| ৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধ জুমচাষী পরিবার

বিলাইছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধ জুমচাষী পরিবার

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ৪নং বড়থলি ইউনিয়নের দুর্গম ধুপপানি ছড়া ত্রিপুরা পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বৃদ্ধ জুমচাষী পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ অর্থ, খাদ্যশস্য, স্বর্ণ-রূপার গহনা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ প্রায় সবকিছুই পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত (১ আগস্ট) রোজ রবিবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হারিকেন বাতি অথবা রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯ বছর বয়সী জুমচাষী বিশ্ব মিত্র ত্রিপুরা জানান, আগুনে তাদের প্রায় ২০০ হাঁড়ি জুমের ধান, নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০০ ওয়াট ও ২০ ওয়াটের সরকারি সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) ব্যবস্থা, প্রায় ১ তোলা স্বর্ণালংকার, ৪ তোলা রূপার গহনা, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সব সামগ্রী পুড়ে যায়। আগুনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী চিঠিরুং ত্রিপুরাও দগ্ধ হন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ঘটনাস্থলে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের খবরও বিলম্বে বাইরে পৌঁছায় না । বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ দম্পতির জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পোশাক, বাসস্থানের উপকরণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক আবেদন জানিয়েছে।

যোগাযোগ:
অখিলা ত্রিপুরা (ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ছেলে)
মোবাইল: ০১৫৮১-৫৬২৬২৯

কাপ্তাইয়ে খেলাধুলার সময় গলায় গামছা পেঁচিয়ে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

বিলাইছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধ জুমচাষী পরিবার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় খেলাধুলা করার সময় অসাবধানতাবশত গলায় গামছা পেঁচিয়ে আদশ্রী তঞ্চঙ্গ্যা (৬) নামের এক পাহাড়ি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের পাগলি উপরপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু আদশ্রী তঞ্চঙ্গ্যা ওই এলাকার তপন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটির মা-বাবা উভয়েই জুমচাষের কাজে পাহাড়ে ব্যস্ত ছিলেন। নিজ বসতঘরে একা খেলাধুলা করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত আদশ্রীর গলায় একটি গামছা পেঁচিয়ে যায় এবং সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার বড় বোন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্যাসের তীব্র সংকট, রান্না বন্ধ বহু ঘরে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল নগরবাসী

বিলাইছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধ জুমচাষী পরিবার

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবাসিক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চট্টগ্রামে। গ্যাসের অভাবে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ওলট-পালট হয়ে গেছে।
সকালবেলার নাশতা তৈরি থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের খাবার রান্না-সবকিছুতেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নগরের জামালখান লেন ও আগ্রাবাদের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০টার পর গ্যাস থাকছে না।

২ আগস্ট (রবিবার)২৬খ্রিঃ সকাল ৭ টায় গ্যাস চলে গেছে। সন্তানকে নাশতা না খাইয়ে স্কুলে পাঠাতে হয়েছে।একবার গ্যাস গেলে বিকেল ৩ঃ০০টার আগে আসে না।আবার সন্ধ্যার পরও চাপ থাকে খুবই কম।

আসকার দিঘির পাড় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাত ১২ টার আগে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই দুপুরের খাবার প্রতিদিন রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে। বহু পরিবার বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক খাতের পাশাপাশি শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে কেজিডিসিএল। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, গত ১০ দিন ধরে সংকট চলছে।

তবে ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাতেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই সংকট কেটে যাবে

রামগড়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক

বিলাইছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধ জুমচাষী পরিবার

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিবাড়ি এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী নিজে রামগড় থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন থলিবাড়ি এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ পেলেই তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করার চেষ্টা করতেন, সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

তবে সর্বশেষ গত রোববার রাতে অভিযুক্ত জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ভুক্তভোগী নীরবতা ভেঙে সোমবার রামগড় থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”।

×