শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:

পর্যটকদের পদচারণায় মুখর দীঘিনালার তারাবনিয়া “নিউজিল্যান্ড”

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
4 বার পড়া হয়েছে
পর্যটকদের পদচারণায় মুখর দীঘিনালার তারাবনিয়া “নিউজিল্যান্ড”

 

​রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ‘তারাবনিয়া’ এলাকাটি এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সবুজ পাহাড়, বিস্তীর্ণ ঘাসের মাঠ, আঁকাবাঁকা পথ আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে স্থানীয় ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এই স্থানটি পরিচিতি লাভ করেছে “নিউজিল্যান্ড” নামে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পর্যটক ছুটে আসছেন এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

চারদিকের সবুজ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই তারাবনিয়া এলাকাটি যেন প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সবুজ ঘাসের মাঠ আর বুক চিরে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা গ্রামীণ পথ প্রথম দর্শনেই যে কারও মন কেড়ে নেয়। নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে শান্ত, স্নিগ্ধ ও মনোরম পরিবেশের কারণে দিন দিন এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে বিকেল হলেই তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ​

চট্টগ্রাম থেকে আসা এক পর্যটক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ​”আমরা সাজেক যাওয়ার পথে স্থানীয়দের মুখে এই জায়গার কথা শুনে দেখতে এলাম। সত্যি বলতে, নাম যেমন ‘নিউজিল্যান্ড’, এর সৌন্দর্যও ঠিক তেমনই চোখ জুড়ানো। এখানকার শান্ত পরিবেশ আমাদের মুগ্ধ করেছে, পাশাপাশি এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো একদম অক্ষুণ্ণ রয়েছে। ​

স্থানীয় খুদ্র ব্যবসায়ী প্রিয়াংকা চাকমা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কল্যাণে ইদানীং এই তারাবনিয়া এলাকার সৌন্দর্য দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে খাগড়াছড়ি বা সাজেক ঘুরতে আসা পর্যটকদের একটি বড় অংশ এখন।

লংগদুতে সেনাবাহিনীর গাইনী মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম
পর্যটকদের পদচারণায় মুখর দীঘিনালার তারাবনিয়া “নিউজিল্যান্ড”

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, লংগদু :

পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু সেনা জোন সদরের উদ্যোগে স্থানীয় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য একটি বিশেষ গাইনি চিকিৎসা ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পেইনে অভিজ্ঞ গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করা হয়।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া স্থানীয় নারীরা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের প্রতি গভীর সন্তুষ্টি ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বেরই একটি অংশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তীতে শনাক্তকৃত জটিল রোগীদের প্রয়োজনীয় ফলো-আপ চিকিৎসাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোন কর্তৃক পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে অকুতোভয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল দেশের সীমান্তরক্ষকই নয়, বরং অসহায় ও সাধারণ মানুষের আস্থার এক অনন্য ঠিকানা। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সেনাবাহিনী।

রামগড়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম
পর্যটকদের পদচারণায় মুখর দীঘিনালার তারাবনিয়া “নিউজিল্যান্ড”

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে খাগড়াছড়ির রামগড়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৪টায় রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফেজ আহমেদ ভূঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুজায়েত আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম বাদশা, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেনসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতা যুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।

তাঁরা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও কর্মময় জীবন তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণ কামনা করা হয়।

এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, স্থানীয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬, ২:০৫ পিএম
পর্যটকদের পদচারণায় মুখর দীঘিনালার তারাবনিয়া “নিউজিল্যান্ড”

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক স্বল্পতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পেলে এলাকার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। আজ শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে এই স্কুলের সাইনবোর্ড দেখে জানা যায় যে এটি শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন, সহযোগিতায় রয়েছে কোবরা অ্যান্ড মঙ্গুজ চ্যারিটি।

বিদ্যালয়টি রুমা উপজেলার ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়ায়, থানচি প্রধান সড়কের আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের অবস্থিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুইতন ম্রো জানান, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি না থাকলে অনেক আগেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে যেত। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একজন নারী শিক্ষককে স্থানীয় অভিভাবকরা বেতন দেন। অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে বেতন প্রদান করতেও হিমশিম খেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। আশপাশের দূরবর্তী পাড়া থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে এসে পড়াশোনা করে। সরকার যদি এখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন বা একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়, তাহলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ৫নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জনপ্রতিনিধি রেংওয়ে ম্রো বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র দুইজন। একজনকে স্কুল পরিচালনা কমিটি এবং অপরজনকে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন সম্মানী ভাতা দিয়ে পরিচালনা করছে।

কুরাং পাড়ার কারবারি মাংয়া ম্রো বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় বেঞ্চ-টেবিল খুবই অপ্রতুল। অনেক আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের টিনের ছাদে অসংখ্য ছিদ্র হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন এবং সরকারি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাইংওয়াই ম্রো জানায়, আমাদের স্কুলের অবস্থা খুব খারাপ। বেঞ্চ-টেবিল ভাঙা, ঠিকমতো বসতে পারি না। বৃষ্টি হলে খাতা-কলম ভিজে যায়। নতুন স্কুল ভবন হলে আমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারব। বর্তমান ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে ভয় হয়।

একজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় এবং প্রতিবছর ভালো ফলাফলও আসে। কিন্তু অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিদ্যাপূর্ণ চাকমা বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করব। গ্রামের মানুষ সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। এ  বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

×