শিরোনাম:

পাহাড়ি পথের পরিশ্রম—জীবিকার টানে সবুজ শাক সংগ্রহে দুই নারী

পাহাড়ি পথের পরিশ্রম—জীবিকার টানে সবুজ শাক সংগ্রহে দুই নারী

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধিঃ

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের জীবনযাত্রা প্রকৃতির অপরূপ রূপে মোড়ানো হলেও মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম এখানে প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। সবুজে ঘেরা নির্জন বনপথ, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ওঠানামা আর অনিশ্চিত আবহাওয়ার মাঝেও পাহাড়ি মানুষের শ্রম থেমে থাকে না। আর সেই শ্রমের প্রতিচ্ছবি হয়ে ধরা দিলেন দুই পাহাড়ি নারী—কাঁধে ঝুলি, ডালিতে শাকসবজি, চোখে দৃঢ়তা ও মুখে সংগ্রামের ছাপ।

এক সরু পথ ধরে এগিয়ে আসছিলেন তারা। দিনের পর দিন মাঠে-জঙ্গলে ঘুরে সংগ্রহ করা শাকসবজি তারা বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন—পরিবারের রোজগারের আশায়। ছবিতে দেখা যায়, এক নারী বড় ডালি থেকে শাক-সবজি ঝুড়িতে ভরছেন, আর অন্য নারী সেই ভারী ঝুড়িটি কাঁধে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চারদিকে সবুজে মোড়া অবারিত নিসর্গ, পাহাড়ি পাখির ডাক, স্রোতধারার শব্দ—প্রকৃতি যেন তাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে সাহস যোগাচ্ছে।

পোশাকে মাটির দাগ, হাতে খসখসে পরিশ্রমের ছাপ, মুখে দিনের ক্লান্তি থাকলেও তাদের চোখে কাঙ্ক্ষিত জীবিকার শক্ত প্রত্যয়। পাহাড়ের জীবন যেমন কঠিন, তেমনি তাদের মনোবল অটুট—প্রতিটি পদক্ষেপেই যেন তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয় এক পাহাড়ি নারী বলছিলেন—“আমরা পাহাড়ের মানুষ। ভোর হবার আগেই মাঠে যাই, সারাদিন কাজ করি। যা সংগ্রহ করতে পারি, তাই নিয়ে বাজারে যাই। আমাদের সংসার চলে এই ঘামের ওপরই।”

এক কৃষক আরও জানান,,“বর্ষায় সবজি জন্মানো কঠিন। তবুও পাহাড়ে যা পাওয়া যায়, আমরা সংগ্রহ করি। বাজারে এগুলো বিক্রি করে পরিবার চালাই। আমাদের পরিশ্রমে যেমন পরিবার বাঁচে, তেমনি বাজারেও তাজা সবজি পৌঁছায়।”

দুই নারীর এই দৃশ্য কেবল শ্রমের অনুভূতি নয়, এটি পাহাড়ি মানুষের অধ্যবসায়, সততা এবং সংগ্রামী জীবনের জীবনবোধ। তাদের পরিশ্রম যেন পাহাড়ের শ্যামলতা ছুঁয়ে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই আছে কঠোর বাস্তবতা, আছে জীবনের প্রতি অকৃত্রিম টান।

পাহাড়ের কোলে এদের জীবনের গল্প শুধু কর্মময় দিনগুলোর কথা বলে না—এটি বলে নারীদের দৃঢ়তা, পরিবারের প্রতি অবিচল দায়িত্ববোধ আর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচার চিরচেনা দৃশ্য। প্রতিদিন হাঁটতে হাঁটতে, বোঝা বয়ে, ঘাম ঝরিয়ে তারা প্রমাণ করেন“সংগ্রামই জীবনের স্বাভাবিক পথ, আর পরিশ্রমই মানুষের আসল পরিচয়।”

সবুজ পাহাড়, নীরব প্রকৃতি আর দুই নারীর দৃঢ়তায় ভরা এই দৃশ্য একটি বড় সত্যকে সামনে আনে,এই শ্রমই পাহাড়ি জনজীবনের প্রাণ, এই পরিশ্রমই তাদের বাঁচার শক্তি, আর তাদের গল্পই আমাদের সমাজের নীরব প্রেরণা।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

পাহাড়ি পথের পরিশ্রম—জীবিকার টানে সবুজ শাক সংগ্রহে দুই নারী


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

পাহাড়ি পথের পরিশ্রম—জীবিকার টানে সবুজ শাক সংগ্রহে দুই নারী

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

পাহাড়ি পথের পরিশ্রম—জীবিকার টানে সবুজ শাক সংগ্রহে দুই নারী

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×