শিরোনাম:

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধিঃ

কোনো জাতিকে যদি ধ্বংস করতে চাও তাহলে তার ভাষা ধ্বংস করে দেন তঞ্চঙ্গ্যা জাতির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষু মেলা অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি বক্তব্যে ৩০০নং বান্দরবান সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী তিনি একথা বলেন। তিনি রবিবার (১২ই এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় রোয়াংছড়ির বেক্ষ্যং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যায় মাঠে এক সভায় একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে তঞ্চঙ্গ্যা জাতিসত্তা নেতৃত্বে – কর্তৃত্বে শীর্ষে ছিলেন তিন পার্বত্য জেলায়। যাদের পরশে তঞ্চঙ্গ্যা জাতি সত্বা অনেক বেশি সম্বৃদ্ধশালী। বান্দরবান পার্বত্য জেলা-উপজেলার কাজ করার সময় সবার সাথে ভেরী ক্লোজ টু মি। তিনি আরও বলেন, তঞ্চঙ্গ্যা কমিউনিটি একটি রাজনৈতিক সামাজিক সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন এটা একটা খুবই পজিটিভ দিক। এজন্য রেস্টপেক্ট করি।

অনুষ্ঠানে ব্যানারে বাংলার পাশাপাশি নিজের ভাষাও (স্পেলিং) লিখে দিতে বলেন। আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাতিসত্বাকে স্বীকার ও স্বীকৃতি দিয়েছেন। বোমাং সার্কেলের অধীনে বান্দরবান প্রায় ১৪ টি  জাতিসত্বা রয়েছে। এজন্য বান্দরবানকে মিনি চিটাগং হিলট্রাক বলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফার বাস্তবায়নে ১১টি ক্ষুদ্র ভাষার মধ্যে ১০ টার অনুবাদ রয়েছে সেখানে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষাও অনুবাদ করা আছে। নিজস্ব যে কোনো ফাংশানে/অনুষ্ঠানে নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করা। সেটা তোমাদের অধিকার তোমাদের স্বীকৃতি। নারী ও পুরুষের নিজস্ব ট্রাডিশনাল পোশাক দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। এটা শুধু বাংলাদেশে প্রচারে নয় সারা বিশ্বে প্রচার হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪ জাতি সত্বার রাষ্ট্রীভাবে যেখাবে সুযোগ আসবে সেটা প্রোফার্লী তঞ্চঙ্গ্যা জাতিও পাবে। তঞ্চঙ্গ্যা জাতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান এবং গুনমুনি মহাজনের কথা স্বরণ করেন।

এরঁ আগে প্রধান অতিথি ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শুভ উদ্বোধন করেন সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কয়েকদিন  আগে ৭০০ টি ঘিলা উপহার দেন।

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা (বাতকস)-কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটি এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজমিন আলম তুলি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য  শৈসাঅং মার্মা, থানা অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব নাথ তঞ্চঙ্গ্যা, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অমিত ভূষণ তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজীব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা এবং সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাতকস কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির মহা-সচিব উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা।

এছাড়াও ঘিলা খেলা উপকমিটির আহ্বায়ক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্য বিবাহী কমিটির সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা, শাক্যমিত্র তঞ্চঙ্গ্যা এ্যাড. বিমল তঞ্চঙ্গ্যা, বিরলাল তঞ্চঙ্গ্যা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কেন্দ্রীয় বিষু উৎসবে ৪৭টি যুবক – যুবতীর দল অংশ গ্রহন করেন। সারারাত ধরে ঘিলা খেলা প্রতিযোগিতা, অতিথি আপ্যায়ন  ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং সকালে খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হন পাগলাছড়া পাড়া ও গুইনখ্যং তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া।

চিৎমরম সাংগ্রাইয়ের রঙে রঙিন পাহাড় ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলায় দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র রঙে এখন রঙিন পাহাড়। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা। মারমা সংস্কৃতির কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই এই বিশেষ আয়োজন। ​

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে কাপ্তাইয়ের বুদ্ধ বিহার সংলগ্ন মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, রঙিন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মারমা যুবকদের সাহসিকতা ও শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত এই হা-ডু-ডু খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ দর্শক সমবেত হন। মাঠের চারপাশে দর্শকদের করতালিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাংগ্রাই মূলত মারমা সম্প্রদায়ের নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব। জল কেলির (পানি খেলা) পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা এই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আয়োজক কমিটির আহবায়ক উথোয়াইমং মারমা পক্ষ থেকে জানানো হয়, ​”আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। সাংগ্রাইয়ের এই শুভক্ষণে হাডুডু খেলার মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন আনন্দ করছি, অন্যদিকে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।” চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও গ্রাম থেকে আসা একাধিক দল অংশগ্রহণ করে। দম নেওয়া আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছোঁয়ার এই লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। হা-ডু-ডু ছাড়াও এদিন হাড়ি ভাঙা, রশি টানাটানি, লাটিম এবং ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

​উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজন কেবল মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পাহাড়ের সকল জাতিসত্তার মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে। সাংগ্রাইয়ের এই আনন্দ যেন সারা বছর পাহাড়ে শান্তি ও সংহতির বার্তা বয়ে আনে। আজ সন্ধ্যায় বুদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য ‘সাংগ্রাই র্যালি’। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জল কেলি’ বা মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব। ​দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একুস্টিক ব্যান্ড শো, লটারি এবং ঐতিহ্যবাহী যাত্রা পালার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এরপর আগামী কয়েকদিন পাড়ায় পাড়ায় চলবে মৈত্রী পানিবর্ষণ ও মারমা সংস্কৃতির নানা আয়োজন।

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘বিষু মেলা’ উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদমে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ‎‎সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলার পানবাজারস্থ মালিপ্রু পাড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে ঘিলা খেলার ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা সম্প্রীতির মিলন-মেলায় পরিণত হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনাজোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি,পিএসসি। ‎এছাড়াও বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শান্তিমনি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক দীপু তঞ্চঙ্গ্যা, বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ইয়ংলোক ম্রোসহ কারবারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

‎উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’। জোন কমান্ডার আগ্রহভরে এই লোকজ খেলা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎তিনি বলেন, “পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। সকল সম্প্রদায়ের ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।” ‎ ‎উৎসবকে কেন্দ্র করে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল ও সতর্ক উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

‎এছাড়া উৎসব উপলক্ষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এলাকায় এক আনন্দঘন ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ‎ ‎

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই দুর্গম এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে এমন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর এ ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাংগ্রাইয়ের উৎসব জলকেলিতে উৎসবমুখর খাগড়াছড়ি

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিবাহী উৎসব সাংগ্রাই। উৎসব’কে কেন্দ্র কঠোর নিরাপত্তা চাদরে ডেকে রেখেছিল প্রশাসন। মারমা জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাংগ্রাই। উৎসব ঘিরে খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়া পাড়ার বটতলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জলকেলি।

বাংলা নববর্ষের সময়কে ঘিরে প্রতি বছর এই জলকেলি উদযাপন করে মারমা জনগোষ্ঠীর লোকজন। আজ সকাল ১০ টার দিকে পানখাইয়া পাড়ায় জলকেলি উৎসবে উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়রাম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

উদ্ধোধন শেষে জলকেলি পানি খেলায় অংশগ্রহণ করেন অতিথি’রা। সাংগ্রাই রিলং পোয়ে এর মাধ্যমে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে জল বা পানি ছিটিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দেয় এবং নিজেরা পবিত্র হয় বলে বিশ্বাস করে মারমা জনগোষ্ঠীর লোকজন।

মারমা উন্নায়ন সংসদের আয়োজনে ৫ দিনের উৎসবের চতুর্থ দিনে জলকেলি উৎসবে মেতেছে মারমা’রা। নিজেদের ঐতিবাহী পোষাক, ধর্মীয় আচার, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হয়, জলকেলি উৎসবে মধ্য দিয়ে। সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়। মারমা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আনন্দ ও নতুন বছরের সামাজিক সহাবস্থান দৃঢ় করে তোলে বলেন।

খাগড়াছড়িতে আয়োজিত সমন্বিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা পুরো আয়োজনকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। উৎসবে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়াসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি উৎসবকে আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। সব মিলিয়ে, এ আয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

×