শিরোনাম:

বাঙ্গালহালিয়াতে ৩৫তম মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের হেডম্যান পাড়ার জয়ধ্বনি

বাঙ্গালহালিয়াতে ৩৫তম মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের হেডম্যান পাড়ার জয়ধ্বনি

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৩৫তম মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

আজ রবিবার (৫ অক্টোবর) পাহাড়ের প্রাণের এই খেলা অনুষ্ঠিত হয় বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, এই খেলা অংশ গ্রহণ করেন মোট ৯টি পাড়া দল।

টুর্নামেন্টের সার্বিক আয়োজন করে বাঙ্গালহালিয়া হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার যুবক-যুবতীবৃন্দ, আহ্বায়ক রনি তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন সুমন বড়ুয়া।

দিনব্যাপী এই ক্রীড়া উৎসবে এলাকাজুড়ে ছিল উচ্ছ্বাস, আনন্দ আর মিলনমেলার আবহ।

এই সময় অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন, বাবু মংসুইখই মারমা, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী, বান্দরবান পৌরসভা,
প্রধান অতিথি ছিলেন বাবু আদোমং মারমা, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু সাচিং মারমা।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবু ঞোমং মারমা,,এবং বিভিন্ন পাড়া এলাকাবাসী ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।।

চূড়ান্ত খেলায় মুখোমুখি হয় হেডম্যান পাড়া ও যৌথ খামার , উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে হেডম্যান পাড়া দল ৩–০ গোলে পরাজিত করে যৌথ খামার দলকে। খেলার মাঠজুড়ে দর্শকদের উল্লাসে মুখরিত হয় গোটা এলাকা।

বাবু সাচিং মারমা, বিশিষ্ট সমাজসেবক, বলেন, “খেলাধুলা মানুষের মনকে প্রফুল্ল রাখে, আর সমাজকে একত্রিত করে। এই মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্ট পাহাড়ের তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার অন্যতম একটি মাধ্যম। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য। ভবিষ্যতেও যেন এই ঐতিহ্য ধরে রাখা যায়, সেই প্রত্যাশা রাখি।”

বাবু আদোমং মারমা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বলেন, “এই টুর্নামেন্ট শুধুমাত্র খেলাধুলা নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। প্রতি বছর এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক জীবনের পথে অনুপ্রাণিত করে। খেলাধুলা যেমন শরীরকে সুস্থ রাখে, তেমনি সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বাড়ায়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে আমি সবসময় এমন উদ্যোগের পাশে আছি।”

বাবু ঞোমং মারমা, বিশেষ অতিথি, বলেন, “খেলাধুলা তরুণ সমাজকে গঠনমূলক কাজে যুক্ত রাখে। আজকের এই টুর্নামেন্টে আমি যুবকদের মধ্যে প্রচণ্ড উৎসাহ ও ঐক্যের চিত্র দেখেছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।”

দিনভর মাঠে ছিল দর্শকদের ভিড়, উল্লাস আর ঢাক-ঢোলের শব্দ। এলাকার প্রবীণ ও তরুণ সবাই মিলেমিশে উপভোগ করেন পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াগ্যেয়াই উপলক্ষে এই ক্রীড়া উৎসব। খেলায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পাড়া কেন্দ্রের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী।

খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পুরো মাঠে তখন ধ্বনিত হচ্ছিল উচ্ছ্বাসের স্লোগান— “হেডম্যান পাড়া চ্যাম্পিয়ন!

বাঙ্গালহালিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। ৯টি পাড়ার তরুণদের অংশগ্রহণে এ টুর্নামেন্ট আজ এক সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পাহাড়ের তরুণরা যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে ভবিষ্যতে এখান থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের প্রতিভাবান খেলোয়াড় ও নেতৃত্বদানকারী প্রজন্ম।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

বাঙ্গালহালিয়াতে ৩৫তম মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের হেডম্যান পাড়ার জয়ধ্বনি


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

বাঙ্গালহালিয়াতে ৩৫তম মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের হেডম্যান পাড়ার জয়ধ্বনি

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

বাঙ্গালহালিয়াতে ৩৫তম মাহা ওয়াগ্যেয়াই ফুটবল টুর্নামেন্টের হেডম্যান পাড়ার জয়ধ্বনি

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×