জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের শেষ আশ্রয়ও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের ভিতর আরেক দেশ খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু বা অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য থাকতে দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অপরাধী চক্রের সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ আর দেয়া হবে না।
রবিবার (৩১ মে)২৬খ্রিঃ জঙ্গল সলিমপুর এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধী গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুর তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামে সংঘটিত কয়েকটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের বাসভবনে হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়। তিনি জানান, গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গড়ে তোলা সমান্তরাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, পাহারা ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলাকায় যে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল, তা অনেকাংশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের কারণে কিছু ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
র্যাবের নির্মাণাধীন ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এর পেছনে কারা জড়িত এবং কারা ইন্ধন যুগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ভূমিদস্যু ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা বিভিন্ন কারণে এ এলাকায় বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের আপাতত উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রকৃত বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে মূলধারার যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়েও কাজ চলছে। তিনি জানান, বায়েজিদ লিংক এলাকার খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয়, বেতুয়া ও চা বাগানসহ আশপাশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো থেকেও সন্ত্রাসীদের স্থায়ীভাবে নির্মূল করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

| ১ জুন ২০২৬











