| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

গৌতম বুদ্ধের একটি গভীর জীবনঘনিষ্ঠ বাণী হলো—

“সে আমাকে গালি দিয়েছে, প্রহার করেছে,পরাস্ত করেছে বা লুণ্ঠন করেছে—যারা মনে এমন চিন্তা পোষণ করে, তাদের হিংসা ও বৈরিতা কখনো শেষ হয় না।”

এই বাণী শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয়, বরং মানবমনের এক চিরন্তন সত্যের প্রকাশ। মানুষের জীবনে অপমান, অবিচার, কষ্ট কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলোকে যদি আমরা ক্রমাগত হৃদয়ে ধারণ করি, তাহলে ক্ষত শুকায় না; বরং আরও গভীর হয়। তখন অন্যের প্রতি ঘৃণা জন্মায়, আর সেই ঘৃণা শেষ পর্যন্ত নিজের মনকেই বিষাক্ত করে তোলে।

গৌতম বুদ্ধ উপলব্ধি করেছিলেন, প্রতিশোধ কখনো শান্তি এনে দেয় না। কারণ প্রতিশোধের আগুনে প্রথমে পুড়ে যায় প্রতিশোধপরায়ণ ব্যক্তির নিজের হৃদয়। যে মানুষ সারাক্ষণ অন্যের অন্যায় স্মরণ করে, সে নিজের সুখ, প্রশান্তি ও মানসিক স্বাধীনতাকেও বন্দী করে রাখে। তাই তিনি শিক্ষা দিয়েছেন—মুক্তি অন্যকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে নয়, বরং নিজের অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করার মধ্যে।

বৌদ্ধ দর্শনে ‘মৈত্রী’ ও ‘করুণা’ মানবজীবনের সর্বোচ্চ গুণগুলোর অন্যতম। মৈত্রী শেখায় সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করতে, আর করুণা শেখায় অন্যের কষ্ট অনুভব করতে। এই দুই গুণের চর্চা মানুষকে প্রতিহিংসার পথ থেকে দূরে সরিয়ে শান্তির পথে পরিচালিত করে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শিক্ষা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ধারায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ইসলাম ক্ষমা ও সংযমকে মহৎ গুণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। খ্রিস্টধর্ম ভালোবাসা ও ক্ষমার আদর্শ তুলে ধরেছে। হিন্দুধর্ম অহিংসা ও সহনশীলতাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায়।

তবে ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা এবং নিজের অধিকার রক্ষা করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই সংগ্রাম যদি ঘৃণা ও প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে তা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। আর যদি ন্যায়, বিবেক ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে তা সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ ধর্ম, জাতি, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে একে অপরের প্রতি ক্রমশ বৈরী হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত সর্বত্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষের ছাপ স্পষ্ট। এমন সময়ে গৌতম বুদ্ধের এই বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ঘৃণাকে ঘৃণার মাধ্যমে জয় করা যায় না; ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমাই তার একমাত্র প্রতিষেধক।

মানুষের প্রকৃত বিজয় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মধ্যে নয়; বরং নিজের ক্রোধ, অহংকার ও প্রতিহিংসাকে জয় করার মধ্যে। যে হৃদয় ক্ষমা করতে পারে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত অর্থে মুক্ত। আর যে সমাজ ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতাকে ধারণ করে, সেই সমাজেই শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

তাই আসুন, অতীতের ক্ষতকে আঁকড়ে না ধরে ক্ষমার আলোয় নিজেদের আলোকিত করি। কারণ হিংসা ও বৈরিতার পথ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, আর ক্ষমা ও মমতার পথই মানুষের সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তির পথ।

লেখক – সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
গণমাধ্যম ও সমাজ কর্মী
আলীকদম।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের ; কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল রেখেই সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

“চূড়ান্ত জরুরি সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তি”

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা অফিস :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল রেখেই সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বাতিলকরণ করে নতুনভাবে পুর্নগঠনের লক্ষ্য কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি তাৎক্ষণিক এই সিদ্ধান্তে গৃহিত হয়। নিম্নে বিস্তারিত ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর বর্ণনা দেয়া হলো –

বিষয়: ২৩ মে ২০২৫ তারিখের কাউন্সিল-পরবর্তী সকল কমিটি বাতিল, পূর্বের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল, সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন প্রসঙ্গে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের সকল নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সদস্য, কর্মী, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, বৈধতা, ধারাবাহিকতা, ঐক্য ও কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে নিম্নোক্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করা হলো।

১। ২৩ মে ২০২৫-এর কাউন্সিল-পরবর্তী সকল কমিটি বাতিল।

গত ২৩ মে ২০২৫ (শুক্রবার) বান্দরবান সদরস্থ নবোদয় সংঘের হলরুমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা ও কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং উক্ত কমিটির অধীনে পরবর্তীতে গঠিত সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কমিটি ও উপ-কমিটি অদ্য তারিখ থেকে বাতিল, বিলুপ্ত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হলো।

উক্ত কমিটিসমূহের কোনো সদস্য, পদধারী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি অদ্য থেকে উক্ত কমিটির পদ-পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা বা প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

২। পূর্বের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল।

সংগঠনের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের স্বার্থে পূর্বে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল থাকবে।

পরবর্তী লিখিত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিই সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সমন্বয়, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

৩। পূর্ববর্তী সকল পদ-পদবি ও সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার বন্ধ

অদ্য থেকে বাতিল বা বিলুপ্ত ঘোষিত কোনো কমিটির—

– আহ্বায়ক
– সদস্য সচিব
– সভাপতি
– সাধারণ সম্পাদক
– সাংগঠনিক সম্পাদক
– সদস্য
– উপদেষ্টা
– সমন্বয়ক
– প্রতিনিধি

অথবা অন্য কোনো পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচার, ঘোষণা বা প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, আমন্ত্রণপত্র, চিঠিপত্র বা অন্য কোনো প্রচারমাধ্যমে বাতিল কমিটির পদ-পদবি ব্যবহার করে সংগঠনের বর্তমান দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচয় প্রদানও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ছাড়া গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪। অনুমোদনবিহীন কার্যক্রমের সাংগঠনিক স্বীকৃতি থাকবে না।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পূর্বানুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী—

ক. সভা, বৈঠক বা মতবিনিময় সভা আহ্বান
খ. সমাবেশ, মিছিল বা কর্মসূচি ঘোষণা
গ. নতুন কমিটি গঠন বা ঘোষণা
ঘ. কোনো ব্যক্তিকে পদায়ন বা দায়িত্ব প্রদান
ঙ. সাংগঠনিক প্রতিনিধি মনোনয়ন;
চ. সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রচার
ছ. সংগঠনের নামে চিঠি, বিবৃতি, বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ প্রকাশ
জ. সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহ বা আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা
ঝ. কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ
ঞ. সংগঠনের নাম, লোগো, প্যাড, সিল বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের অনুমোদিত সাংগঠনিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে না।

৫। নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের কর্তৃত্ব।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন ও পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনক্রমে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক গঠিত কোনো কমিটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের অনুমোদিত সাংগঠনিক কমিটি হিসেবে স্বীকৃত হবে না।

৬। সাংগঠনিক সমন্বয়ের দায়িত্ব।

সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কার্যকর, গতিশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব প্রকৌশলী দিপু বড়ুয়াকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

তিনি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও অনুমোদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সদস্য ও কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তবে কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হতে পারবে না।

৭। সাংগঠনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সমন্বয়।

এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর সংগঠনের সাংগঠনিক যোগাযোগ, নতুন কমিটি গঠন, দায়িত্ব বণ্টন, কর্মসূচি গ্রহণ, সাংগঠনিক প্রতিনিধি মনোনয়ন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদিত সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও কর্মীরা সাংগঠনিক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্বে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবেন।

সাংগঠনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, পৃথক কমিটি বা সমান্তরাল সাংগঠনিক কাঠামো সৃষ্টি থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

৮। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সতর্কীকরণ।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও অনুমোদন অমান্য করে কেউ সংগঠনের নাম, পদ-পদবি, লোগো, প্যাড, সিল, পরিচয় বা সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা ব্যক্তিগত দায় ও দায়িত্বে সংঘটিত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কোনো সাংগঠনিক অনুমোদন বা দায় থাকবে না।

প্রয়োজনে সংগঠনের সাংগঠনিক স্বার্থ, নাম, পরিচয় ও সম্পদ সুরক্ষার জন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি সংরক্ষণ করে।

৯। বিভ্রান্তিকর প্রচার ও সাংগঠনিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিষিদ্ধ।

কেউ যদি বাতিল কমিটির পদ-পদবি ব্যবহার করে নিজেকে সংগঠনের বর্তমান দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন, সংগঠনের নামে বক্তব্য প্রদান করেন, কমিটি ঘোষণা করেন অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন, তাহলে তা সংগঠনের অনুমোদিত বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সকল নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও কর্মীদের প্রতি অনুরোধ করা হচ্ছে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হয়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করুন।

১০। চূড়ান্ত সাংগঠনিক নির্দেশনা।

এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর পূর্ববর্তী সাংগঠনিক কাঠামো ও পদ-পদবি সংক্রান্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ব্যতীত পূর্বে গঠিত সকল কমিটি বাতিল ও অকার্যকর হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন কমিটি গঠন, পদায়ন, সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনক্রমে সম্পন্ন হবে।

পরবর্তী কোনো বিজ্ঞপ্তি বা লিখিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনাসমূহ কার্যকর থাকবে।

১১। সকলের প্রতি আহ্বান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের সকল নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সদস্য ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে যে, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য, বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ পরিহার করে সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক আনুগত্য বজায় রাখুন।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

এই বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জারি করা হলো এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আদেশক্রমে বাবু লুসাই মং প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।

বার্তা প্রেরক

প্রকৌশলী নিউটন চাকমা
যুগ্ম আহবায়ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্ট
কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।

সাজেকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সংবর্ধনা

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অমর আলি, ৩৬নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ সাজেক ইউনিয়নের বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে সাজেকসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

প্রধান অতিথি বক্তব্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাজেকসহ পুরো জেলার উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাহাড়ের মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

লংগদু প্রতিনিধি :

রাংগামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার আগামী ২ বছর মেয়াদী দায়িত্বশীল নির্বাচনের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মূল ভিত্তি হলো ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তাআলাকে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক মেনে শাসননীতি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য ‘শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই’ এই নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্বে উপস্থিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী মেয়াদের জন্য পুনরায় হাফেজ আব্দুল মতিন-কে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আলী-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়

×