শিরোনাম:

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাস্তার ধারে, পাহাড়ি ঢালে আর ঝোপঝাড়ে ফুটে থাকা ভাটফুলে বাড়ছে রাজস্থলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ,,রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদ রাজস্থলী উপজেলা এখন প্রকৃতির এক নীরব সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ঢাল, গ্রামীণ রাস্তার পাশ, বন-ঝোপ আর পতিত জমিতে ফুটে উঠেছে সাদা রঙের ভাটফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজ প্রকৃতির বুকে সাদা তুলোর মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ফুল।

প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য স্থানীয় মানুষ ও পথচারীদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। সকাল কিংবা বিকেলের নরম আলোয় ফুটে থাকা ভাটফুল যেন পাহাড়ি প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত ও নান্দনিক করে তুলেছে।

স্থানীয়দের মতে, ভাটফুল সাধারণত ঝোপঝাড় বা বনাঞ্চলের পাশে স্বাভাবিকভাবেই জন্মায়। কোনো বিশেষ যত্ন ছাড়াই এই ফুল প্রকৃতির আপন নিয়মেই ফুটে ওঠে। বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মের শুরুতে এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।

পাহাড়ি এলাকার মানুষ জানান, প্রতিবছর এই সময়টায় ভাটফুল ফুটলে চারপাশের পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। অনেকেই হাঁটতে বের হয়ে বা কাজের ফাঁকে কিছু সময় দাঁড়িয়ে এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

রাজস্থলীর এক বাসিন্দা বলেন, ভাটফুল আমাদের পাহাড়ি এলাকার খুব পরিচিত একটি ফুল। যখন এগুলো একসাথে ফুটে থাকে তখন পুরো এলাকা যেন সাদা ফুলে ঢেকে যায়। প্রকৃতির এই দৃশ্য সত্যিই মন ভালো করে দেয়।”

আরেক স্থানীয় তরুণ বলেন, আমরা অনেক সময় শহরের সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলি, কিন্তু আমাদের গ্রাম ও পাহাড়ে যে এমন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আছে, তা অনেকেই জানে না। ভাটফুল ফুটলে রাজস্থলীর প্রকৃতি অন্যরকম লাগে।”
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অংশ।

উদ্ভিদবিদদের মতে, ভাটগাছ একটি বুনো উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrum viscosum। গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি সহজেই জন্মায় এবং স্থানীয় পরিবেশের জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়া লোকজ চিকিৎসাতেও ভাটগাছের কিছু ব্যবহার রয়েছে বলে জানা যায়। যদিও বর্তমানে এসব বিষয়ে সচেতনতা কমে গেছে, তবুও প্রকৃতির এই উদ্ভিদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা মনে করেন, পাহাড়ি জনপদের এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন। রাস্তার ধারে বা বনাঞ্চলের ঝোপঝাড় অযথা পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক সময় এসব প্রাকৃতিক গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়।

তাদের মতে, ভাটফুলসহ বিভিন্ন বুনো ফুল পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা গেলে রাজস্থলীর প্রকৃতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

স্থানীয় নাম: ভাটফুল, বৈজ্ঞানিক নাম: Clerodendrum viscosum

ফুলের রং: সাদা, জন্মস্থান: ঝোপঝাড়, পাহাড়ি ঢাল ও পতিত জমি ফুটার সময়: বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মের শুরু

উল্লেখ্য,প্রকৃতির এই ছোট্ট ফুলটি হয়তো খুব পরিচিত নয়, কিন্তু এর সৌন্দর্য নিঃসন্দেহে রাজস্থলীর পাহাড়ি পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সাদা ভাটফুলের এই মুগ্ধতা যেন প্রতিদিনই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্য অনেক সময় আমাদের একেবারে কাছেই লুকিয়ে থাকে।

কাপ্তাইয়ে ধুমধাম করে চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের ঈদ উপহার বিতরণ

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পেপার মিলস (কেপিএম) এলাকায় অবস্থিত সামাজিক সংগঠন ‘চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসর’-এর উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

‘আনন্দময় শৈশব চাই, সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

​রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেল ৩টায় কেপিএম আবাসিক এলাকার খেলাঘর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

​অনুষ্ঠানে আবাসিক এলাকার প্রায় ১৫০ জন হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।

​উপহার বিতরণকালে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন,”চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসর প্রতিবছরই আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসে। এই উপহার বিতরণের মাধ্যমে এলাকার অসহায় মানুষগুলোর ঈদ আনন্দে অংশীদার হওয়ার যে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তারা নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি, আগামী দিনেও তাদের এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

​চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসরের সভাপতি ও কেপিএম-এর হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড এর মহা ব্যবস্থাপক (এমটিএস) আবুল কাশেম রনি, সিনিয়র সাংবাদিক ও চম্পাকুঁড়ি খেলাঘর আসর এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন সাগর, সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব আনিসুর রহমান,সাংবাদিক রবিউল হোসেন চৌধুরী রিপন প্রমখ। এসময় গণমাধ্যম কর্মীসহ কমিটির সদস্যরা অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সংগঠনের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা খেলাঘর আসরের এই সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন এবং বিত্তবানদের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

“কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলীর তীরে জমবে সীতামেলা” মহাবারুণী স্নানে অংশ নেবেন 

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে প্রাগৈতিহাসিক তীর্থভূমি সীতাঘাট শ্রীশ্রী মাতা সীতাদেবী মন্দিরে আগামী ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মহা বারুনী স্নান, সীতামেলা ও মহানামযজ্ঞ। এই উৎসবে দেশ-বিদেশের প্রায় ১০ হাজার পুণ্যার্থীর আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজক কমিটি।

মন্দির পরিচালনা কমিটির তথ্যমতে, আগামী ১৬ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। প্রধান আকর্ষণ মহাবারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হবে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার। মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি অনুযায়ী এই পুণ্যস্নানের আয়োজন করা হয়েছে। স্নান ছাড়াও এদিন দিনব্যাপী সীতামেলা এবং অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রীশ্রী মাতা সীতাদেবী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমলেন্দু বিকাশ দাশ বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বারুণী স্নান উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি ১০ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থী এবারের উৎসবে যোগ দেবেন। আগত সকল ভক্তের জন্য মন্দিরে মহাপ্রসাদের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জ্যোতির্ময়ানন্দ পুরী মহারাজ বলেন, “কাপ্তাই সীতাঘাট মন্দির এখন কেবল দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এক সুপরিচিত মহাতীর্থ। ১৭ মার্চ মঙ্গলবার হাজার হাজার ভক্ত কর্ণফুলী নদীতে পুণ্যস্নান শেষে সীতাদেবী মন্দির, শম্ভুনাথ মন্দির ও কালিমন্দির দর্শন করবেন। ভক্তদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
​কর্ণফুলী নদীর তীরের এই সীতাদেবীর মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য। প্রতি বছর বারুণী স্নান উপলক্ষে এখানে এক মিলনমেলা তৈরি হয়, যা কাপ্তাইয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ।

দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে ৬০০ কার্ডধারী মহিলাদের চাল বিতরণ

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বিলাইছড়ি উপজেলার অতি দুর্গম ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নে ভালনার‍েবল উইমেন বেনিফিট (VWB) কর্মসূচীর আওতায় উপকারভোগী কার্ডধারী মহিলাদের মাঝে চাউল বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা নিজেই এইসব চাউল (চাল) বিতরণ করেন। বিতরণের সময় ত্যাগ অফিসার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নিত্যলাল তঞ্চঙ্গ্যার প্রতিনিধি হিসেবে  কনক তঞ্চঙ্গ্যা।

রবিবার (১৫ই মার্চ) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর-এর বাস্তবায়নে  ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ হতে ৬০০ জন সুফলভোগীর মাঝে চাল ৩০ কেজি হারে বিতরণ করা হয়েছে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা,সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডের মনিলতা তঞ্চঙ্গ্যা, ৪, ৫, ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার সুমিতা দেবী তঞ্চঙ্গ্যা, ৭, ৮, ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার চোখপুরী তঞ্চঙ্গ্যা। আরও ছিলেন  ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা, আনন্দ তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তি কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, রিনু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, সিদ্ধার্থ চাকমা, যতিন তঞ্চঙ্গ্যা, সুবানন্দ তঞ্চঙ্গ্যা এবং মালসম পাংখোয়া।

×