শিরোনাম:

আলীকদমে কারিতাসের উদ্যোগে গৃহপালিত পশুর রোগ প্রতিরোধে (টিকা) ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন

আলীকদমে কারিতাসের উদ্যোগে গৃহপালিত পশুর রোগ প্রতিরোধে (টিকা) ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

‎বান্দরবানের আলীকদমে কারিতাস বাংলাদেশ এর প্রমোশন অফ এগ্রো-ইকোলজি প্র্যাকটিসেস ইন দি সিএইচটি (পিএইপি-৩) এ প্রকল্পের আওতায় সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় গৃহপালিত পশুররােগ প্রতিরােধের (টিকা) ভ্যাকসিন ক্যাম্প অনুষ্ঠত হয়েছে।

‎বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকালে আলীকদম সদর ইউনিয়নের ইউনুস মেম্বার পাড়া এলাকায় ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় সুবেদ আলী পাড়া, চন্দ্রমোহন পাড়াও ইউনুস মেম্বার (০৩) পাড়ায় গরু ২১৭টি গলাফুলা, ছাগল ২১১টি পিপিআর, মুরগি ৩৪৬টি রাণীক্ষেত টিকা প্রদান করেন প্রমোশন অফ এগ্রো-ইকোলজি প্র্যাকটিসেস ইন দি সিএইচটি (পিএইপি-৩) প্রকল্পের আওতায় এ সেবা প্রদান করা হয়।

‎কারিতাসের পিএইপি প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জেসমিন চাকমা জানান, হাঁস মুরগিদের ডাকপ্লেগ, রানিক্ষেত, গরু- ছাগলের পিপিআর, নানা রােগের ভূগতে হয় এবং চিকিৎসা অভাবে মারা যায়।

প্রমোশন অফ এগ্রো-ইকোলজি প্র্যাকটিসেস ইন দি সিএইচটি (পিএইপি-৩) এ প্রকল্পের আওতায় ২৭টি পাড়ায় গরু ৩,২০০টি,ছাগল ৫,৫০০টি, মুরগি ৮,৩০০টি ও হাঁস ৭৫০টি কে টিকা দেওয়া হবে। এলাকার প্রান্তিক ও গ্রামীণ অবহেলিত জনগােষ্ঠি স্বাবলম্বি করে তোলার লক্ষে গৃহপালিত হাঁস মুরগি, ছাগল পালন করার ইতিমধ্যে বিতরণ করেছি। বিতরণকৃত গৃহপালিত প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা দায়িত্ব কর্তব্য ভেবে প্রকল্পের আওতায় উপকার ভােগী ও অউপকারভাগী পরিবারের মাঝেও পালিত গবাদিপশুকে রোগ প্রতিরােধে টিকা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন করেছি। নতুন উদ্যোক্তাদের ছোট ছোট খামার করে পরিবারে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ও রোগ প্রতিরোধ করতে টিকা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন ।

‎প্রানী সম্পদ কার্যালয়ের উপ- সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা থোয়াইনু অং মার্মা বলেন, হাঁস ডাকপ্লেগ, মুরগিদের রানিক্ষেত গরু গলাফুলা, ছাগলের পিপিআর রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা দেয়ার আগে প্রাণীটি সুস্থ কিনা তা নিশ্চিত করার জরুরী, কারণ টিকার সময় ও ধরন এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। প্রাণীদের টিকা দিলে রােগের ঝুঁকি কমে, প্রাণীর স্বাস্থ্য ভালাে থাকে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই নিয়মিত টিকা দেয়া অত্যন্ত জরুরি।

‎ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারিতাসের মাঠ সহায়ক মোঃ সামশুল হক, মাঠ সহায়ক সুকান্ত কুমার তঞ্চঙ্গ্যাঁ, মাঠ সহায়ক মোঃ রবিউল ইসলাম সোহেল, প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা থোয়াইনু অং মার্মাসহ কারিতাসের উপকার ভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

আলীকদমে কারিতাসের উদ্যোগে গৃহপালিত পশুর রোগ প্রতিরোধে (টিকা) ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

আলীকদমে কারিতাসের উদ্যোগে গৃহপালিত পশুর রোগ প্রতিরোধে (টিকা) ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

আলীকদমে কারিতাসের উদ্যোগে গৃহপালিত পশুর রোগ প্রতিরোধে (টিকা) ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×