| ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম

প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম

 

পানছড়ি থেকে ফিরে এসে মিঠুন সাহা :

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আগে উল্টাছড়ি ও আশপাশের এলাকাগুলো শিক্ষার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। যাতায়াতের অসুবিধা ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা সেখানেই থেমে যেত।

উল্টাছড়ি এলাকা থেকে পানছড়ি বাজারের উচ্চ বিদ্যালয়গুলো ছিল অনেক দূরে। ফলে প্রতিদিন দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন ছিল। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের পক্ষে বাড়তি শিক্ষা ব্যয় বহন করাও সম্ভব হতো না। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর পর অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ হয়ে উঠত না।

এমন বাস্তবতায় ১৯৯৯ সালে উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এলাকাবাসীর জন্য শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের পাশাপাশি এলাকার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম। তাঁর উদ্যোগ, প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ধীরে ধীরে এলাকার শিক্ষার চিত্র বদলাতে শুরু করে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাছেই স্বল্প খরচে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতেন এবং পড়ালেখার প্রতি উৎসাহিত করতেন। তাঁর এই প্রচেষ্টা শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০১০ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়। বর্তমানে উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধু উল্টাছড়ি এলাকার শিক্ষার্থীরাই নয়, মরাটিলা, জিয়ানগর, মধ্যনগর, মোল্লাপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

এই বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। কেউ কেউ নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিতও হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়টি এখন শুধু একটি এলাকার নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

আজকের জনবাণী পত্রিকার পানছড়ি প্রতিনিধি আল-আমিন হোসেন বলেন, “উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে এ অঞ্চলের শিক্ষার চিত্র ছিল অনেকটা হতাশাজনক। বিশেষ করে যাতায়াতের অসুবিধা ও আর্থিক সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেত। ১৯৯৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে উল্টাছড়ি, মরাটিলা, জিয়ানগর, মধ্যনগর, মোল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে একটি পিছিয়ে থাকা এলাকার শিক্ষার পরিবেশ পরিবর্তন করতে পারে, উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিদ্যালয়ের মূল উদ্যোক্তা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামসহ যারা প্রতিষ্ঠার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।”

স্থানীয়দের মতে, উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এলাকার শিক্ষার চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যে এলাকায় একসময় যাতায়াতের অসুবিধা ও আর্থিক সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা থেমে যেত, আজ সেই এলাকার শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় তাই শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি পিছিয়ে থাকা জনপদের শিক্ষার অগ্রযাত্রা ও পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান প্রতীক। আগামী দিনে আরও উন্নত শিক্ষা পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

রাঙামাটি পাসপোর্ট অফিস ও পৌরসভা কার্যালয়ে সাবেক মন্ত্রী এ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপি’র আকস্মিক পরিদর্শন

প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট, রাঙামাটি :

রাঙামাটির ২৯৯ নং আসনের সাংসদ সদস্য এ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপি মহদোয়ের রাঙামাটি পাসপোর্ট অফিস ও পৌরসভা কার্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি জেলা কমিটির সিনিয়র নেতা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো, সাবেক কাউন্সসিলর মো: হেলাল উদ্দিন সহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটির পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট জটিলতার সুবিধা-অসুবিধার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। এরপর পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন এবং পাসপোর্ট জটিলতা নিরসনে কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

 

অপরদিকে, রাঙামাটির পৌর এলাকার জনসাধারণের গতিশীলতা ফেরাতে প্যানেল পৌর প্রশাসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে এমপি মহোদয় মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি রাঙামাটি পৌরসভাকে আধুনিকায়ন সহ পৌরবাসীদের সার্বক্ষণিক সেবা দেয়াসহ নানাবিধ বিষযের ওপর দিকনির্দেশনা দেন।

রাঙামাটি পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং জনগণের স্বার্থে দৌড়গড়ায় সেবা দিতে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছেন বলে সাংসদ সদস্য এ্যাড. দীপেন দেওয়ান এমপি পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

বাঘাইছড়িতে সরকারি আইনগত সহায়তা নিয়ে সচেতনতামূলক সভা

প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম

 

আনোয়ার হোসেন,
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা মিনি কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙ্গামাটি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিচারক এ এস এম ইমরান, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আমানত ইসলাম শাহীন, সিনিয়র লিগ্যাল জজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দীন বাবু, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর আলম, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার এবং বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রদত্ত বিভিন্ন সেবা, সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদন করার পদ্ধতি, বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা গ্রহণের সুযোগ এবং মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা, আইনি পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের সেবা, আবেদনপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া এবং সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদনের নিয়ম সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করা হয়।

এ সময় অসচ্ছল, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, অর্থের অভাবে কোনো নাগরিক যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইডের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভায় সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে এ সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য নন্দিতা দাশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে উপজেলা যুবদল ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ

প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ করতেন প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বিলাইছড়ি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য নন্দিতা দাশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিলাইছড়ি উপজেলা যুবদল, উপজেলা মহিলা দল এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিজ কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী দিলু আরা বেগম, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রায় চাকমা (রায়বাবু) এবং উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদা বেগম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ওমর ফারুক (মনি), উপজেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি রত্না বেগম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ববিতা চাকমা, সদস্য প্রীতি তঞ্চঙ্গ্যা, যুবদলের সদস্য অধীর লাল চাকমা, ফারুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি যতীন তঞ্চঙ্গ্যা, সাধারণ সম্পাদক অংলা মার্মা, সাংগঠনিক সম্পাদক নিত্যলাল তঞ্চঙ্গ্যা, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মনির হোসেন, সহ-সভাপতি মো. রফিক মীর, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক ইমন চাকমা, কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের বিনয় ভূষণ চাকমা, মিলন চাকমা ও ফাক্কো চাকমাসহ উপজেলা মহিলা দল, সদর ইউনিয়ন যুবদল ও ফারুয়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ।

×