| ৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাস্তার ধারে, পাহাড়ি ঢালে আর ঝোপঝাড়ে ফুটে থাকা ভাটফুলে বাড়ছে রাজস্থলীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ,,রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদ রাজস্থলী উপজেলা এখন প্রকৃতির এক নীরব সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ঢাল, গ্রামীণ রাস্তার পাশ, বন-ঝোপ আর পতিত জমিতে ফুটে উঠেছে সাদা রঙের ভাটফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজ প্রকৃতির বুকে সাদা তুলোর মতো ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ফুল।

প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য স্থানীয় মানুষ ও পথচারীদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। সকাল কিংবা বিকেলের নরম আলোয় ফুটে থাকা ভাটফুল যেন পাহাড়ি প্রকৃতিকে আরও প্রাণবন্ত ও নান্দনিক করে তুলেছে।

স্থানীয়দের মতে, ভাটফুল সাধারণত ঝোপঝাড় বা বনাঞ্চলের পাশে স্বাভাবিকভাবেই জন্মায়। কোনো বিশেষ যত্ন ছাড়াই এই ফুল প্রকৃতির আপন নিয়মেই ফুটে ওঠে। বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মের শুরুতে এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।

পাহাড়ি এলাকার মানুষ জানান, প্রতিবছর এই সময়টায় ভাটফুল ফুটলে চারপাশের পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। অনেকেই হাঁটতে বের হয়ে বা কাজের ফাঁকে কিছু সময় দাঁড়িয়ে এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

রাজস্থলীর এক বাসিন্দা বলেন, ভাটফুল আমাদের পাহাড়ি এলাকার খুব পরিচিত একটি ফুল। যখন এগুলো একসাথে ফুটে থাকে তখন পুরো এলাকা যেন সাদা ফুলে ঢেকে যায়। প্রকৃতির এই দৃশ্য সত্যিই মন ভালো করে দেয়।”

আরেক স্থানীয় তরুণ বলেন, আমরা অনেক সময় শহরের সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলি, কিন্তু আমাদের গ্রাম ও পাহাড়ে যে এমন সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আছে, তা অনেকেই জানে না। ভাটফুল ফুটলে রাজস্থলীর প্রকৃতি অন্যরকম লাগে।”
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অংশ।

উদ্ভিদবিদদের মতে, ভাটগাছ একটি বুনো উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম Clerodendrum viscosum। গ্রামবাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি সহজেই জন্মায় এবং স্থানীয় পরিবেশের জীববৈচিত্র্যের একটি অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়া লোকজ চিকিৎসাতেও ভাটগাছের কিছু ব্যবহার রয়েছে বলে জানা যায়। যদিও বর্তমানে এসব বিষয়ে সচেতনতা কমে গেছে, তবুও প্রকৃতির এই উদ্ভিদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা মনে করেন, পাহাড়ি জনপদের এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন। রাস্তার ধারে বা বনাঞ্চলের ঝোপঝাড় অযথা পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক সময় এসব প্রাকৃতিক গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়।

তাদের মতে, ভাটফুলসহ বিভিন্ন বুনো ফুল পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা গেলে রাজস্থলীর প্রকৃতি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

স্থানীয় নাম: ভাটফুল, বৈজ্ঞানিক নাম: Clerodendrum viscosum

ফুলের রং: সাদা, জন্মস্থান: ঝোপঝাড়, পাহাড়ি ঢাল ও পতিত জমি ফুটার সময়: বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মের শুরু

উল্লেখ্য,প্রকৃতির এই ছোট্ট ফুলটি হয়তো খুব পরিচিত নয়, কিন্তু এর সৌন্দর্য নিঃসন্দেহে রাজস্থলীর পাহাড়ি পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সাদা ভাটফুলের এই মুগ্ধতা যেন প্রতিদিনই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্য অনেক সময় আমাদের একেবারে কাছেই লুকিয়ে থাকে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে থানচিতে গণসংহতি আন্দোলনের গণসমাবেশ

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন এবং নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণসমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে থানচি বাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপজেলা শাখার অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক উ থোয়াই ওয়াং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের জাতি বৈচিত্র্য বিষয়ক সম্পাদক উবা থোয়াই মারমা।

উপজেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী সিনয়া ম্রোর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন, উপজেলা সমন্বয়কারী মংসাই মারমা। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশন থানচি উপজেলা কমিটির সদস্য অং ম্যা থোয়াই মারমা। এছাড়াও সমাবেশে উপজেলা শাখার সদস্য শৈচৌওয়াং মারমা, রুমাজন ত্রিপুরা, রেমাক্রী ইউনিয়ন কমিটির সদস্য থংপং ম্রোসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। কিন্তু এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও চেতনা ধারণ করতে হলে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এ গণসমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ইয়ংম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

বিশেষ প্রতিনিধি, রাঙামাটি :

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ০৫ আগস্ট বুধবার সকালে ইয়ংম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজস্থলীতে ‘জুলাই জাতীয় গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, রচনা প্রতিযোগীতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

বিদ্যালয়’র সিনিয়র সহকারী শিক্ষক অরুপ কুমার মুৎসুদ্দীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্রানুচিং মার্মা এবং সুমিত্রা চাকমা।

বক্তারা বলেন, সকলের আগে জনতা, জনতার আগে দেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ এটাই আমাদের মনে রাখতে হবে। শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাইখালীতে দুস্থদের চাল বিতরণ করতে গিয়ে বিপাকে বিএনপি নেতা

রাজস্থলীর প্রকৃতিতে সাদা মুগ্ধতা—ভাটফুলে সেজেছে পাহাড়ি জনপদ

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত বন্যার্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ নিয়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি মো. আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হলেও পরিবহন ও লেবার খরচ বাবদ কিছু চাল সমন্বয় করাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ​

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কাপ্তাই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত ও হতদরিদ্র দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাইখালী ইউনিয়নে মোট ৮ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়, যার প্রথম ধাপে ৬ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া ২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ নিয়ে এলাকার কিছু মহলে কানাঘুষা শুরু হয়। ​

রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ক্যওসিংমং চৌধুরী জানান, পরিষদের বরাদ্দ অনুযায়ী রাইখালী ইউনিয়ন যথাযথ নিয়মেই ৮ মেট্রিক টন চাল পেয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজি মো. আবুল হাসেম গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, রাইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সহজে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল সংগ্রহ করতে পারেন না। এই বাস্তবটি মাথায় রেখে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরাসরি দুস্থদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। গত ৩০ জুন জীপ গাড়িতে করে ২ টন বা (৪০ বস্তা) চাল বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে ১৯১ জন দুস্থ পরিবারকে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ​

বিতরণকৃত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বড়খোলা পাড়া, ডংনালা পাড়া, পূর্ব কোদালা মারমা পাড়া, কারিগর পাড়া, ভালুকিয়াপাড়া, চাকোয়া পাড়া, বড়পাড়া, নাড়াইছড়ি পাড়া, কচুরি পাড়া, গবছড়া পাড়া, তিনছড়ি পাড়া, তিনছড়ি নোয়া পাড়া, তিনছড়ি মধ্যম পাড়া, কালামাইস্যা পাড়া, বটতলি পাড়া, গংগ্রি ছড়া, বালামছড়ি পাড়া, হাফছড়ি এবং জগনাছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাজি মো. আবুল হাসেম আরও বলেন, “জেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যখন চালগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তখন গাড়ি ভাড়া বা লেবার খরচের জন্য কোনো আলাদা বরাদ্দ বা অর্থ দেওয়া হয়নি। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় চাল পরিবহনের খরচ মেটানোর জন্যই সামান্য কিছু চাল সমন্বয় করে খরচ মিটানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিজ দলের একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি বা পাড়ায় পাড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে যাতায়াত খরচ বা পরিবহন ব্যয় সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না থাকায় অনেক সময় এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

×