মানিকছড়ি আচলং পাড়াতে আগুনে পুড়ে সম্পন্ন ছাই হয়ে গেছে চাইহ্লাপ্রু বাড়ি ; ঠান্ডায় টাবু টাঙ্গিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস
মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
মানিকছড়ি উপজেলা থেকে ১২ কিঃমিঃ দূরত্বে আচলং গ্রাম। যোগ্যাছোলা ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডে আচলং গ্রামের মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, বাঙালিসহ মিলেমিশে বসবাস সকল সম্প্রদায়। সেখানে বেশিভাগ কৃষি ও দিন মজুরি কাজ করে নির্বাহ করে থাকেন। এই গ্রামের চাইহ্লাপ্রু মারমা (৩৫) ও উসাইন্দা (৩০) মারমা চার কণ্যা সন্তান নিয়ে বসবাস। তারা দু-জনে দিনমজুর কাজ করে জীবন নির্বাহ করতেন।
প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে যোগ্যাছোলা ইউনিয়নে কালাপানি মাদ্রাসা বিএনপি নির্বাচনী সভা চলাকালীন সময়ে ঘরে চেরাগ বাতি (কুপি) জ্বালিয়ে ঘর থেকে বের হন চাইহ্লাপ্রু মারমা। তখন ঘরের মধ্যে স্ত্রী উসান্দা মারমা চার কন্যা ঘরে ছিলেন। ঘরে চেরাগ জ্বালিয়ে সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন উসাইন্দা মারমা। পরক্ষনে রাত ৮ টায় চেরাগ বাতি (কুপি) থেকে আগুন সুত্রপাত হয়ে পুরো ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে, পাশের বাড়ি থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একজন নারী এসে ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙ্গেন ঘরে থাকা উসাইন্দাকে। ততক্ষণে মধ্যেই পুরো ঘর পুড়ে অগ্নিকান্ডে সম্পন্ন বাড়ি ছাই হয়ে গেছে। ঘর থেকে কোন কিছু আসবাবপত্র বের করতে পারেনি। ঘরে ভিতরে থাকা ধানের বস্তা, কুমিল্লা কচু বীজ, হলুদ, কাপড়চোপড়, সন্তানের বই, খাতা কলম ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ভোটার আইডি কার্ড আগুনে পুড়ে সম্পন্ন ছাই হয়ে গেছে। ঘর পাহাড়ে উপরে হওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনে পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরে আসবাবপত্র সবকিছু মিলে আগুনে পুড়ে লক্ষাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

এখন শীতের ঠান্ডাতে টাবু টাঙ্গিয়ে খোলা আকাশের নিচে চার কণ্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করছে চাইহ্লাপ্রু পরিবার। সাজানো সংসার হারানোর শোকে আচ্ছন্ন তারা। সেই অগ্নিকান্ড ক্ষতিগ্রস্ত খবর শুনে চাইহ্লাপ্রু মারমা পরিবারে হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা ও চাল, ডাল, কম্বল প্রদান করেন মানিকছড়ি উপজেলা শাখা বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এক সপ্তাহের জন্য সংসারে বাজার সামগ্রী পৌঁছে দেন।

আচলং গ্রামের আজাইমং কার্বারী বলেন, চাইহ্লাপ্রু মারমা ঘর আগুনে পুড়ে খোলা আকাশের বসবাস করছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসনে কেউ খোঁজখবর নেয়নি। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, শীতবস্ত্র এবং খাবারের ব্যবস্থা করা জরুরি এবং উপজেলা প্রশাসনের শাপাশি সমাজের বিত্তবান এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।















