শিরোনাম:

​কাপ্তাই সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ৪ ; একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

​কাপ্তাই সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ৪ ; একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের ওয়াগ্গা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ৪১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রধান ফটক সংলগ্ন মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ​

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা উপজেলা সদর বরইছড়ি থেকে কাপ্তাইয়ের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল কাপ্তাই থেকে লিচুবাগানের দিকে যাওয়ার সময় বিজিবি ক্যাম্পের সামনের মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে দুটি যানই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ​দুর্ঘটনায় উভয় যানের চালক ও যাত্রীসহ মোট ৪ জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন, সিএনজি চালক মো. সায়মুন (২০), মোটরসাইকেল চালক শাহিন আলম (২৭), সিএনজির যাত্রী মো. জিদান (২০),  মোটর সাইকেলের যাত্রী মো. রানা (১৭) আহত হয়। ​আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ওমর ফারুক রনি জানান, মোটরসাইকেল চালক শাহিন আলমের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

​ছবির ক্যাপশন: সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি ও মোটরসাইকেল।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বাঘাইছড়িতে আলোচনা সভা

​কাপ্তাই সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ৪ ; একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎“সচেতন যুব সমাজ”-এর আয়োজনে রবিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় কাচালং বাজার এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা তুলে ধরে যুবসমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

‎এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, বাঘাইছড়ি থানা-র এসআই মো. রাকিবুল হাসান ও এসআই রিয়াজুল ইসলাম রানা। এছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন যুব সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‎বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আয়োজকরা।

খাগড়াছড়িতে নিখোঁজ বাঘাইছড়ির শাহাদাত হোসেন রাতুল

​কাপ্তাই সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ৪ ; একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎খাগড়াছড়িতে কর্মরত রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক গ্রামের যুবক শাহাদাত হোসেন রাতুল (২২) গতকাল রাত আনুমানিক ৯টার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাননি। ‎

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ তাকে খাগড়াছড়ির “আল্লাহর দান হোটেল” এর পাশে এস এ পরিবহন সংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন কিংবা কর্মস্থলের কারো সাথেও তার কোনো যোগাযোগ নেই। ‎নিখোঁজ রাতুল খাগড়াছড়িতে আরএফএল গ্রুপ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত পরশু তিনি বাড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং গতকাল দুপুর ৩টার দিকে বাবার সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলেন। ‎ ‎

এবিষয়ে খাগড়াছড়ি আরএফএল গ্রুপের জোনাল ম্যানেজার মোঃ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,“রাতুল গত পরশু মারিশ্যা এলাকায় রোড ডিউটিতে ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় অফিসে আসার কথা থাকলেও সে আসেনি। আজ সকালে তার মহালছড়িতে রোড ডিউটি ছিল। সকালের গ্রুপ মিটিংয়েও সে উপস্থিত ছিল না। গ্রুপে মেসেজ দেওয়া হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বাবা জানান, রাতুল গতকালই বাড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছে”। ‎ ‎নিখোঁজ যুবকের পিতার নাম জিয়াউর হক জিয়া। তাদের বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক গ্রামে। ‎

পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যদি কেউ শাহাদাত হোসেন রাতুলের সন্ধান পেয়ে থাকেন বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তাহলে দ্রুত নিচের নাম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে— 01882590756 / 01635193243

বর্ণিল আয়োজনে নন্দপাল ভান্তের ৭৪তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

​কাপ্তাই সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে আহত ৪ ; একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

দীঘিনালায় বর্ণিল আয়োজনে ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু পরম পুজ্য সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান ভারত বাংলা ধর্ম প্রচারক শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার ৯ মে ২০২৬ প্রথম দিনে দিনব্যাপি অনুষ্টানে বিকেলে দিঘীনালা বন বিহার থেকে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের করে দিঘীনালা বাবুছড়া মেইন সড়ক প্রদক্ষিন করে বিহারে এসে সমাপ্তি ঘটে। এর পর শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তের উপস্তিতে ৮৪ হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

রবিবার ১০ মে দ্বিতীয় দিনে ভোর সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তের ৭৪তম জম্মদিন উপলক্ষে পরম পুজনীয় নন্দপাল ভান্তের কেক কেটে শুভ উদ্বোধন করেন।

এর পর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ভিক্ষু সংঘকে মঞ্চে নিয়ে উদ্বোধনী সংগীতের মধ্যদিয়ে ধর্মীয় আনুষ্টানিকতা শুরু হয়।

অনুষ্টানে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, মহা সংঘ দানসহ নানা ধানের যোগ্য আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রদান ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন দিঘীনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তের বিমুক্তিপুর ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ প্রিয়া নন্দ মহাস্থবির ভান্তে, দেব ডাম্মা মহাথের ধুতাঙ্গটিলা বন বিহার, বুদ্ধ বংশ মহাস্থবির ভান্তে দিঘীনালা সাধনাটিলা বন বিহার, এছাড়াও বিভিন্ন শাখা বন বিহার থেকে ৮৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা ও বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমাসহ ভিবিন্ন পেশা শ্রেনীর সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা বলেন, ভদন্ত নন্দপাল ভান্তে দীর্ঘদিন ধরে মানবকল্যাণ, নৈতিক শিক্ষা ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর আদর্শ তরুণ সমাজকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে অনুপ্রাণিত করছে।

অনুষ্ঠানে আগত ভক্তরা বলেন, এমন আয়োজন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী উদযাপন হওয়ায় এলাকায় আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়।

শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

×