শিরোনাম:

দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসব, নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা

দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসব, নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

নতুন বছরের প্রথম সকালেই নতুন বইয়ের মলাটের ঘ্রাণ আর শিশুদের আনন্দঘন কোলাহলে মুখরিত দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গন।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বই বিতরণ উৎসব-২০২৬’। বছরের শুরুতেই হাতে নতুন পাঠ্যবই পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে বিদ্যালয়ের খুদে শিক্ষার্থীরা।

সকাল থেকেই কুয়াশাভেজা শীতল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের হাত থেকে ঝকঝকে রঙিন নতুন বই গ্রহণ করার মুহূর্তে তাদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে সীমাহীন আনন্দ। নতুন বইয়ের গন্ধে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে জানায় কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা নতুন বছরে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, বছরের প্রথম দিনেই সন্তানদের হাতে বই পাওয়ায় পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এক অভিভাবক চ্যংঙি ম্রো বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই বই হাতে পাওয়ায় আমাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে গেছে। এখন শিশুরা শুরু থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারবে।

বই বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেনয়াং ম্রো। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “সীমিত জনবল থাকা সত্ত্বেও আমরা শিক্ষার মান ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বিদ্যালয়ের পাঠদানের পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষায় অভিভাবকদের আরও সচেতন ও সহযোগী ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

তিনি আরও আশ্বাস দেন যে, সকল সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নতুন বইয়ের সঙ্গে নতুন স্বপ্ন বুকে নিয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর ঈদ শুভেচ্ছা ও মানবিক সহায়তা

দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসব, নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা


‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি।

‎পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ও ডাক্তার,নার্স চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে আলীকদম সেনা জোন।

‎শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক (এসপিপি, পিএসসি)। তিনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‎এ সময় রোগীদের মাঝে ফ্রুট বাস্কেট বিতরণ করা হয়। সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগে হাসপাতালে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং রোগীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।



‎আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি জোরদার করে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

‎আলীকদম সেনা জোনের এই মহৎ প্রয়াস স্থানীয় জনগণের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কল্যাণমুখী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

দিঘীনালায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা শান্তি রানি চাকমা পাশে দীঘীনালা উপজেলা প্রশাসন

দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসব, নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ি দীঘীনালা উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডের ১নং মেরুং ইউনিয়নের ভৈরফা গ্রামে সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বিধবা শান্তি রানি চাকমাকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। দীঘীনালা উপজেলার নির্বাহী অফিসার তানজিম পারভেজ পক্ষ থেকে এই সহায়তা পৌঁছে দেন ১নং মেরুং ইউনিয়নের ৭নং ওযার্ডের মেম্বার সমীরন চাকমা।

জানা যায়, গতকাল শুত্রুবার ২০ মার্চ ২০২৬ বিকেলে হঠাৎ বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে শান্তি রানি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। বিষয়টি ৭নং ওযার্ডে মেম্বার সমীরন চাকমা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করলে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করে। আজ ২১ মার্চ শনিবার উপজেলার নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় সমীরন চাকমা ক্ষতিগ্রস্ত শান্তি রানি চাকমা বাড়িতে গিয়ে শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন। এবং শান্তি চাকমাকে তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ অর্থ প্রদান করেন।

এ সময় তিনি শান্তি রানি চাকমাকে খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে শান্তি রানি চাকমা উপজেলা প্রশাসন ও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সমীরন চাকমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকতে তাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাহাড় জুড়ে বৈসাবির আমেজ, ব্যস্ত পাহাড়ি তরুণীরা

দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসব, নতুন বইয়ের ঘ্রাণে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীরা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বৈসাবির উৎসবমুখর প্রস্তুতি। পাহাড়জুড়ে এখন আনন্দ আর ব্যস্ততার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। বৈসাবি—যা বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু এই তিন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে—তা ঘিরে পাহাড়ি জনপদে বইছে উৎসবের হাওয়া। উৎসবকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণীরা। নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তারা প্রস্তুত করছেন রঙিন পোষাক, পিনোন আর কাদি, গয়না এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপকরণ। কেউ বুনছেন হাতে তৈরি কাপড়, কেউবা তৈরি করছেন ফুলের অলংকার। ঘরে ঘরে চলছে পিঠা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পিংকি চাকমা নামে স্থানীয় এক তরুণী জানান, “বৈসাবি আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময়টাতে আমরা সবাই নতুন পোশাক পরি, ঘর সাজাই, আর নানা আয়োজন করি। তাই প্রস্তুতিটাও নিতে হয় অনেক আগেই।” পাহাড়ি বাজারগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটার ভিড়। রঙিন কাপড়, ফুল, প্রসাধনীসহ উৎসবের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন তরুণীরা। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চলছে নাচ-গানের মহড়া।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা, যাতে উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। সব মিলিয়ে, বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন প্রাণের স্পন্দন। আর এই উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি তরুণীদের প্রাণচাঞ্চল্যই যেন উৎসবের আসল রঙ আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।

×