শিরোনাম:

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ের পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কৃষকরা। মাঠজুড়ে এখন একটাই চিত্র—বোরো ধান বাঁচাতে কৃষকদের অবিরাম লড়াই। প্রকৃতির প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা যেন থেমে গেছে। সারা বছরের কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে পানির স্রোতে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক জমিতে পাকা ও আধাপাকা ধান ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও স্রোতের পানিতে ধান ভেসে যাচ্ছে।


স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে তারা হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ের পানির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় তাদের সব পরিশ্রম এখন হুমকির মুখে।

কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে ধান লাগাইছিলাম। ঋণ করে সার, বীজ, সেচের খরচ দিছি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।” আরেক কৃষক জানান, অনেক জমিতে এখনো হাঁটুসমান পানি জমে আছে। দ্রুত পানি না নামলে অবশিষ্ট ধানও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের চোখে এখন হতাশার ছায়া। তারা বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে একা সম্ভব নয়। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পেলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।


স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃষকদের দাবি—ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হোক। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। প্রকৃতির সঙ্গে এই কঠিন লড়াইয়ে কৃষকরা এখনো হাল ছাড়েননি। তারা আশাবাদী—সময়মতো সহায়তার হাত বাড়ালে আগামীতে আবারও সোনালী বোরো ধানে ভরে উঠবে বাঘাইছড়ির মাঠ।

বান্দরবানে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে করে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (৪ মে) বেলা ১১ টায় উপজেলার বড়ুয়া পাড়া হতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাচিং প্রু জেরী।

উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সাচিং প্রু জেরী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়নে পানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা কমবে, অন্যদিকে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, যা কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, সরকারের এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মোজাম্মেল হক অফিসার ইনচার্জ নাইক্ষ্যংছড়ি থানা,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচ প্রু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফায়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে,এই খাল ২.৫০ কিলোমিটার খনন করা হবে যার ব্যয় হবে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা। কাজ করছে ২৬৯ জন শ্রমিক। এর আওতায় নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বড়ুয়াপাড়া, বিছামারা, বাগানঘোনা, মন্ডইল্লাঘোনা,চাক হেডম্যান পাড়া,মধ্যম চাক পাড়াসহ আাড়াই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খালগুলো পুনঃখননের ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে, কমবে জলাবদ্ধতা। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ হওয়ায় কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে খাল খনন প্রকল্পটি চরভদ্রাসনের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিলাইছড়িতে দুর্যোগ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বিলাইছড়িতে দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি দুর্যোগ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ১১ টায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসনাত জাহান খান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফর আহাম্মদ, উপজেলা বিএনপি যুবদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম রনি, উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডাঃ কনিষ্ক চাকমা, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম আজম, থানা অফিসার ইনচার্জ এর প্রতিনিধি এফএম তানভীর আলম (এসআই) বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা শান্তি বরন তালুকদার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়া, পিআইও অফিসের সুমন গাজী, আজগর প্রমূখ।

সভায় টানা বৃষ্টিপাত কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে বা কোথাও পাহাড় ধ্বস কিংবা বন্যায় কবলিত নতুবা  কোনক্রমে দুর্যোগে ক্ষতি গ্রস্থ হলে পাশে থেকে সেবা দিবে এই টীমগুলো। প্রয়োজনে উপজেলা মিলনায়তন সহ  ইউনিয়ন ভিত্তিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হবে। সঙ্গে মেডিকেল টীম থাকবে। এছাড়াও বিলাইছড়ি টু রাঙ্গামাটি এবং বিলাইছড়ি টু কাপ্তাই নৌপথে লঞ্চ ও বোট মালিকদের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট বা লাইফ সাপোর্ট বা জীবন রক্ষার সরঞ্জাম রাখাতে বলা হয়।

রাজস্থলীতে তে কাপ্তাই তথ্য অফিসের কর্তৃক ফ্যামেলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার তথ্য অফিসের উদ্যোগে রাজস্থলীতে ফ্যামেলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলার রাজস্থলী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত ফ্যামেলি সমাবেশে।এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজস্থলী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার।

কাপ্তাই উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ফ্যামেলি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাজেরুল ইসলাম, থানছি কলেজের প্রভাষক জীতন ত্রিপুরা, বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলি প্রমুখ।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজস্থলী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,বর্তমান  সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ,দ্রব্যমূল্য নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ, স্বাস্থ্য সেবা, নারীর জন্য গাড়ি ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করছে । সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতার পাশাপাশি সারা দেশে বৃক্ষরোপণ, বৈষম্যহীন সমাজ ও দেশ গঠন করতে  মায়েদের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি এ সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজে অগ্রগতি ভূমিকা অপরিসীম নারীদেরকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।

এ সময় বাজার  এলাকার দুই শতাধিক নারী, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

×