চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণে মামলা দায়ের
এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :
ঢাকার পল্লবীর চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসাকে ধর্ষন ও নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সারা দেশ যখন উত্তাল ঠিক সেসময় চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নগরবাসী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে)২৬ খ্রি: শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা বলেন, (ভুক্তভোগী- শিশুর পিতা) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন, মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) নগরের চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। পরে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির স্থানীয়দের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন-এমন একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিকেল ৪ টার সময় স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে চেয়ারম্যানঘাটার “বিসমিল্লাহ ম্যানশন” নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভাঙার চেষ্টাও করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়।
বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে স্থানীয়রা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরে রাত ৮ টার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয়দের বাধার মুখে প্রথমদিকে পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যেতে পারেনি। পরে রাত ১১ টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

| ২৩ মে ২০২৬





