| ৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়ের মারমা নারীরা জীবিকা নির্বাহ পরিশ্রম এক সংগ্রাম জীবন

পাহাড়ের মারমা নারীরা জীবিকা নির্বাহ পরিশ্রম এক সংগ্রাম জীবন

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

পার্বত্য চট্টগ্রাম এর দক্ষিণ অঞ্চলে রাঙামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত একটি মারমা আদর্শ গ্রাম এর মারমা নারীরা নিজেদের জীবিকা নির্বাহ পরিশ্রম এক সংগ্রাম জীবন মারমা নারী দৃশ্যমান পথ চলতে দেখা গেছে।

রবিবার (৮ জুন) মাঠ পর্যায় সরেজমিনে ঘুরে এসে দেখা গেছে, এক মারমা আদর্শ গ্রামের দুঃস্থ দরিদ্র পরিবারের বেঁচে থাকা মান্না রে মারমা নারীরা বিভিন্ন প্রান্তে অদূরে ক্ষেত খামার কৃষি কাজে জীবিকা নির্বাহের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, পাহাড়ের বসবাসরত মারমা নারী পুরুষের পাশাপাশি মারমা নারী জনগোষ্ঠীরা বিভিন্ন কাজে কষ্টের পরিশ্রমে এক সংগ্রাম জীবন মারমা নারী।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা নারীরা পূর্বপুরুষ আমল হতে পরিবারের ভরণ-পোষণ ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীরা পরিশ্রম জীবিকা নির্বাহ উপার্জনের অবদান রয়েছে এক প্রসংসনীয় বলা যায়। পাহাড়ের শৈশবকালে মারমা নারীরা জীবিকা নির্বাহে পরিশ্রম সফল চাবিকাঠি নিজে বেঁচে থাকার পিছিয়ে নেই বলে জানা যায়। মারমা নারীরা সবদিক দিয়ে নিজেদের পরিশ্রম জীবিকা নির্বাহ উর্পাজনকে মনে প্রাণে ভালোবাসে এভাবে বহুদূর পথ চলা। তাই মারমা নারীরা শত কষ্টের পরিশ্রমের বিনিময়ে নিজের পরিবার সংসারকে হাল ধরে অন্যদিকে গৃহিণী হিসাবে পরিচয় মূখ দিতে চাই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠী মারমা নারীরা বিভিন্ন কাজেও পারদর্শী। পরিবারে গৃহস্থালী কাজেও দৈনন্দিন প্রতিনিয়ত কাজে লিপ্ত থাকে। অন্যদিকে পরিশ্রমের তুলনা তাদের মজুরি ন্যায্য মূল্য এখনো সঠিক নির্ধারিত মূল্য শ্রমের বঞ্চিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা নারীরাও নিজের জীবনকে বলে দিতে চায় যা পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নিজের আর্থ সামাজিক পরিবর্তনশীল করতে চায়।

কয়েকজন নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক গণমাধ্যমকে জানান, আমরা নারী হয়ে পুরুষের চেয়ে কম না বিভিন্ন পরিশ্রম কাজেও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চায় তবে একদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীদের মজুরী নির্ধারিত মূল্য এখনো সঠিক নাই। আমরা পাহাড়ের বসবাসরত মারমা নারীরা জন্মগতভাবে নিজের পরিশ্রমকে আপন মনে করি। রোদ বৃষ্টি ঝড় তুফান মোকাবেলার মধ্যে দিয়ে আমরা বিভিন্ন কাজে কৃষি ক্ষেত খামার সহ নানান কাজে এভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য অর্থ উর্পাজন ও পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আর নিজের আর্থ সামাজিক পরিবর্তনে পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা নারীরা পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এখানে উৎপাদনের বিভিন্ন ফলজ বনজ শাক-সবজি সহ ফলমূল বাজারে এসে বিক্রি ন্যায্য মূল্য সঠিক পাইনা বলে নারীরা দুঃখ প্রকাশ করেন।

আসুন আমরা নারীর প্রতি মর্যাদা সহ মারমা নারীদেরকে সম্মান শ্রদ্ধা করতে পারি। এরা সমাজকে উন্নয়নের দিকে পরিবর্তনশীল দেখতে আশাবাদী। তবে পুরুষের পাশাপাশি পাহাড়ের মারমা নারীরা বিভিন্ন কাজে উন্নয়নের অবদান রাখতে চায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা নারীদেরকেও সকালে স্যালুট জানাই। ভবিষ্যতেও পাহাড়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নারীদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য মজুরি ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা কামনা করি।

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবারের বসতভিটা — জরুরি ভিত্তিতে গ্রেটওয়াল নির্মাণের দাবি

পাহাড়ের মারমা নারীরা জীবিকা নির্বাহ পরিশ্রম এক সংগ্রাম জীবন

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে ছড়ার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির ছড়ায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। মাত্র প্রায় ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছড়ার পানি ইতোমধ্যে পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলায় ভারী বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রেটওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্রেটওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই গ্রেটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্রেটওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।

বিলাইছড়িতে আশিকা কর্তৃক আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

পাহাড়ের মারমা নারীরা জীবিকা নির্বাহ পরিশ্রম এক সংগ্রাম জীবন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট বিলাইছড়ি উপজেলায় আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। গতকাল সহ দুই দিনে ছয়শত পরিবারের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টা হতে আশিকার ইউনিয়ন ফোকাল পারসন সুজন তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে  ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এইসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা (হেডম্যান), ভরত চন্দ্র কার্বারী এবং সংস্থা’র অন্যান্য মাঠ কর্মীরা।

ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ৪০ কেজি, তেল ৩ লিটার, চিনি ১ কেজি, ডাল ২ কেজি, লবণ ১ কেজি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, রসুন ৫০০ গ্রাম, নাপ্পি ১ কেজি, বালতি ২০ লিটার ১টি, লাইফ বয় সাবান ২টি, প্লাস্টিক মগ ১টি, ওরস্যালাইন ১০টি, গামছা ১টি, ডিটারজেন্ট পাউডার ১ কেজি, বদনা ১টি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১০টি।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

পাহাড়ের মারমা নারীরা জীবিকা নির্বাহ পরিশ্রম এক সংগ্রাম জীবন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কৃষি অফিস কর্তৃক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা ঘাট হতে এইসব বীজ ধান বিতরণ করা হয়। মোট ধানের বীজ- ৩৫৫ জনের মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে ২৫৫, সদর ৭০, কেংড়াছড়ি ৩০ জনকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, সুকান্ত কুমার মোদক, রুবেল বড়ুয়া প্রমূখ।

×