| ২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়ে সরগরম দীঘিনালা বাস টার্মিনাল

রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়ে সরগরম দীঘিনালা বাস টার্মিনাল

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

টানা ঈদের ছুটি ও বিভিন্ন প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা বাস টার্মিনাল।

সোমবার ১ জুন ২০২৬ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দূর-দূরান্তের মানুষ রাজধানীতে কর্মস্থলে যোগদান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক কাজে যাতায়াতের জন্য বাস টার্মিনালে ভিড় করছেন।

বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে এসে অপেক্ষা করছেন। যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

টার্মিনালে অবস্থানরত কয়েকজন যাত্রী জানান, ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে এবং জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হওয়ায় তারা আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে বাস চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে টার্মিনালজুড়ে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টার্মিনাল এলাকায় তৎপর থাকতে দেখা গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজধানীমুখী মানুষের এই ব্যাপক যাত্রাচাপে দীঘিনালা বাস টার্মিনাল এখন যেন এক ব্যস্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শান্তি পরিবহনের লাইম্যান মো: নাছির উদ্দিন জানান সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাহাতে গন্তব্যে স্হানে পৌঁছাতে এটাই আমাদের দায়িত্ব।

পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে বাঘাইছড়িতে উত্তাল জনতা, বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়ে সরগরম দীঘিনালা বাস টার্মিনাল


আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘পদত্যাগ মানি না, মানব না’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

‎রবিবার (পহেলা জুন) বিকাল ৫ টায় কাচালং বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনী শাপলা চত্বরে এসে টায়ার জ্বালিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‎সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বাহারি, রাঙ্গামাটি জেলা জিয়া পরিষদের উপদেষ্টা অলক বিকাশ চাকমা, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজালাল চৌধুরী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

‎বক্তারা বলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর জানতে পেরেছেন। যদি এ খবর সত্য হয়ে থাকে, তবে তা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

‎তারা দাবি করেন, রাঙ্গামাটি জেলার জনগণের বিপুল সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

‎সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “অজ্ঞাত কোনো কারণে যদি তিনি পদত্যাগ করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে পুনরায় তাঁকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্বে বহাল রাখা হোক।”

‎বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়ে সরগরম দীঘিনালা বাস টার্মিনাল

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ রিপোর্টার:

রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ২৯৯ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এডভোকেট  দীপন দেওয়ান বিপুল ভোটে এমপি জয়ী হন। তিনি বিগত শাসন আমল হতে কত নিপীড়িত নির্যাতিত হয়েও বিএনপি দল রাঙ্গামাটি জেলা রাজপথে বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে হাল ধরে তার নেতৃত্বের সু-সজ্জিত মাঠ পযার্য়ের বিএনপি দল সংগঠনকে শক্তিশালী গঠন করেছে, তার নেতৃত্বের বর্তমানের পুরো জেলা বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন শান্তি শৃঙ্খলা পরিবেশের এগিয়ে নিয়ে গেছে তার অবদান অপরিসীম। তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি হতে সোস্যাল মিডিয়াসহ প্রচারিত আজ ০১ তারিখ জুন হতে তার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বরাবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিকট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পদ হতে নানা শারীরিক অসুস্থ জতিলতায় ভুগছি, বর্তমানের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

আরো বিস্তারিত উল্লেখ্য, আবেদনের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান মন্ত্রী পদ থেকে থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি। অন্যদিকে জেলা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এর দলীয় নেতাকর্মীরা তার সমর্থিত দলীয় লোকরা এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পূর্নবহাল রাখার দাবীতে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কিছু বিএনপি দলীয় নেতা তার সমর্থিত জানান, কেন হঠাৎ করে মন্ত্রী পদ অব্যাহতি  ছাড়ছে সেটা চিন্তা বিষয় ও কোন ষড়যন্ত্র করছে কিনা সেটা বাবার আছে বলে দলীয় সূত্রে অনেকে মনে করেন।

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের শেষ আশ্রয়ও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়ে সরগরম দীঘিনালা বাস টার্মিনাল

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

দেশের ভিতর আরেক দেশ খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকতে দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অপরাধী চক্রের সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ আর দেয়া হবে না।

রবিবার (৩১ মে)২৬খ্রিঃ জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধী গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুর তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে সংঘটিত কয়েকটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের বাসভবনে হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়। তিনি জানান, গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, পাহারা ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলাকায় যে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, তা অনেকাংশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কারা জড়িত এবং কারা ইন্ধন যুগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ভূমিদস্যু ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন কারণে এ এলাকায় বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের আপাতত উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রকৃত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে মূলধারার যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও কাজ চলছে। তিনি জানান, বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয়, বেতুয়া ও চা বাগানসহ আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো থেকেও সন্ত্রাসীদের স্থায়ীভাবে নির্মূল করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

×