| ৪ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

দুর্গম পাহাড়ে মাছ চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

দুর্গম পাহাড়ে মাছ চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

 

চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের কর্মসংস্থান, আত্মনির্ভরশীলতা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বান্দরবানের থানচিতে নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় বাকলাইপাড়া, প্রতাপপাড়া ও পাইনোয়ামপাড়া এলাকায় মাছ চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের অধীন ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাকলাইপাড়া ও প্রতাপপাড়া এলাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য পুকুর প্রস্তুত করে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্ত করা পোনার মধ্যে রয়েছে রুই, সরপুটি, তেলাপিয়া ও নাইলোটিকা মাছ। মাছ চাষকে সফল ও টেকসই করতে উপকারভোগীদের মাঝে মাছের খাদ্য (ফিড) এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও বিতরণ করা হয়। একই সাথে এ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত পাইনোয়ামপাড়া গ্রামের পরিবারগুলোর মাঝে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা, বাকলাইপাড়া সাবজোন কমান্ডার, স্থানীয় কারবারি, ধর্মযাজক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাকলাইপাড়া সাবজোন কমান্ডার বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, দুর্গম অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। মাছ চাষের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা বিদ্যুৎবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে।

স্থানীয় পাড়াবাসীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁরা জানান, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

কাপ্তাইয়ে খেলাধুলার সময় গলায় গামছা পেঁচিয়ে ৬ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

দুর্গম পাহাড়ে মাছ চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় খেলাধুলা করার সময় অসাবধানতাবশত গলায় গামছা পেঁচিয়ে আদশ্রী তঞ্চঙ্গ্যা (৬) নামের এক পাহাড়ি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের পাগলি উপরপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু আদশ্রী তঞ্চঙ্গ্যা ওই এলাকার তপন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুটির মা-বাবা উভয়েই জুমচাষের কাজে পাহাড়ে ব্যস্ত ছিলেন। নিজ বসতঘরে একা খেলাধুলা করার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত আদশ্রীর গলায় একটি গামছা পেঁচিয়ে যায় এবং সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার বড় বোন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্যাসের তীব্র সংকট, রান্না বন্ধ বহু ঘরে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল নগরবাসী

দুর্গম পাহাড়ে মাছ চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস-সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবাসিক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চট্টগ্রামে। গ্যাসের অভাবে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ওলট-পালট হয়ে গেছে।
সকালবেলার নাশতা তৈরি থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের খাবার রান্না-সবকিছুতেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নগরের জামালখান লেন ও আগ্রাবাদের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০টার পর গ্যাস থাকছে না।

২ আগস্ট (রবিবার)২৬খ্রিঃ সকাল ৭ টায় গ্যাস চলে গেছে। সন্তানকে নাশতা না খাইয়ে স্কুলে পাঠাতে হয়েছে।একবার গ্যাস গেলে বিকেল ৩ঃ০০টার আগে আসে না।আবার সন্ধ্যার পরও চাপ থাকে খুবই কম।

আসকার দিঘির পাড় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাত ১২ টার আগে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাই দুপুরের খাবার প্রতিদিন রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে। বহু পরিবার বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক খাতের পাশাপাশি শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে কেজিডিসিএল। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, গত ১০ দিন ধরে সংকট চলছে।

তবে ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাতেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই সংকট কেটে যাবে

রামগড়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক

দুর্গম পাহাড়ে মাছ চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিবাড়ি এলাকায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দেলোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী নিজে রামগড় থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন থলিবাড়ি এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা চালক।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শ্বশুর দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ পেলেই তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করার চেষ্টা করতেন, সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক চাপ এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি।

তবে সর্বশেষ গত রোববার রাতে অভিযুক্ত জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ভুক্তভোগী নীরবতা ভেঙে সোমবার রামগড় থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”।

×