খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত হেমন ও জেরক পাড়া : রাস্তাঘাট, নিরাপদ পানি ও শিক্ষার মৌলিক চ্যালেঞ্জ
দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়িঃ
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়ন শুক্রবার (১৪ নভেম্বর ২০২৫) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার প্রত্যন্ত হেমন ও জেরক পাড়ার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষরা প্রতিদিন ভয়ঙ্কর পথ পার হয়ে জীবনযাপন করছে। খাগড়াছড়ি–দীঘিনালা রোড থেকে মাত্র ৭ মাইল গাড়ি যাতায়াতযোগ্য হলেও, তার পরবর্তী পথ পায়ে হেঁটে পাহাড়, খাড়া ঢাল এবং তিনমুখী ঝুঁকিপূর্ণ ছড়া পেরোনোর মাধ্যমে পাড়ায় পৌঁছতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাঠের অস্থায়ী ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পাহাড় বেয়ে চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক। একশ ফুট উঁচু এবং প্রায় সোজা খাড়া পাহাড় পার হতে হয়। সুস্থ শরীর থাকলেও স্থানীয়রা ৩–৪ ঘণ্টা সময় নিয়ে পাড়ায় পৌঁছান; নতুনদের জন্য এ সময় ৫ ঘণ্টারও বেশি লাগতে পারে। বর্ষার সময়ে ছড়া পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

জেরক পাড়ার প্রতিনিধি নীরাময় ত্রিপুরা বলেন, “বার্ষিক ফসল বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। কখনও কখনও পরিবহন খরচ বিক্রির মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় কলা ও জুমের ফসল নষ্ট হয়ে যায়।”
হেমন পাড়ার কার্বারী খোকন ত্রিপুরা উল্লেখ করেন, “জেরক ও হেমন পাড়ার প্রায় ৪৪ পরিবার বাস করছে। কিন্তু পাহাড়ি অসুবিধার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সীমিত। স্থায়ী ব্রিজ এবং পাহাড়ি সিড়ি থাকলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে স্কুল-কলেজে যেতে পারবে।”
রথিচন্দ্র পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অঞ্জলি ত্রিপুরা বলেন, “এলাকার রাস্তা ও নিরাপদ পানির সমস্যা সমাধান আগে করা জরুরি। এগুলো ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমাপন ত্রিপুরা ও রাম কুমার ত্রিপুরা বলেন, দূর্গম এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা গেলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।
ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরাম, বাংলাদেশ (টিএসএফ, বিডি), গোলাবাড়ী ইউনিয়ন উপ-শাখা শুক্রবার হেমন ও জেরক পাড়ায় সাংগঠনিক সফর এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে।
সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ধুমপান ও মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ, শিক্ষা, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় কার্বারী, নারী ও যুব সমাজ টিএসএফের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
স্থানীয়রা সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন: স্থায়ী বা আরও মজবুত ব্রিজ নির্মাণ করা; পাহাড় বেয়ে ওঠা ও নেমার জন্য ইট-পাথরের সিড়ি তৈরি; দূর্গম এলাকা পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার বা পিচিং; নিরাপদ পানি সরবরাহ; শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরি ও যুব ক্লাবের ঘর নির্মাণ।
টিএসএফ, বিডি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টেটু ত্রিপুরা বলেন, “গুণগত শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা বদ্ধপরিকর।”

হেমন ও জেরক পাড়া আজও অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগের কঠিন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিনযাপন করছে। প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার এগিয়ে না এলে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ ও ফসলের বাজারজাতকরণ ঝুঁকিতে থাকবে

| ৫ আগস্ট ২০২৬
















