| ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

চিৎমরমে বুদ্ধ পূর্ণিমায় উৎসবের আমেজ বোধিবৃক্ষে জল ঢেলে মৈত্রী প্রার্থনা

চিৎমরমে বুদ্ধ পূর্ণিমায় উৎসবের আমেজ বোধিবৃক্ষে জল ঢেলে মৈত্রী প্রার্থনা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) :

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’—এই চিরন্তন মৈত্রী বাণীর মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা’। বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত (জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ) এই পবিত্র দিনে কাপ্তাইয়ের ঐতিহাসিক চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে ছিল পুণ্যার্থীদের আগমন।

 

পাহাড়ের ঐতিহ্যের লীলাভূমি কাপ্তাই উপজেলাধীন ঐতিহাসিক চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। দিনের কর্মসূচি শুরু হয় পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা এবং পিন্ডদানের মধ্য দিয়ে। বিহারের অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে বরেণ্য ভিক্ষু ও ধর্মীয় পণ্ডিতগণ গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও সাম্যের দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে বুদ্ধের মৈত্রী ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন।
​বোধিবৃক্ষে জলসেচন ও বিশেষ প্রার্থনা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যে বৃক্ষের নিচে বসে বোধি বা জ্ঞান লাভ করেছিলেন, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই পালিত হয় ‘জল ঢালা’ উৎসব।সকাল থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত পুণ্যার্থী সারিবদ্ধভাবে জাদি প্রাঙ্গণে অবস্থিত অর্ধশতবর্ষী পবিত্র বোধিবৃক্ষে জলসেচন করেন।

সকালে পূজা ও ধর্মদেশনা শেষে নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর নির্বিশেষে চন্দন কাঠের সুবাসিত পানি ও ঝর্ণার পবিত্র বারিধারা নিয়ে বিহার প্রদক্ষিণ করেন। এসময় সমবেত প্রার্থনায় বিশ্বশান্তি ও মানবিক কল্যাণের জন্য দেশনা করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সূত্রপাঠ ও সূত্র শ্রবণের মধ্য দিয়ে দিনটির মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়।চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আগত পুণ্যার্থীদের মাঝে শরবত বিতরণ করে সেবার হাত বাড়িয়ে দেয়। প্রখর রোদে পুণ্যার্থীদের তৃষ্ণা মেটাতে শিক্ষার্থীদের এই আন্তরিক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা চিৎমরম বিহারের শান্ত ও মনোরম পরিবেশে উৎসব পালন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আগত এক পুণ্যার্থী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমরা প্রার্থনা করেছি যেন পৃথিবী থেকে সকল যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অশান্তি দূর হয় এবং সকল মানুষ যেন সম্প্রীতির সাথে বসবাস করতে পারে।”

​কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই প্রশাসনের সতর্ক নজরদারিতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী ধর্মীয় আচারসমূহ সম্পন্ন হয়েছে। ‘অহিংসা পরম ধর্ম’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব পাহাড়ের বুকে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবারের বসতভিটা — জরুরি ভিত্তিতে গ্রেটওয়াল নির্মাণের দাবি

চিৎমরমে বুদ্ধ পূর্ণিমায় উৎসবের আমেজ বোধিবৃক্ষে জল ঢেলে মৈত্রী প্রার্থনা

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে ছড়ার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির ছড়ায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। মাত্র প্রায় ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছড়ার পানি ইতোমধ্যে পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলায় ভারী বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রেটওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্রেটওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই গ্রেটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্রেটওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।

বিলাইছড়িতে আশিকা কর্তৃক আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

চিৎমরমে বুদ্ধ পূর্ণিমায় উৎসবের আমেজ বোধিবৃক্ষে জল ঢেলে মৈত্রী প্রার্থনা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট বিলাইছড়ি উপজেলায় আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। গতকাল সহ দুই দিনে ছয়শত পরিবারের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টা হতে আশিকার ইউনিয়ন ফোকাল পারসন সুজন তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে  ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এইসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা (হেডম্যান), ভরত চন্দ্র কার্বারী এবং সংস্থা’র অন্যান্য মাঠ কর্মীরা।

ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ৪০ কেজি, তেল ৩ লিটার, চিনি ১ কেজি, ডাল ২ কেজি, লবণ ১ কেজি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, রসুন ৫০০ গ্রাম, নাপ্পি ১ কেজি, বালতি ২০ লিটার ১টি, লাইফ বয় সাবান ২টি, প্লাস্টিক মগ ১টি, ওরস্যালাইন ১০টি, গামছা ১টি, ডিটারজেন্ট পাউডার ১ কেজি, বদনা ১টি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১০টি।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

চিৎমরমে বুদ্ধ পূর্ণিমায় উৎসবের আমেজ বোধিবৃক্ষে জল ঢেলে মৈত্রী প্রার্থনা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কৃষি অফিস কর্তৃক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা ঘাট হতে এইসব বীজ ধান বিতরণ করা হয়। মোট ধানের বীজ- ৩৫৫ জনের মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে ২৫৫, সদর ৭০, কেংড়াছড়ি ৩০ জনকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, সুকান্ত কুমার মোদক, রুবেল বড়ুয়া প্রমূখ।

×