনে প্রথমে পুড়ে যায় প্রতিশোধপরায়ণ ব্যক্তির নিজের হৃদয়। যে মানুষ সারাক্ষণ অন্যের অন্যায় স্মরণ করে, সে নিজের সুখ, প্রশান্তি ও মানসিক স্বাধীনতাকেও বন্দী করে রাখে। তাই তিনি শিক্ষা দিয়েছেন—মুক্তি অন্যকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে নয়, বরং নিজের অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করার মধ্যে।

বৌদ্ধ দর্শনে ‘মৈত্রী’ ও ‘করুণা’ মানবজীবনের সর্বোচ্চ গুণগুলোর অন্যতম। মৈত্রী শেখায় সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করতে, আর করুণা শেখায় অন্যের কষ্ট অনুভব করতে। এই দুই গুণের চর্চা মানুষকে প্রতিহিংসার পথ থেকে দূরে সরিয়ে শান্তির পথে পরিচালিত করে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শিক্ষা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ধারায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ইসলাম ক্ষমা ও সংযমকে মহৎ গুণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। খ্রিস্টধর্ম ভালোবাসা ও ক্ষমার আদর্শ তুলে ধরেছে। হিন্দুধর্ম অহিংসা ও সহনশীলতাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায়।

তবে ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা এবং নিজের অধিকার রক্ষা করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই সংগ্রাম যদি ঘৃণা ও প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে তা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। আর যদি ন্যায়, বিবেক ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে তা সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ ধর্ম, জাতি, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে একে অপরের প্রতি ক্রমশ বৈরী হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত সর্বত্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষের ছাপ স্পষ্ট। এমন সময়ে গৌতম বুদ্ধের এই বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ঘৃণাকে ঘৃণার মাধ্যমে জয় করা যায় না; ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমাই তার একমাত্র প্রতিষেধক।

মানুষের প্রকৃত বিজয় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মধ্যে নয়; বরং নিজের ক্রোধ, অহংকার ও প্রতিহিংসাকে জয় করার মধ্যে। যে হৃদয় ক্ষমা করতে পারে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত অর্থে মুক্ত। আর যে সমাজ ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতাকে ধারণ করে, সেই সমাজেই শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

তাই আসুন, অতীতের ক্ষতকে আঁকড়ে না ধরে ক্ষমার আলোয় নিজেদের আলোকিত করি। কারণ হিংসা ও বৈরিতার পথ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, আর ক্ষমা ও মমতার পথই মানুষের সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তির পথ।

লেখক – সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
গণমাধ্যম ও সমাজ কর্মী
আলীকদম।

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়াতে হেফাজত ইসলাম উদ্যোগে হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বী ঋষি আশ্রমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রম থেকে অপহৃত ও ধর্মান্তরিত এক তরুণী উদ্ধারের ঘটনায় রাজস্থলী উপজেলা বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে রাজস্থলী উপজেলার হেফাজত ইসলাম ও সর্বস্থরের জনসাধারণ । তরুণীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদগুলো করা হয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ আজ শনিবার সকাল ১১ টায় বাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত হয়। অনুষ্টিত সমাবেশে হেফাজত ইসলামের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস নদভী চার দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, চার দিনের ভিতরে বাঙ্গালহালিয়াতে সনাতন ধর্মালম্বী ঋষি আশ্রমের মদদদাতা সন্ত্রাসী ও ইসলাম বিরোধী শ্রীমৎ সনাতন ঋষি মহারাজ কে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেন হেফাজত ইসলাম।

দীর্ঘ দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর চন্দ্রঘোনা থানাধীন রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকার ঋষি আশ্রম থেকে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ধর্মান্তরিত হওয়ার পরও তরুণীকে প্রায় দুই মাস যাবৎ ঋষি আশ্রমে আটকে রাখা এবং বিভিন্ন হেনস্তার অভিযোগ তুলে রাজস্থলী উপজেলা হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল বিভিন্ন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অংশগ্রহণ করেন।

কাপ্তাইয়ে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারী আটক

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি :

কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাপ্তাই থেকে একটি সিএনজি চোলাই মদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান অভিমুখে রওনা দেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪১ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইটে ওই সিএনজিটিতে তল্লাশি চালায়। এসময় সিএনজিতে থাকা ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে বিজিবি।

বিজিবির প্রেস নোটে জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের কাপ্তাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূলে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​ছবি ক্যাপসন – উদ্ধারকৃত চোলাই মদ ও আটক ৪ পাচারকারী

নারীকে সামনে রেখে আলীকম প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা, নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মমতাজ উদ্দিন আহমদ গংদের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রেস ক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা,মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

‎তথ্য সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ ২৭ বছর পর গণতান্ত্রিক নিয়মে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যরা মিলে আলীকদম প্রেসক্লাবে প্রবেশ করার সময় মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ তার ভাইদের নেতৃীত্বে একদল নারী ও তাদের পরিবারের লোকজন হঠাৎ করে আলীকদম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য,নির্বাচিত উপর ব্যাপক হারে হামলা-মারধর করা হয়েছে এবং সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। আলীকদম প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সদস্যরা আশার পর কিছু পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আবারও যে কোন সময় বড় ধরণের রক্তক্ষয়ি-সংঘাত হওয়ার সম্ববনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

‎নির্বাচিত কমিটির সভাপতি এসএম জিয়াউদ্দিন জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক আবু জুয়েল নুরখান অভিযোগ করে বলেন,একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিত ভাবে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রেস ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

‎স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে,ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

×