| ২০ মে ২০২৬
শিরোনাম:

রাঙামাটিতে পিসিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

রাঙামাটিতে পিসিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

​বিশেষ প্রতিবেদক, রাঙামাটি :

​”সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হোন”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙামাটিতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গৌরবময় সংগ্রামের ৩৭ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে।

আজ ২০শে মে (বুধবার) রাঙামাটি শহরের কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে এক বিশাল ছাত্র ও জনসমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটির পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

পিসিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ​সমাবেশে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সহ-সভাপতি শ্রী উষাতন তালুকদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির তিন দশক ছুঁইছুঁই করলেও এখনো মৌলিক ধারাগুলো অপূর্ণ রয়ে গেছে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া এবং দীর্ঘকাল ধরে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন না হওয়ায় পাহাড়ে এক স্থবির ও দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জুম্ম ছাত্র সমাজকে তাদের ন্যায্য অধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

​পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রুমেন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সংকট তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় আদিবাসী শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া, প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হলেও শিক্ষক ও প্রশিক্ষণের অভাবে তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। একই সাথে ১ম ও ২য় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের কোটা সংকুচিত করার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

​সমাবেশে ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রধান ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়:

১. ​পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচিসহ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা।
২. ​আদিবাসী নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা বন্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
৩. পাহাড়ে জুম্ম অধ্যুষিত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক সংকট দূর করা।
​৪. দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুম্মদের প্রধান সামাজিক উৎসব (বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক) উপলক্ষে ৫ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা।
​৫. উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি এবং সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা পুনর্বহাল ও কার্যকর করা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছিল চোখ ধাঁধানো প্যান্ডেল ও মঞ্চ। তোরণ ও প্ল্যাকার্ডে সেজেছিল পুরো প্রাঙ্গণ। পাহাড়ে তীব্র গরম উপেক্ষা করেই সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকা থেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে সাধারণ ছাত্র-জনতা ও নারীরা সমাবেশে যোগ দেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন পুরো প্যান্ডেল ছিল কানায় কানায় পূর্ণতা।

সমাবেশে পিসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা পাহাড়ে সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ছাত্র-জনতার এই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সমতলের ছাত্র সমাজকেও পাশে থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রামে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সরঞ্জাম সহ ২৫১ সিমকার্ড জব্দ

রাঙামাটিতে পিসিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে র্যাব-৭। এ সময় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ২৫১ টি সিমকার্ড, ৮ টি সিমবক্সসহ নানা ধরনের প্রযুক্তি সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

্যাব-৭ চট্টগ্রাম বুধবার (২০ মে)২৬খ্রিঃ পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হালিশহর আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বিটিআরসি ও এনটিএমসির কারিগরি সহায়তায় সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানকালে হালিশহর আবাসিক এলাকার ২৪ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার একটি ভাড়া বাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে সাতটি ২৫৬ পোর্টের সিমবক্স, একটি ৫১২ পোর্টের সিমবক্স, তিনটি রাউটার, তিনটি পাওয়ার অ্যাডাপটার, দুটি মাইক্রোনেট সুইচ, একটি টিপি-লিংক সুইচ, একটি ডিজিটাল হোম ইউপিএস, একটি ব্যাটারি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া গ্রামীণফোনের ২০টি ও টেলিটকের ২৩১টিসহ মোট ২৫১টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

্যাব জানায়, অভিযুক্ত জিয়াবুল হক দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যারভিত্তিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক কল রাউটিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল।

্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য হালিশহর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কাপ্তাইয়ের প্রথমবারের মতো কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

রাঙামাটিতে পিসিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় প্রথমবারের মতো যথাযথ নিয়মে কোরবানির পশু জবাই এবং পশুর চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলায় এর আগে এই ধরনের কোনো আয়োজন করা হয়নি।

আজ ২০ মে ২০২৬ (বুধবার) কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ‘কিন্নরী’-তে এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লা, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. হারুনুর রশিদ, ডা. ওমর ফারুক রনি এবং কাপ্তাই সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের কর্মকর্তা বরুন কান্তি চাকমার চমৎকার সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, ওলামায়ে কেরাম, মুসল্লি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।​প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তারা ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে সম্পূর্ণ মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাইয়ের নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সাথে, কোরবানির পর পশুর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য প্রাথমিক স্তরেই বৈজ্ঞানিক ও সঠিক পদ্ধতিতে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের নানাবিধ কৌশল ও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন,

“কোরবানির পশুর চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। সঠিক নিয়মে চামড়া না ছাড়ানো এবং সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা এই অপচয় রোধ করতে পারি।”

তিনি  চামড়া সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই এবং জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

কাপ্তাইয়ে এই প্রথম এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ায় অনুষ্ঠানে আগত ওলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অর্জিত জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত।

রাঙামাটিতে পিসিপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ছাত্র-জনতার বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ মে) কুহালং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংপু মারমা। সভা পরিচালনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা উচচপ্রু মারমা।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি সদস্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসিং মং মার্মা, হ্লাজাই প্রু মার্মা, উ নাইচিং মার্মা (মহিলা সদস্য), মোঃ আবুল কালাম, অংসাহ্লা মার্মা, উম্মে ইসলাত জাহান শিম্পা, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মংক্যচিং মার্মা এবং ১নং ওয়ার্ডের সদস্য চাই উগ্য মার্মাসহ বিভিন্ন সরকারি -বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

বাজেট সভায় ইউনিয়নের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়, বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বক্তারা অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারা।

আয়োজক সূত্র জানায়, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই এ উন্মুক্ত বাজেট সভার আয়োজন করা হয়েছে।

×