শিরোনাম:

পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান করলেন টমাস চাকমা

পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান করলেন টমাস চাকমা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধি :

রাঙামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ইউনিয়নের বাঘাইহাট উজো বাজারে পরিবারের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিণ্ডদান করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টমাস চাকমা।

সোমবার ২০ এপ্রিল ভোর সকালে গঙ্গারাম উজো বাজারে সম্প্রতি তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ দান সম্পন্ন করেন। অনুষ্টানে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান, পানীয় দানসহ নানা দানের যগ্য অনুষ্টিত হয়।

অনুষ্টানে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্তিত ছিলেন বাঘাইহাট বনানি বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় কৃপারত্ন মহা স্হবির ভান্তে ও প্রশান্ত অরণ্য কুঠিরের অধ্যক্ষ শুভ প্রিয় ভান্তে উপস্তিত ছিলেন।

জানা যায়, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলন পিণ্ডদান। এর মাধ্যমে দাতা ব্যক্তি নিজের ও পরিবারের কল্যাণ, অশুভ শক্তির নিবারণ এবং পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

টমাস চাকমা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই ধর্মীয় আচার পালন করেন এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুর হাতে খাদ্য ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এসময় ভিক্ষু ধর্মীয় প্রার্থনা ও আশীর্বাদ প্রদান করেন, যাতে পরিবারে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

টমাস চাকমা বলেন, “পিণ্ডদান আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবারের মঙ্গল কামনায় নিয়মিত এই ধরনের সেবামূলক কাজ করা উচিত।”

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে দুপুরের ভোজন আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন ১৬ ফ্লাইটে ৬ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দা যাবেন

পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান করলেন টমাস চাকমা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০২৬ সালের পবিত্র হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল)২৬ খ্রিঃ সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটের সময় প্রথম ফ্লাইটটি ৪১৪ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর BG-135 ফ্লাইটে চট্টগ্রাম থেকে ৩৭১ জন হজযাত্রী সহ মোট ৪১৪ জন যাত্রী জেদ্দার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক আল মামুন ফারুক। প্রধান অতিথি হজ মৌসুমে বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং হাজিদের সেবা নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণে সরকারের ইতিবাচক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর জানান, হাজিদের যাত্রা সহজ করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের হজ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে বিমানে আরোহন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ তদারকি করবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ঢাকার মতো স্থায়ী হজ ক্যাম্প না থাকায় বিমানবন্দরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বসার ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হয়েছে। অসুস্থ হাজিদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দিকনির্দেশনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে হাজিদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং প্রধান অতিথি যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বছর চট্টগ্রাম থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মোট ১৬টি ফ্লাইটে প্রায় ৬ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দা যাবেন। সর্বশেষ হজ ফ্লাইট ২০ মে ছেড়ে যাবে এবং ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩১ মে থেকে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় আলাদা সহায়তা সেবা চালু রাখা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।

মানিকছড়ি ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান করলেন টমাস চাকমা

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক হেভিলাইসেন্স বিহীন পরিবহন শ্রমিক মো. বাবুল হোসেনকে জোরজবরদস্তি করে হুমকি ধামকির মাধ্যমে এক্সেভেটর চালাতে বাধ্য করা ও প্রশাসনের দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ এনে নিহত বাবুল হোসেনের পরিবারের ন্যায্য বিচার, সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অপসারণের দাবিতে মানিকছড়িতে মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপি প্রদান করা করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় মানিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে যুব সমাজ ও এলাকাবাসীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে তাদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

এসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ উজ জামান, হাসান মাহমুদ ও শাহজালাল পারভেজসহ আরো অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, বাবুল মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এর পেছনে প্রশাসনের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতা রয়েছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে যথোপযুক্ত সম্মান ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানান’।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, অভিযুক্ত ইউএনও ও (এসি ল্যান্ড)-এর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের অপসারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।

বক্তারা সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিহত বাবুল মিয়ার পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের জন্য লিখিত আশ্বাস দেওয়ার জন্য আগামী ৭২ ঘন্টা সময় দেন। এরপরও প্রশাসন কর্তৃক কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে না পেলে মানিকছড়ির জনগণকে নিয়ে আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিটি মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, গত ১২ এপ্রিল আনুমানিক সকাল ১০ টায় দিকে মানিকছড়ি উপজেলার ২নং বাটনাতলি ইউনিয়নের থলিপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত একটি ‘পে-লোডার’ জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত পে-লোডারটি থানায় আনার সময় পথিমধ্যে বাবুল হোসেন এক আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনার সাথে সাথেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সাপছড়িতে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

পরিবারের সুখ-শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান করলেন টমাস চাকমা

 

​ছন্দ সেন চাকমা :

​‘সংস্কৃতি আমাদের প্রাণ, বৈচিত্র্য আমাদের মর্যাদা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটির খামার পাড়ায় উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী ‘বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু’ উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গত মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল, ২০১৬) বিকেলে খামার পাড়া খেলার মাঠে পুণ্য কান্ত স্মৃতি পাঠাগার ও বিকিরণ সংঘের যৌথ উদ্যোগে এই বর্ণিল উৎসব ও র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

সাফছড়ি ইউপি সভাপতি বাবু সুবেশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি-র সভাপতি জনাব দীপন তালুকদার (দীপু)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাফছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু প্রবীণ চাকমা এবং জেলা লাইব্রেরিয়ান বাবু সুনীলময় চাকমা। এছাড়া স্থানীয় ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান পরিবেশন করেন স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা। বিজু, সাংগ্রাইসহ পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দর্শকদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র।

আয়োজক ও অতিথিরা জানান, এই ধরনের উৎসব পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উৎসবটি পাহাড়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। উৎসবটি উপভোগ করতে সকল শ্রেণীর পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আগামীতেও এই ধরনের অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

×