শিরোনাম:

রাজধানীতে হেবাং রেষ্টুরেন্টের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি

রাজধানীতে হেবাং রেষ্টুরেন্টের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে সাম্প্রতিক খাগড়াছড়ির বাসিন্ধা চাকমা জাতির ৪ বোনের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে তোলা জনপ্রিয় হেবাং রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা।

সোমবার (৪ আগস্ট ২০২৫) এক বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা-এর পক্ষে সভাপতি এ এইচ এম ফারুক, সিনিয়র সহ-সভাপতি মিতায়ন চাকমা এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ভূইয়া এ প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে সমিতির নেতারা বলেন- সারা পৃথিবীতে একেকটা জাতির খাদ্যাভাস, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য একেক রকম এবং স্পষ্টত ভিন্নতা রয়েছে। তেমনি ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনজাতিরও রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে মানুষ রাজধানী ঢাকাতেও বসবাস করেন। বিভিন্ন জনজাতির তাদের নিজস্ব খাদ্যাভাসও আলাদা হওয়ায় নিজস্ব কালচারে মিরপুরে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক (২৬ জুলাই) তিলে তিলে গড়ে হেবাং রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় কিছু উৎশৃঙ্খল যুবক। এতে করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। হামলাকারিদের অভিযোগ রেস্টুরেন্টটিতে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব কালচার অনুযায়ী বিভিন্ন খাবার রান্না করায় স্থানীয়দের সমস্যা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকা মনে করে, এটি কোনো অভিযোগ হতে পারে না। কেন না- কোনো জাতির নিজস্ব খাদ্যাভাস নিয়ে সমালোচনা করা চরম অসভ্যতা। তাদের খাদ্যাভাস, ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং হেনস্তা করা মোটেও যুক্তিসংগত নয়। এগুলো অতিরঞ্জিত, হিংসাত্মকমূলক।

এ ঘটনায় দোষীদের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ভাবে শাস্তির দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা। পাশাপাশি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেনো না হয় সেজন্য রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে বিবৃতিতে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা-এর নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, ঢাকায় বসবাসরত পাহাড়বাসী সকল জন জাতির যে কোনো সমস্যায়-বিপদে পাশে থাকতে অঙ্গীকারাবদ্ধ সংগঠনটি।

 

বার্তা প্রেরক

আল আমিন আহমেদ

প্রচার সম্পাদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকা।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

রাজধানীতে হেবাং রেষ্টুরেন্টের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

রাজধানীতে হেবাং রেষ্টুরেন্টের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

রাজধানীতে হেবাং রেষ্টুরেন্টের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×