| ২৩ মে ২০২৬
শিরোনাম:

মানিকছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

মানিকছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকার থেকে অজ্ঞাত (বয়স আনুমানিক ৫০) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গচ্ছাবিল গোঁসাই মন্দিরের পাশে অপু দাশ গুপ্ত নামের এক কিশোর লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

মানিকছড়ি থানার এস আই সৈয়দ আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে লাশের নাম পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশে ধারণা নিহত ব্যক্তি একজন মানুষিক ভারসাম্যহীন হিসেবেই এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। তিনি বিভিন্ন দোকানে ঘুরে চা-নাস্তা এবং খাবার খুঁজে খেতেন।

মানিকছড়ি থানা পুলিশ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান।

থানচিতে অপহৃত ঠিকাদার উদ্ধার, মুক্তিপণের ৩ লাখ টাকাসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসী আটক।

মানিকছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

 

উশৈনু মারমা; থানচি সংবাদদাতা:

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি উপজেলা থানচিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পরিচালিত এক দুঃসাহসিক ও সুপরিকল্পিত অভিযানে অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেন (৫০)-কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকা, অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রোকে হাতেনাতে আটক করেছে বিজিবি।

এ ঘটনায় পুরো থানচি উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল, বিজিবির এ সফল অভিযান সেই পরিস্থিতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিস্তারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। অপহরণের পর ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
অপহৃত ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় একপর্যায়ে অপহরণকারীদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয় পরিবার। তবে বিষয়টি গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে বিজিবি।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন সার্বিক অভিযান তদারকি করেন। তার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় জোনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস আভিযানিক দল দ্রুত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত এবং পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি জোরদার করে।

বিজিবি জানায়, অপহৃত ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অপহরণকারীরা ছিল সশস্ত্র এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছিল। ফলে যেকোনো ভুল পদক্ষেপে জিম্মির প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল প্রবল। এ অবস্থায় অত্যন্ত ধৈর্য, সতর্কতা ও কৌশলের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গভীর রাতে থানচি উপজেলার দুর্গম বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির বিশেষ আভিযানিক দল। দীর্ঘ সময় গোপন নজরদারি ও কৌশলগত অবস্থান গ্রহণের পর অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই অপহৃত ঠিকাদার মোঃ আমু হোসেনকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

একই সময়ে অপহরণকারী সশস্ত্র চক্রের সদস্য মাংলে ম্রোকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি আরো জানায়, আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানচি অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র, অপহরণ নেটওয়ার্ক ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দিলে অপহরণ, ভয়ভীতি ও হামলার মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এসব কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি আরও জানায়, পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাস নির্মূলে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে খুব শিগগিরই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পাহাড়ি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “বান্দরবানের থানচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অপহরণ, চাঁদাবাজি কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

এদিকে বিজিবির এ সফল অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ পাহাড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিজিবির এ সাহসী ও সময়োপযোগী অভিযানের প্রশংসা করেছেন।

আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও নিশ্চিত করেছে বাহিনী।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় নির্যাতিত শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

মানিকছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় ধর্ষণচেষ্টায় আহত চার বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২১মে)২৬ খ্রিঃ রাতে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেন।

মেয়র হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। শিশুটির মাকে তিনি চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুর প্রতি এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি ইতোমধ্যে শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। আমি কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি একজন চিকিৎসক এবং সন্তানের বাবা হিসেবে এ শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিলাম।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও কথা বলেছি, যাতে কোনো অপরাধী ছাড় না পায়।

পরে হাসপাতালে শিশুটির এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত চিকিৎসাধীন সাংবাদিকদেরও খোঁজখবর নেন মেয়র। তিনি সাংবাদিকদের চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

পুলিশ জানায়, চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় একটি ডেকোরেশনের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ডেকোরেশন কর্মচারীকে আটক করে।

এসময় মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সামিউল।

খাগড়াছড়ির গুইমারা খাল খননের কাজেই ব্যবহৃত স্কেভেটর পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা

মানিকছড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির গুইমারাতে সরকারি কাজের কর্মসূচী হিসেবে খাল খননের কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটর (খননযন্ত্র) পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কোন এক সময়ে গুইমারায় হাফছড়ি ইউনিয়নের পিলাক খাল খনন কাজেই ব্যবহৃত স্কেভেটরে আগুন দেয় তারা। এতে স্কেভেটরটি পুড়ে গিয়ে প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায় ও স্থায়ীরা জানান, সারা দেশের ন্যায় খাগড়াছড়ির গুইমারায় (২১ মে) খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি খাল খনন কাজ উদ্বোধন করেন। এরই অংশ হিসেবে পিলাক খালের খনন কাজ চলছি। গতকাল রাতে বেলায় স্কেভেটরের তেলে ট্যাংক খুলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুবৃর্ত্তরা।

পাহাড়ের শান্তি চুক্তির বহু বছর পরেও পাহাড়ে অস্ত্রের উপস্থিতি ও সহিংস ঘটনার খবর উদ্বেগজনক বাড়ছে। প্রায়ই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার প্রভাব পড়ে নিরীহ মানুষের জীবনে। উন্নয়ন কাজেি বাধাগ্রস্ত হলে পিছিয়ে পড়ে পুরো পার্বত্য অঞ্চল।পাহাড়ের সাধারণ মানুষ চাই, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সহাবস্থান ও উন্নয়ন নিশ্চিত হোক।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিসকাতুল তামান্না। গুইমারায় থানার ওসি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী জানায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় দোষীদের খুঁজে আইনের আওতায় চেষ্টা চলছে।

×