শিরোনাম:

জমকালো আয়োজনে কাপ্তাইয়ে ‘সুরের ধারা পরিবার’ এর অভিষেক ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

জমকালো আয়োজনে কাপ্তাইয়ে ‘সুরের ধারা পরিবার’ এর অভিষেক ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​‘সঙ্গীত হোক আমাদের জীবনের অনুপ্রেরণা’—এই স্লোগানকে ধারণ করে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে আত্মপ্রকাশ করল নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুরের ধারা পরিবার’।  শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির অভিষেক অনুষ্ঠান, গুণীজন সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। ​

প্রদীপ মল্লিকের সভাপতিত্বে এবং নুর মোহাম্মদ বাবুর সঞ্চালনায় কাপ্তাইয়ের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ দিলদার হোসেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং। ​​

উদ্বোধক ডা. প্রবীর খিয়াং বলেন, “সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা সমাজের মনন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক। পাহাড়ি অঞ্চলের তরুণদের সৃষ্টিশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে সুরের ধারা পরিবারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।” ​প্রধান অতিথি মোঃ দিলদার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “কাপ্তাইয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ করতে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। স্থানীয় শিল্পীদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী তৈরিতে এই সংগঠনটি বড় ভূমিকা রাখবে।” ​কাপ্তাইয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন, কাপ্তাই শিল্পকলা পরিষদ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম হেলাল, কাপ্তাই শিল্পকলা একাডেমি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বিশিষ্ট যাত্রাশিল্পী ও নির্দেশক) আপ্রুসী মারমা কারবারি, (নাট্য ব্যক্তিত্ব ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা) অমল বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা।

সুরের ধারা পরিবারের সদস্য সচিব অর্ণব মল্লিক জানান, কাপ্তাইয়ে নতুন ও সম্ভাবনাময় শিল্পী সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে তাদের এই পথচলা শুরু হলো। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। ​

অনুষ্ঠানের শেষাংশে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

জমকালো আয়োজনে কাপ্তাইয়ে ‘সুরের ধারা পরিবার’ এর অভিষেক ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

জমকালো আয়োজনে কাপ্তাইয়ে ‘সুরের ধারা পরিবার’ এর অভিষেক ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

জমকালো আয়োজনে কাপ্তাইয়ে ‘সুরের ধারা পরিবার’ এর অভিষেক ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×