| ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধিঃ

কোনো জাতিকে যদি ধ্বংস করতে চাও তাহলে তার ভাষা ধ্বংস করে দেন তঞ্চঙ্গ্যা জাতির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষু মেলা অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি বক্তব্যে ৩০০নং বান্দরবান সংসদীয় আসনে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী তিনি একথা বলেন। তিনি রবিবার (১২ই এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় রোয়াংছড়ির বেক্ষ্যং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যায় মাঠে এক সভায় একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে তঞ্চঙ্গ্যা জাতিসত্তা নেতৃত্বে – কর্তৃত্বে শীর্ষে ছিলেন তিন পার্বত্য জেলায়। যাদের পরশে তঞ্চঙ্গ্যা জাতি সত্বা অনেক বেশি সম্বৃদ্ধশালী। বান্দরবান পার্বত্য জেলা-উপজেলার কাজ করার সময় সবার সাথে ভেরী ক্লোজ টু মি। তিনি আরও বলেন, তঞ্চঙ্গ্যা কমিউনিটি একটি রাজনৈতিক সামাজিক সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন এটা একটা খুবই পজিটিভ দিক। এজন্য রেস্টপেক্ট করি।

অনুষ্ঠানে ব্যানারে বাংলার পাশাপাশি নিজের ভাষাও (স্পেলিং) লিখে দিতে বলেন। আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাতিসত্বাকে স্বীকার ও স্বীকৃতি দিয়েছেন। বোমাং সার্কেলের অধীনে বান্দরবান প্রায় ১৪ টি  জাতিসত্বা রয়েছে। এজন্য বান্দরবানকে মিনি চিটাগং হিলট্রাক বলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফার বাস্তবায়নে ১১টি ক্ষুদ্র ভাষার মধ্যে ১০ টার অনুবাদ রয়েছে সেখানে তঞ্চঙ্গ্যা ভাষাও অনুবাদ করা আছে। নিজস্ব যে কোনো ফাংশানে/অনুষ্ঠানে নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করা। সেটা তোমাদের অধিকার তোমাদের স্বীকৃতি। নারী ও পুরুষের নিজস্ব ট্রাডিশনাল পোশাক দেখে খুবই মুগ্ধ হয়েছি। এটা শুধু বাংলাদেশে প্রচারে নয় সারা বিশ্বে প্রচার হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪ জাতি সত্বার রাষ্ট্রীভাবে যেখাবে সুযোগ আসবে সেটা প্রোফার্লী তঞ্চঙ্গ্যা জাতিও পাবে। তঞ্চঙ্গ্যা জাতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি জানান এবং গুনমুনি মহাজনের কথা স্বরণ করেন।

এরঁ আগে প্রধান অতিথি ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট শুভ উদ্বোধন করেন সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কয়েকদিন  আগে ৭০০ টি ঘিলা উপহার দেন।

বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা (বাতকস)-কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটি এর আয়োজনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজমিন আলম তুলি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য  শৈসাঅং মার্মা, থানা অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব নাথ তঞ্চঙ্গ্যা, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অমিত ভূষণ তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজীব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা এবং সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বাতকস কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির মহা-সচিব উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা।

এছাড়াও ঘিলা খেলা উপকমিটির আহ্বায়ক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্য বিবাহী কমিটির সুচিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা, শাক্যমিত্র তঞ্চঙ্গ্যা এ্যাড. বিমল তঞ্চঙ্গ্যা, বিরলাল তঞ্চঙ্গ্যা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কেন্দ্রীয় বিষু উৎসবে ৪৭টি যুবক – যুবতীর দল অংশ গ্রহন করেন। সারারাত ধরে ঘিলা খেলা প্রতিযোগিতা, অতিথি আপ্যায়ন  ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং সকালে খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হন পাগলাছড়া পাড়া ও গুইনখ্যং তঞ্চঙ্গ্যা পাড়া।

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবারের বসতভিটা — জরুরি ভিত্তিতে গ্রেটওয়াল নির্মাণের দাবি

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে ছড়ার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির ছড়ায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। মাত্র প্রায় ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছড়ার পানি ইতোমধ্যে পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলায় ভারী বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রেটওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্রেটওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই গ্রেটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্রেটওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।

বিলাইছড়িতে আশিকা কর্তৃক আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট বিলাইছড়ি উপজেলায় আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। গতকাল সহ দুই দিনে ছয়শত পরিবারের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টা হতে আশিকার ইউনিয়ন ফোকাল পারসন সুজন তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে  ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এইসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা (হেডম্যান), ভরত চন্দ্র কার্বারী এবং সংস্থা’র অন্যান্য মাঠ কর্মীরা।

ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ৪০ কেজি, তেল ৩ লিটার, চিনি ১ কেজি, ডাল ২ কেজি, লবণ ১ কেজি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, রসুন ৫০০ গ্রাম, নাপ্পি ১ কেজি, বালতি ২০ লিটার ১টি, লাইফ বয় সাবান ২টি, প্লাস্টিক মগ ১টি, ওরস্যালাইন ১০টি, গামছা ১টি, ডিটারজেন্ট পাউডার ১ কেজি, বদনা ১টি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১০টি।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

তঞ্চঙ্গ্যা জাতি পোশাকে, সামাজিক, সংস্কৃতিতে খুবই ডিসিপ্লিন — এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কৃষি অফিস কর্তৃক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা ঘাট হতে এইসব বীজ ধান বিতরণ করা হয়। মোট ধানের বীজ- ৩৫৫ জনের মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে ২৫৫, সদর ৭০, কেংড়াছড়ি ৩০ জনকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, সুকান্ত কুমার মোদক, রুবেল বড়ুয়া প্রমূখ।

×