| ২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

দুই বছর ধরে শূন্য রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

দুই বছর ধরে শূন্য রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় প্রায় দুই বছর ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু কাউসার অবসরের যাওয়ার পর থেকে পদটিতে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করেননি। ফলে প্রায় দুই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি শূন্য রয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ধীরগতিতে সম্পন্ন হচ্ছে।

জানা যায়, শুধু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদই নয়, দপ্তরের প্রয়োজনীয় জনবল সংকটও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। ফলে বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকি, শিক্ষক-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রেরণসহ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের স্টাফ জয়নাল আবেদীন বলেন, “গত ২,৮,২০১৮ সালে আবু কাউসার এই অফিসে যোগদান করেছিলেন, তিনি গত ২৪ সালের ১৮ই ফেব্রয়ারী পেনশনে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এখানে যোগদান করেননি।তবে আবু কাউসার পেনশনে যাওয়ার পর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মসলেম উদ্দিন,কে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এর পর রফিকুল ইসলাম নামে একজন ১ বছর দায়িত্ব পালন শেষে তিনিও পেনশনে চলে গেছেন, তারপর বর্তমানে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সুভাস চন্দ্র সিক্দার কে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, জয়নাল আবদিন আরো জানান স্থায়ী অফিসার দীর্ঘদিন ধরে না থাকায় অফিসের অনেক কাজ সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।”।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি আমরা জেলা মিটিং সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। আশা করছি, দ্রুতই একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে।”।

এদিকে শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। তাই দীর্ঘ সময় ধরে পদটি শূন্য থাকায় শিক্ষা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা শিক্ষার স্বার্থে দ্রুত একজন যোগ্য কর্মকর্তাকে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চন্দ্রঘোনায় অভিযানে একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত মাদক কারবারি মাসুম গ্রেপ্তার

দুই বছর ধরে শূন্য রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):

​রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুম তালুকদার ওরফে ছোট মাসুমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ।

​রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৩নং সফিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বাঙ্গালহালিয়ার সফিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এবং এলাকার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মাসুম তালুকদারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজস্থলী থানাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। ​

চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাকের আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার তাকে চন্দ্রঘোনা থানা ও রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

দুই বছর ধরে শূন্য রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

 

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে সুমন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বান্দরবান সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(খ) ও ১৫(১) অনুযায়ী এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সুমন কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে মাটি অপসারণ করছেন। ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকার এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ: চন্দ্রঘোনা থেকে বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক উদ্ধার, আদালতে সোপর্দ ১

দুই বছর ধরে শূন্য রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে পাল্পউড বন বিভাগ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ও রাইখালী এলাকা থেকে পাচার চক্রের হাত থেকে একটি বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির ‘হাঁসপা তক্ষক’ উদ্ধার করেছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বন্যপ্রাণীটি অবৈধভাবে আটকে রেখে পাচারচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং তিনছড়ি বিট কাম রাইখালী ডিপো কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দেওয়ানের নেতৃত্বে কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগ ও চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা অবস্থায় বিরল প্রজাতির তক্ষকটি উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে উদ্ধারকৃত তক্ষকটি রাইখালী রেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং বিট কর্মকর্তা ফিরোজ আল-আমিনের উপস্থিতিতে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণীটিকে রাইখালী রেঞ্জের অধীন গহীন অরণ্যের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে অবমুক্ত করেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই পাল্পউড বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যপ্রাণী আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের অমূল্য সম্পদ। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় যেকোনো বন্যপ্রাণী ধরা, কেনাবেচা বা পাচার করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক।

×