| ২৮ মে ২০২৬
শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল বিতরণ

বিলাইছড়িতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল বিতরণ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

আসন্ন পবিত্র ঈদ উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে, ৩নং ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়।  ২২ মে শুক্রবার  ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ডে জন সাধারনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। একাই  ২৩ মে শনিবার ১, ২, ৩, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে বিতরন করা হয়েছে।

ইউনিয়নে ৯টি ওর্য়াডে সর্বমোট ১৯৮৬ জনের মাঝে ১০ কেজি হারে বিতরণ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা নিজেই উপস্থিত থেকে এইসব চাউল বিতরণ করেন। বিতরণ কালে তদারকি কর্মকতা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জনাব নিত্যলাল তঞ্চঙ্গ্যা। এছড়াও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকতা সিদ্ধার্থ তঞ্চঙ্গ্যা, মহিলা মেম্বার এবং ওর্য়াড মেম্বার গন উপস্থিত ছিল।

গাছ পড়ে পিলার ভাঙল ; ২৩ ঘণ্টা পর কাপ্তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

বিলাইছড়িতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল বিতরণ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

ঝড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে বৈদ্যুতিক পিলারের ওপর পড়ায় দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল কাপ্তাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। গতকাল ২৭ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক সংলগ্ন ব্যাঙছড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তবে ঈদের মতো বড় উৎসবের পূর্বে এই দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক পিলারের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে পিলারটি ভেঙে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে কাপ্তাই, বড়ইছড়ি, শিলছড়ি, নোয়াপাড়া, মিতিঙাছড়ি, কাপ্তাই উপজেলা সদর, ব্যাঙছড়ি ও রেশম বাগানসহ অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ​নতুন পিলার স্থাপন এবং তারের সংযোগ পুনর্স্থাপন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফলে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে আজ ঈদের দিন সকাল ১০টা ১২ মিনিট পর্যন্ত পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ​ঈদের আগের দিন ও ঈদের সকালে এমন দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কাপ্তাইয়ের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​”গত বছরের তুলনায় এবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হার অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ঈদের নামাজ, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের কথা চিন্তা করে হলেও বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা উচিত ছিল। অথচ ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের দিন সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের কোরবানির প্রস্তুতিসহ প্রতিটি ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে। নেটিজেনদের অনেকেই অভিযোগ করে লিখেছেন, সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় একটি গাছ পড়ে পিলার ভাঙার পর তা মেরামত করতে ২৩ ঘণ্টা লাগা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। চন্দ্রঘোনা আবাসিক প্রকৌশল দপ্তরে দক্ষ শ্রমিক ও কর্মচারীর অভাবের কারণেই এই সামান্য সমস্যা সমাধানে এত দীর্ঘ সময় লেগেছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, চন্দ্রঘোনা আবাসিক বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এই সংকটের দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা আভাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চন্দ্রঘোনা আবাসিক বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী তৌফিক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ​”কাপ্তাইয়ে টানা ২৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার পর পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়েছি। আকস্মিক এই দুর্ঘটনার পর থেকে আমাদের কর্মীরা লাইন সচল করতে নিরলস কাজ করেছেন।” দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট এই সাময়িক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে যেন এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগ আরও বেশি তৎপর ও দক্ষ ভূমিকা পালন করে।

কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরে গাছ পড়ে ফারুয়ার রুবেল অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন

বিলাইছড়িতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল বিতরণ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

কালবৈশাখী তান্ডবে ঘরের ছালে (ছাদে) সেগুন গাছ উপড়ে পড়ে ফারুয়ার এগুজ্যাছড়ি গ্রামের যুবক রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে। সে তাংখুলা তঞ্চঙ্গ্যা ও তাপসী তঞ্চঙ্গ্যা’র আদরের ছোট ছেলে এবং রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া এগুজ্যাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে জ্ঞান ফিরে এলে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন রুবেল তঞ্চঙ্গ্যা। তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে সে জানায়, এখন কিছুটা সুস্থ আরো কয়েকদিন থাকতে হবে হাসপাতালে। স্থানীয় ও পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (২৭ মে) প্রচন্ড কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে এ দুর্ঘটা ঘটে। তাদের বাড়ির পাশে কয়েকটি বড় বড় সেগুন গাছ রয়েছে। বাতাসে তীব্র হওয়ায় সেখান থেকে একটি গাছ উপড়ে তাদের ঘরে টিনের ছালে (ছাদ) উপর পড়ে। গাছটি বাতাসে ঝড়ো হাওয়ায় মাচাং ঘরের চাল ভেঙ্গে খাটের উপর পরে। এসময় খাটে ছিলেন রুবেল। গাছটি পরার সাথে সাথে সরতে পারলেও, ডালগুলো শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। এতে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে পরে অজ্ঞান অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে মিশন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রুবেলের মা তাপসী জানান, ঐ গাছগুলোর বন বিভাগ না সরালে আরো এধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মরার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা পাশাপাশি পাঁচ পরিবারের রয়েছি। তাপসী আরো জানান, তার বাবা মারা যাওয়ার পর সেখানে বসবাস করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেগুন গাছগুলোর অনেক বড়, ঘূর্ণিঝড়, কালবৈশাখী হলে যেকোনো মূহুর্তে ঘরে উপরে উপড়ে পড়তে পারে। এজন্য গাছগুলো কেটে নেওয়ার জন্য বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকতার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় ফোনে পাওয়া যায়নি ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা কে এবং আলীখ্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা রোকুনুজ্জামানকে ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেননি। হয়তো ছুটিতে রয়েছেন। তাই গাছগুলোর বড় ও বয়স বেশি হওয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত, কাল বৈশাখী ও ঘুর্ণিঝড় হলে যেকোনো মূহুর্তে বিপদ হতে পারে। ভয়ে আতঙ্কে কাটছে তাদের। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বনবিভাগের কর্তৃপক্ষের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা

বিলাইছড়িতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ভিজিএফ চাউল বিতরণ

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দীঘিনালা উপজেলার ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা ইউনিয়নবাসীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, “ঈদ মানে আনন্দ, ত্যাগ ও সম্প্রীতির বার্তা। পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয় এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।” তিনি আরও বলেন, “সকল ভেদাভেদ ভুলে সবাই যেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় এবং অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ায়, সেটিই হোক এবারের ঈদের মূল শিক্ষা। নলেস চাকমা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।

একই সঙ্গে তিনি সবার সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।

×