শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ে নববর্ষের ছুটিতে বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি : সিসি ক্যামেরাসহ মালামাল লুট

কাপ্তাইয়ে নববর্ষের ছুটিতে বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি : সিসি ক্যামেরাসহ মালামাল লুট

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার বিএফআইডিসি সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তির তিন দিনের ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা প্রাঙ্গণে এসে চুরির বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করেন। খবর জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, চোরচক্র বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা,​ কম্পিউটার মনিটর, ইন্টারনেট রাউটার, ​নতুন ভবনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মালামাল। ​

এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভীন সুলতানা বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহামুদুল হাসান বলেন, “বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।” সারাদেশের ন্যায় বাংলা নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে ৩ দিনের সরকারি ছুটি চলছিল। জনশূন্যতার সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ চোরচক্র এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিৎমরম সাংগ্রাইয়ের রঙে রঙিন পাহাড় ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলায় দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়

কাপ্তাইয়ে নববর্ষের ছুটিতে বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি : সিসি ক্যামেরাসহ মালামাল লুট

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র রঙে এখন রঙিন পাহাড়। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলা। মারমা সংস্কৃতির কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই এই বিশেষ আয়োজন। ​

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে কাপ্তাইয়ের বুদ্ধ বিহার সংলগ্ন মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, রঙিন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মারমা যুবকদের সাহসিকতা ও শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত এই হা-ডু-ডু খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ দর্শক সমবেত হন। মাঠের চারপাশে দর্শকদের করতালিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাংগ্রাই মূলত মারমা সম্প্রদায়ের নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব। জল কেলির (পানি খেলা) পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলা এই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আয়োজক কমিটির আহবায়ক উথোয়াইমং মারমা পক্ষ থেকে জানানো হয়, ​”আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। সাংগ্রাইয়ের এই শুভক্ষণে হাডুডু খেলার মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন আনন্দ করছি, অন্যদিকে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।” চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলা উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও গ্রাম থেকে আসা একাধিক দল অংশগ্রহণ করে। দম নেওয়া আর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছোঁয়ার এই লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। হা-ডু-ডু ছাড়াও এদিন হাড়ি ভাঙা, রশি টানাটানি, লাটিম এবং ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

​উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের আয়োজন কেবল মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পাহাড়ের সকল জাতিসত্তার মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে। সাংগ্রাইয়ের এই আনন্দ যেন সারা বছর পাহাড়ে শান্তি ও সংহতির বার্তা বয়ে আনে। আজ সন্ধ্যায় বুদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

আয়োজক কমিটির সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য ‘সাংগ্রাই র্যালি’। এরপর অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জল কেলি’ বা মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসব। ​দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একুস্টিক ব্যান্ড শো, লটারি এবং ঐতিহ্যবাহী যাত্রা পালার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এরপর আগামী কয়েকদিন পাড়ায় পাড়ায় চলবে মৈত্রী পানিবর্ষণ ও মারমা সংস্কৃতির নানা আয়োজন।

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

কাপ্তাইয়ে নববর্ষের ছুটিতে বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি : সিসি ক্যামেরাসহ মালামাল লুট

 

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘বিষু মেলা’ উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদমে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ‎‎সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলার পানবাজারস্থ মালিপ্রু পাড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে ঘিলা খেলার ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা সম্প্রীতির মিলন-মেলায় পরিণত হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনাজোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি,পিএসসি। ‎এছাড়াও বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শান্তিমনি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক দীপু তঞ্চঙ্গ্যা, বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ইয়ংলোক ম্রোসহ কারবারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

‎উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’। জোন কমান্ডার আগ্রহভরে এই লোকজ খেলা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎তিনি বলেন, “পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। সকল সম্প্রদায়ের ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।” ‎ ‎উৎসবকে কেন্দ্র করে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল ও সতর্ক উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

‎এছাড়া উৎসব উপলক্ষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এলাকায় এক আনন্দঘন ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ‎ ‎

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই দুর্গম এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে এমন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর এ ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাংগ্রাইয়ের উৎসব জলকেলিতে উৎসবমুখর খাগড়াছড়ি

কাপ্তাইয়ে নববর্ষের ছুটিতে বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি : সিসি ক্যামেরাসহ মালামাল লুট

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিবাহী উৎসব সাংগ্রাই। উৎসব’কে কেন্দ্র কঠোর নিরাপত্তা চাদরে ডেকে রেখেছিল প্রশাসন। মারমা জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাংগ্রাই। উৎসব ঘিরে খাগড়াছড়ি শহরের পানখাইয়া পাড়ার বটতলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জলকেলি।

বাংলা নববর্ষের সময়কে ঘিরে প্রতি বছর এই জলকেলি উদযাপন করে মারমা জনগোষ্ঠীর লোকজন। আজ সকাল ১০ টার দিকে পানখাইয়া পাড়ায় জলকেলি উৎসবে উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়রাম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

উদ্ধোধন শেষে জলকেলি পানি খেলায় অংশগ্রহণ করেন অতিথি’রা। সাংগ্রাই রিলং পোয়ে এর মাধ্যমে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে জল বা পানি ছিটিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা দেয় এবং নিজেরা পবিত্র হয় বলে বিশ্বাস করে মারমা জনগোষ্ঠীর লোকজন।

মারমা উন্নায়ন সংসদের আয়োজনে ৫ দিনের উৎসবের চতুর্থ দিনে জলকেলি উৎসবে মেতেছে মারমা’রা। নিজেদের ঐতিবাহী পোষাক, ধর্মীয় আচার, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হয়, জলকেলি উৎসবে মধ্য দিয়ে। সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়। মারমা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আনন্দ ও নতুন বছরের সামাজিক সহাবস্থান দৃঢ় করে তোলে বলেন।

খাগড়াছড়িতে আয়োজিত সমন্বিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা পুরো আয়োজনকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রার আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। উৎসবে সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়াসহ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি উৎসবকে আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত করে তোলে। সব মিলিয়ে, এ আয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে।

×