| ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

তীব্র খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের মধ্যে পানির অভাবে ৩টি ইউনিটই বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ​

মঙ্গলবার (৯ জুন) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত পানির অভাব, যার কারণে ইউনিটগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

​কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানায় যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২নং ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ​সব মিলিয়ে মোট উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট, যেখানে কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। এমনকি সবকটি ইউনিট পূর্ণ শক্তিতে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

কন্ট্রোল রুমের সূত্র আরও জানা যায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই লেকে স্বাভাবিকভাবে ৭৮.০৮ মিন সী লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে পানির স্তর নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৩.৯৯ এমএসএলে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। তবে পানির স্তর যদি কমতে কমতে ৬৮ এমএসএলে নেমে যায়, তবে তাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পানি ৬৮ এমএসএলে পৌঁছালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ​

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সহসা ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকের পানির স্তর বাড়বে এবং তার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। ​কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং লেকের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। ​বিশেষ করে রাঙ্গামাটি দূরবর্তী পাঁচ উপজেলা— বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু এবং বাঘাইছড়ির সাথে নৌপথের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও চরের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

রাজস্থলী বাঙ্গালহালিয়াতে হেফাজত ইসলাম উদ্যোগে হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বী ঋষি আশ্রমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

বিশেষ প্রতিবেদক:

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রম থেকে অপহৃত ও ধর্মান্তরিত এক তরুণী উদ্ধারের ঘটনায় রাজস্থলী উপজেলা বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে রাজস্থলী উপজেলার হেফাজত ইসলাম ও সর্বস্থরের জনসাধারণ । তরুণীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই প্রতিবাদগুলো করা হয়।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রতিবাদে সমাবেশ আজ শনিবার সকাল ১১ টায় বাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্টিত হয়। অনুষ্টিত সমাবেশে হেফাজত ইসলামের যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস নদভী চার দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, চার দিনের ভিতরে বাঙ্গালহালিয়াতে সনাতন ধর্মালম্বী ঋষি আশ্রমের মদদদাতা সন্ত্রাসী ও ইসলাম বিরোধী শ্রীমৎ সনাতন ঋষি মহারাজ কে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেন হেফাজত ইসলাম।

দীর্ঘ দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর চন্দ্রঘোনা থানাধীন রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকার ঋষি আশ্রম থেকে পুলিশ তরুণীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ধর্মান্তরিত হওয়ার পরও তরুণীকে প্রায় দুই মাস যাবৎ ঋষি আশ্রমে আটকে রাখা এবং বিভিন্ন হেনস্তার অভিযোগ তুলে রাজস্থলী উপজেলা হেফাজত ইসলামের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল বিভিন্ন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অংশগ্রহণ করেন।

কাপ্তাইয়ে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারী আটক

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি :

কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাপ্তাই থেকে একটি সিএনজি চোলাই মদ নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান অভিমুখে রওনা দেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪১ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর গেইটে ওই সিএনজিটিতে তল্লাশি চালায়। এসময় সিএনজিতে থাকা ১৬ লিটার চোলাই মদসহ ৪ পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করে বিজিবি।

বিজিবির প্রেস নোটে জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের কাপ্তাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদক নির্মূলে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​ছবি ক্যাপসন – উদ্ধারকৃত চোলাই মদ ও আটক ৪ পাচারকারী

নারীকে সামনে রেখে আলীকম প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা, নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদমে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মমতাজ উদ্দিন আহমদ গংদের বিরুদ্ধে। এ সময় প্রেস ক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা,মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

‎তথ্য সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ ২৭ বছর পর গণতান্ত্রিক নিয়মে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্যরা মিলে আলীকদম প্রেসক্লাবে প্রবেশ করার সময় মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ তার ভাইদের নেতৃীত্বে একদল নারী ও তাদের পরিবারের লোকজন হঠাৎ করে আলীকদম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় প্রেস ক্লাবের নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন সদস্য হামলার শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।

‎প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য,নির্বাচিত উপর ব্যাপক হারে হামলা-মারধর করা হয়েছে এবং সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। আলীকদম প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সদস্যরা আশার পর কিছু পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আবারও যে কোন সময় বড় ধরণের রক্তক্ষয়ি-সংঘাত হওয়ার সম্ববনা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

‎নির্বাচিত কমিটির সভাপতি এসএম জিয়াউদ্দিন জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক আবু জুয়েল নুরখান অভিযোগ করে বলেন,একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিত ভাবে নারীকে সামনে রেখে প্রেস ক্লাব দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রেস ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

‎স্থানীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে,ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে প্রেস ক্লাবকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

×