| ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন কাপ্তাইয়ের প্রিয় ইউএনও রুহুল আমিন

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন কাপ্তাইয়ের প্রিয় ইউএনও রুহুল আমিন

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কর্মদক্ষতা আর মানবিকতায় সাধারণ মানুষের মন জয় করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিদায় সভা নয়, বরং কাপ্তাইবাসীর ভালোবাসায় তা এক বিশাল গণসংবর্ধনায় রূপ নেয়। সম্মিলিত বিদায় উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সঞ্চালনা করেন নুর মোহাম্মদ বাবু ও সাংবাদিক ঝুলন দত্ত। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন।

বক্তারা ইউএনও রুহুল আমিনের দায়িত্বকালীন সময়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তারা বলেন,”তিনি শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি ছিলেন কাপ্তাইয়ের মানুষের বিপদে-আপদে পরম বন্ধু। তার জনবান্ধব উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক সততা আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

বিদায় বেলায় প্রিয় এই কর্মকর্তাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই থানার ওসি মোঃ মাহমুদুল হাসান রুবেল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. রহমতউল্লাহ, কাপ্তাই বিএনপির সভাপতি লোকমান আহম্মদ, কাপ্তাই উপজেলা জামায়াতের আমীর হারুন-অর-রসিদ, খ্রীষ্ঠিয়ান মিশন হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং, কাপ্তাই বিএফআইডিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক তীর্থ জিৎ রায়, কাপ্তাই সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন । ​

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম লাভলু, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, জয়সেম বড়ুয়া এবং হেডম্যান থোয়াই অং মারমাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের বক্তব্যে ইউএনও-র প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

​বিদায়ী বক্তব্যে মো. রুহুল আমিন অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাপ্তাইবাসীর যে অকৃত্রিম ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা আমার কর্মজীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। কাপ্তাই আমার হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে থাকবে। এখানকার মানুষের সহযোগিতা আর ভালোবাসা ছাড়া আমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব হতো না।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেখানেই দায়িত্ব পালন করিনা কেন কাপ্তাইয়ের এই অমলিন স্মৃতি তাকে দেশসেবায় প্রেরণা জোগাবে। ​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও-কে সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত অনেকের চোখেই এসময় অশ্রু দেখা যায়। প্রিয় কর্মস্থলের মায়া কাটিয়ে বিদায় নিলেও, কাপ্তাইবাসীর হৃদয়ে মো. রুহুল আমিন তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন দীর্ঘকাল।

ছবির ক্যাপশন: সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এবং বিদায়ী বক্তব্য রাখছেন কাপ্তাইয়ের বিদায়ী ইউএনও রুহুল আমিন।

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবারের বসতভিটা — জরুরি ভিত্তিতে গ্রেটওয়াল নির্মাণের দাবি

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন কাপ্তাইয়ের প্রিয় ইউএনও রুহুল আমিন

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে ছড়ার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির ছড়ায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। মাত্র প্রায় ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছড়ার পানি ইতোমধ্যে পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলায় ভারী বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রেটওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্রেটওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই গ্রেটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্রেটওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।

বিলাইছড়িতে আশিকা কর্তৃক আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন কাপ্তাইয়ের প্রিয় ইউএনও রুহুল আমিন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট বিলাইছড়ি উপজেলায় আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। গতকাল সহ দুই দিনে ছয়শত পরিবারের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টা হতে আশিকার ইউনিয়ন ফোকাল পারসন সুজন তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে  ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এইসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা (হেডম্যান), ভরত চন্দ্র কার্বারী এবং সংস্থা’র অন্যান্য মাঠ কর্মীরা।

ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ৪০ কেজি, তেল ৩ লিটার, চিনি ১ কেজি, ডাল ২ কেজি, লবণ ১ কেজি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, রসুন ৫০০ গ্রাম, নাপ্পি ১ কেজি, বালতি ২০ লিটার ১টি, লাইফ বয় সাবান ২টি, প্লাস্টিক মগ ১টি, ওরস্যালাইন ১০টি, গামছা ১টি, ডিটারজেন্ট পাউডার ১ কেজি, বদনা ১টি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১০টি।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন কাপ্তাইয়ের প্রিয় ইউএনও রুহুল আমিন

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কৃষি অফিস কর্তৃক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা ঘাট হতে এইসব বীজ ধান বিতরণ করা হয়। মোট ধানের বীজ- ৩৫৫ জনের মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে ২৫৫, সদর ৭০, কেংড়াছড়ি ৩০ জনকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, সুকান্ত কুমার মোদক, রুবেল বড়ুয়া প্রমূখ।

×