| ১০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড় ধসে আশ্রয়হীন মানুষের পাশে ৪১ বিজিবি: দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাল ওয়াগ্গাছড়া জোন

পাহাড় ধসে আশ্রয়হীন মানুষের পাশে ৪১ বিজিবি: দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাল ওয়াগ্গাছড়া জোন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই :

প্রকৃতি রুদ্ররোষে পাহাড় ধসের কবলে পড়ে দিশেহারা রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গাছড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। একদিকে অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে বসতভিটা হারানোর আতঙ্ক—এমনই এক সংকটময় মুহূর্তে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।বুধবার ৯ জুলাই কাপ্তাই ওয়াগ্গাছড়া জোন (৪১ বিজিবি) ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।

​গত ০৭ জুলাইয়ের পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে দুই শিশু আহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী প্রায় ৭০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এখন ঠাঁই নিয়েছেন কর্ণফুলী সরকারি কলেজ ও সংলগ্ন মিনি স্টেডিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে।​এই দুঃসময়ে ভুক্তভোগীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে ওয়াগ্গাছড়া জোন। মানবিকতার হাত বাড়িয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ৭০ জন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় জরুরি খাদ্যসামগ্রী। ত্রাণ সহায়তার তালিকায় ছিল খেজুর, চিড়া, মুড়ি, ব্রেড, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, চিনি ও ওরস্যালাইন।

 

​ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন ওয়াগ্গাছড়া জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস। তিনি পরম মমতায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের মনোবল শক্ত রাখার আহ্বান জানান।ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিজিবি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং যেকোনো বিপদের সময় ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”উপজেলা প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের খাবারের ব্যবস্থা করলেও, বিজিবির ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় এই অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। দুর্যোগের এই দুঃসময়ে বিজিবির এমন ভূমিকা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে।

স্থানীয় এমপি দীপেন দেওয়ানের অগোচরে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর আগমনে তৃণমুল বিএনপি নেতাকর্মীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাহাড় ধসে আশ্রয়হীন মানুষের পাশে ৪১ বিজিবি: দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাল ওয়াগ্গাছড়া জোন
সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর একতরফা সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রটোকল না মেনেই রাঙ্গামাটি জেলা-উপজেলা বিএনপির তৃণমূলে দলীয় কোন্দলের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী তিন জেলার জন্য দায়িত্ববন্ঠন থাকলেও রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে এতব্যস্ততা কেন তা ভাবার বিষয় বটে। কেননা, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে তার উপস্থিতি এত কম নাই বললেই চলে।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. দীপেন দেওয়ানকে অবগত না করেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা। তাদের ভাষ্য মতে, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে সরকারি দল হিসেবে এবং দেশের সাংবিধানিক নিয়মে প্রটোকল ও দলীয় শৃঙ্খলা মেনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয়ে কাজ করা উচিত এবং প্রযোজ্য।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক কর্মীরা বলছেন, রাঙামাটির স্থানীয় এমপি এড. দীপেন দেওয়ানকে সর্বস্তরের জনগণ বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। এই অঞ্চলের জনগণ এমপির প্রতি আনুগত্য ও অনেক প্রত্যাশা রাখেন। পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী তার নিজের ক্ষমতা অপব্যবহারে স্থানীয় বিএনপিতে গ্রুপিং ও বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে। যা অদুর ভবিষ্যতে এটা দলের জন্য কাম্য নহে এবং দলের বিভাজনের একটি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন।”

রাঙমাটির তৃণমূলের কর্মীরা আরও বলেন, “পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপিদের সাথে কাজ না করলে এর দায়ভার বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে। আমরা চাই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখেই একটি সুসংগঠিত হয়ে রাঙামাটি জেলাকে বিএনপির শক্তির গড়ে উঠুক এবং এমপি-মন্ত্রী সমন্বয়ের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন সাধিত হোক।”

এ ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীসহ দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।

নিদ্রাহীন রাত কাপ্তাইবাসীর: রিটার্নিং ওয়াল না থাকায় সড়ক ও বসতভিটা ধসের মুখে

পাহাড় ধসে আশ্রয়হীন মানুষের পাশে ৪১ বিজিবি: দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাল ওয়াগ্গাছড়া জোন

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই উপজেলাজুড়ে পাহাড় ধসের ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৪ নং কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের লকগেট কুরুম এলাকায় প্রধান সড়কের পাশের বসতিগুলো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে পাহাড় ধসের কবলে পড়লেও টেকসই কোনো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল লিটন জানান, তাদের বসতভিটার ঠিক ওপরেই কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক। সড়কটির নিচে একটি টেকসই রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের জন্য তারা কয়েক মাস আগে জেলা পরিষদে আবেদন করলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি। তিনি বলেন, “সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতির কারণে আজ আমরা মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে। একটি দেওয়ালের অভাবে আমাদের ঘরবাড়ি ও পাশের ১০ শয্যা হাসপাতালটিও হুমকির মুখে।”

আরেক বাসিন্দা ডেজি আক্তার বলেন, “সারা রাত আমাদের বসে কাটাতে হয়, কখন যেন পাহাড়ের মাটি ও সড়কের ঢাল ধসে আমাদের ঘরের ওপর পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও আমরা যেতে পারছি না। একদিকে ঘরে যুবতী মেয়ে, অন্যদিকে চুরি-ডাকাতির ভয়। ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল ফেলে কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। মালামাল চুরি হওয়ার চেয়ে এখানে মৃত্যুই যেন শ্রেয় মনে হচ্ছে।”

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রশাসনের লোকজন ছবি তুলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সহযোগিতা বা সুরক্ষা তারা পাননি। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। লকগেট কুরুমের সাথে নতুন বাজার ঢাকাইয়া কলোনি একি ভাবে ঝুকিপূর্ণ। শুধু কাপ্তাই ইউনিয়ন নয়, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া, চিৎমরম বাজার ঘাট ও চিৎমরম  ভামনি পাড়া, ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বরইছড়ি মারমা পাড়া, কুকি মারা, মুরালি পাড়া এবং রাইখালী ইউনিয়নের মুতি পাড়া ও ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা বর্তমানে পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মাইকিং ও সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। জীবন রক্ষার্থে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে আসার অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।”​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণসহ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে রামগড় পৌর প্রশাসক

পাহাড় ধসে আশ্রয়হীন মানুষের পাশে ৪১ বিজিবি: দুর্গতদের মুখে হাসি ফোটাল ওয়াগ্গাছড়া জোন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে মাঠে নেমেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে শুকনা খাবার ও জরুরি খাদ্য সহায়তা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম পৌরসভার সোনাইপুল, ফেনীরকুলসহ বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কিছু পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে চলমান ভারী বর্ষণে পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বহু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষজন খাদ্য সংকট, যাতায়াতের সমস্যা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

 

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তাও প্রদান করা হবে।”

এ সময় রামগড় পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

×