চট্টগ্রাম নগরীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ রেশ কাটেনি ফের আরো ৩ শিশু ধর্ষণের
এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :
চট্টগ্রাম নগরীতে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিভাবক মহলে চরমভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও তিনটি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে খুলশীতে দুই শিশু বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।শুক্রবার (২২ মে) রাত ১০ টার সময় খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন রেললাইনের পাশের একটি মসজিদ সংলগ্ন মক্তবে খুলশীর দুই শিশু বোনের ধর্ষণচেষ্টার এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল বাতেনের বাড়ি কুমিল্লায়। শিক্ষকতার সুবাদে তিনি ওই এলাকাতেই বসবাস করতেন। তিনি ভুক্তভোগী দুই শিশু বোনেরও শিক্ষক ছিলেন। শিশু দুটির বয়স আনুমানিক ১০ ও ৬ বছর।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করতে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ভুক্তভোগী দুই শিশুকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে নগরীর বায়েজিদ থানার মোহাম্মদ নগর (মান্ডাটিলা) এলাকা থেকে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বায়েজীদ থানা পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে চকলেট এবং ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বায়েজিদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় জনতা মোঃ এহসান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে নিতে ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পড়ে।
এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশ ও অভিযুক্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। পরে বিচারের আশ্বাস দিলে পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত এহসান একটি বাসার নিরাপত্তা কর্মি হিসাবে কর্মরত ছিল বলে জানা গেছে। অভিযুক্তের আর বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজিত জনতা পুলিশকে ঘিরে ফেলে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তারা বের হতে সক্ষম হন।অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২১ মে)২৬ খ্রিঃ নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মনির হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
পরে বিক্ষুব্ধরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২২ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে গ্রেপ্তার মনির হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।

| ২৪ মে ২০২৬






