| ২৩ মে ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রামে ধর্ষণ অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া ; গভীর রাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও

চট্টগ্রামে ধর্ষণ অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া ; গভীর রাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষন ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সারাদেশ যখন উত্তাল, ঠিক সেই মুহুর্তে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ২১ মে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিক্ষুব্ধ জনতা চলমান রাষ্ট্রিয় বিচার ব্যবস্থার প্রতি ক্ষূদ্ধ মনোভাব প্রকাশ করে অভিযুক্ত যুবককে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

রাত ১০ঃটার সময় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে বাকলিয়া থানায় নেওয়া হয়।

শিশু ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা ও পুলিশের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে)২৬ খ্রিঃ রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এ সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২৩ জন আহত হন।
পরিস্থিতি এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা রাতে জড়ো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জনতা ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই সাংবাদিকসহ তিনজন আহত হন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকার চার বছরের এক শিশু বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত শিশুর শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেল পাঁচটার দিকে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি তাঁদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামে একটি ভবন ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে ভবনের কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলারও চেষ্টা চালানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের পথরোধ করে তাঁকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।

বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বলতে শোনা যায়, “বাংলাদেশে বিচার নেই। ধর্ষককে আমাদের হাতে তুলে দেন, আমরা মেরে ফেলব। বিচার আমরাই করবো।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহ ও লাইভ সম্প্রচারের সময় আহত হন দুই সাংবাদিক।

আহতরা হলেন, মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান।
জানা গেছে, নোবেল হাসানের হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। মামুন আবদুল্লাহর কোমর ও পায়ে আঘাত লাগে। আহত দুই সাংবাদিককে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়।

এছাড়া পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে স্থানীয় কয়েকজন যুবকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রাত ১০টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে পুলিশের পোশাক পরিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়েই বাকলিয়া থানায় নেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, অভিযুক্তকে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। তাঁরা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা হয়।
রাত ১২টার দিকে ক্ষুব্ধ জনতার একটি দল থানা ঘেরাও করতে মূল সড়কে অবস্থান নেয়।

এ সময় কয়েকটি স্থানে আগুন জ্বালানোর ঘটনাও ঘটে।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন আরও কয়েকজন সাংবাদিক। আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুম-কে একটি কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

পরে তিনি ফেসবুকে আটকে থাকার বিষয়টি জানালে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

রাত ৩ঃ৩০ মিনিট এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

থানচিতে অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকাসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী আটক।

চট্টগ্রামে ধর্ষণ অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া ; গভীর রাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও

 

উশৈনু মারমা; থানচি সংবাদদাতা:

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা থানচিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত এক দুঃসাহসিক ও সুপরিকল্পিত অভিযানে অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেন (৫০)-কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকা, অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রোকে হাতেনাতে আটক করেছে বিজিবি।

এ ঘটনায় পুরো থানচি উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল, বিজিবির এ সফল অভিযান সেই পরিস্থিতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
অপহৃত ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় একপর্যায়ে অপহরণকারীদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয় পরিবার। তবে বিষয়টি গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে বিজিবি।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন সার্বিক অভিযান তদারকি করেন। তার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় জোনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস আভিযানিক দল দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত এবং পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি জোরদার করে।

বিজিবি জানায়, অপহৃত ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অপহরণকারীরা ছিল সশস্ত্র এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছিল। ফলে যেকোনো ভুল পদক্ষেপে জিম্মির প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল প্রবল। এ অবস্থায় অত্যন্ত ধৈর্য, সতর্কতা ও কৌশলের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গভীর রাতে থানচি উপজেলার দুর্গম বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির বিশেষ আভিযানিক দল। দীর্ঘ সময় গোপন নজরদারি ও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণের পর অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

একই সময়ে অপহরণকারী সশস্ত্র চক্রের সদস্য মাংলে ম্রোকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি আরো জানায়, আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানচি অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র, অপহরণ নেটওয়ার্ক ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে অপহরণ, ভয়ভীতি ও হামলার মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এসব কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি আরও জানায়, পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূলে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পাহাড়ি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “বান্দরবানের থানচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অপহরণ, চাঁদাবাজি কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

এদিকে বিজিবির এ সফল অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ পাহাড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিজিবির এ সাহসী ও সময়োপযোগী অভিযানের প্রশংসা করেছেন।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে বাহিনী।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় নির্যাতিত শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রামে ধর্ষণ অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া ; গভীর রাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় ধর্ষণচেষ্টায় আহত চার বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২১মে)২৬ খ্রিঃ রাতে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেন।

মেয়র হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। শিশুটির মাকে তিনি চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুর প্রতি এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি ইতোমধ্যে শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। আমি কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি একজন চিকিৎসক এবং সন্তানের বাবা হিসেবে এ শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলাম।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও কথা বলেছি, যাতে কোনো অপরাধী ছাড় না পায়।

পরে হাসপাতালে শিশুটির এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত চিকিৎসাধীন সাংবাদিকদেরও খোঁজখবর নেন মেয়র। তিনি সাংবাদিকদের চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

পুলিশ জানায়, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় একটি ডেকোরেশনের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ডেকোরেশন কর্মচারীকে আটক করে।

এসময় মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সামিউল।

মানিকছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ধর্ষণ অভিযোগে রণক্ষেত্র বাকলিয়া ; গভীর রাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকার থেকে অজ্ঞাত (বয়স আনুমানিক ৫০) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গচ্ছাবিল গোঁসাই মন্দিরের পাশে অপু দাশ গুপ্ত নামের এক কিশোর লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

মানিকছড়ি থানার এস আই সৈয়দ আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে লাশের নাম পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশে ধারণা নিহত ব্যক্তি একজন মানুষিক ভারসাম্যহীন হিসেবেই এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তিনি বিভিন্ন দোকানে ঘুরে চা-নাস্তা এবং খাবার খুঁজে খেতেন।

মানিকছড়ি থানা পুলিশ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান।

×