| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিন কমিটি গঠন এবং সামরিকায়ন বৃদ্ধির আশংকায় নাগরিক সমাজের গভীর উদ্বেগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিন কমিটি গঠন এবং সামরিকায়ন বৃদ্ধির আশংকায় নাগরিক সমাজের গভীর উদ্বেগ

যৌথ বিবৃতি

ছবি- প্রতীকি

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

আজ ১৪ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙ্গালীর মধ্যে স্থায়ী শান্তি বিরাজ ও পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের সুষ্ঠু পরিবেশে বসবাস করা, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের ধারা-উপধারাসহ সবধরনের চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শান্তিতে বসবাস করার লক্ষ্য উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমাধানের জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি ৫২ জন নাগরিক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদ স্বরূপ যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

অতিসম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিরসনের নামে নতুন করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’ এবং ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি’ ও ‘ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা জিয়িয়ে রেখে অধিকতর সামরিকায়নের মাধ্যমে পাহাড়ীদের দমন পীড়নের পথ উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে ৫২ জন নাগরিক নিম্নোক্ত বিবৃতিতে প্রদান করেছেন।

“আমরা সকলে অবগত আছি যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা একটি জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা। পাহাড়ের আদিবাসীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার সুরক্ষার দাবির বিষয় তোয়াক্কা না করে সেখানে সামরিকায়নের মাধ্যমে দমন পীড়নের পথ বেছে নিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বহুদিন ধরে। ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ের প্রায় ১ লাখ জনগোষ্ঠীকে উদ্বাস্তু করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেনাক্যাম্প স্থাপন ও সম্প্রসারণ পাহাড়ের কৃষি উৎপাদন, জীবনজীবিকা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, জনমিতি এবং ঐ এলাকার আদিবাসীদের জীবনযাত্রা ব্যপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। যার ফলে আমরা দীর্ঘ দুই যুগেরও অধিক সময় সশস্ত্র সংঘাত দেখেছি। সেই সংঘাতে সামরিক বেসামরিক বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বহু নিরীহ আদিবাসী ব্যক্তি ও পরিবার। বিভিন্ন সরকারের সাথে ধারাবাহিক ২৬ বার বৈঠকের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া গেলেও সেটি স্বাক্ষরের ২৯ বছর পার হলেও চুক্তির মৌলিক ধারাগুলি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আদিবাসীদের অধিকার বিষয়ের আদতে কোন সুরাহা হয়নি।

ফলে পাহাড়ের সমস্যার কার্যত কোনো সমাধান এখনো হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জোরালো দাবি ছিল- পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পাহাড় থেকে সেনাশাসন প্রত্যাহার করা। অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তরবর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভঙ্গুর আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির মধ্যে পাহাড়ীরা অন্তত দুই বার রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছেন। সেখানে কমপক্ষে ৭ জন আদিবাসী প্রাণ হারান এবং মানবাধিকার লংঘনের শিকার হন অনেকেই। এমনি বাস্তবতায় নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি প্রস্তাবিত ‘রেইনবো নেশন’ এর প্রতি আকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ বিএনপি’র প্রতি একচেটিয়া রায় দিয়ে তিন জেলা থেকেই তিনজন বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন।

কিন্তু আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, পার্বত্য চুক্তির অবলম্বনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এককভাবে সেই এলাকার কোন প্রতিনিধির উপর ন্যস্ত হবার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটা করা হলো না। বিশেষ করে চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে একজন অ-পাহাড়ী প্রতিমন্ত্রী নিযুক্তিতে পাহাড়ের জনসাধারণ আপত্তি জানালেও তাদের বক্তব্যকে আমলেই নেয়া হয়নি।

অধিকন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ কর্তৃক তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যার একটিতে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, দ্বিতীয়টিতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং তৃতীয়টিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি সমূহের মধ্যে উপরোক্ত দু’টি কমিটিকে সচিবালয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদান করবে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। এটি একটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত, নির্লজ্জ ও কর্তৃত্বপরায়ন পদক্ষেপ বলে আমরা মনে করি।

কারণ উপরোক্ত বিশেষ সংস্থার বিরুদ্ধে আদিবাসীদের অধিকার হরণের চালিকাশক্তির ভূমিকা পালনের অভিযোগ ও ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। আশংকা করা যৌক্তিক যে, এর ফলে আদিবাসীদের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা আরো বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেনা-শাসন আরও বেশি দমন-পীড়নের রূপে প্রকাশ পাবে । এ সবই বিএনপি’র প্রতিশ্রুত নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে যেমন সাংঘর্ষিক, সেইসাথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক একাধিকবার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে আমরা মনে করি। এর ফলে পার্বত্য তিন জেলার শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও স্থিতিশীলতা পুনপ্রতিষ্ঠার পথও রূদ্ধ হবার আশংকা সৃষ্টি হবে।

যদিও কমিটি সমূহের কার্যপরিধির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই সুপারিশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটিকে দেবে। এরপর জাতীয় কমিটি সেই কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র সচিব এর সভাপতিত্বে গঠিত কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি প্রণয়ণে সুপারিশ প্রদানের কথা বলা হয়েছে। যা আশাজনক বিবেচিত হলেও, গোয়েন্দা ও সেনা কর্তৃত্বের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রনাধীন অবস্থায় উল্লেখিত কার্যাবলী ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’-এর প্রত্যাশা পূরণে কতটুকু সহায়ক হবে আর কতটা সামরিকায়ন নিশ্চিত হবে তা নিয়ে যথেষ্ট আংশকা রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের (১৯৯১-১৯৯৫) অবদান ছিল অতি তাৎপর্যপূর্ণ ও অনস্বীকার্য। পূর্ববর্তী সরকারের আলোচনার ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সাথে তৎকালীন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার (১৯৯১-১৯৯৫) ১৩ বার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছিল শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে। যা পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির রূপ লাভ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটা হয়ে ছিল নেহাতই ঐতিহাসিক সমঝোতা আলোচনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতায়।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সরকারের একটি বিশেষ মহল পার্বত্য বিষয়টিকে সেই প্রেক্ষাপটে বিবেচনায় না নিয়ে আশির দশকের ন্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে নিরাপত্তার চশমা দিয়ে দেখার চেষ্টা করছে এতে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিকায়ন জোরদারে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও অশান্তিকে উস্কে দেবার অশুভ ছায়া লক্ষ করছি।
আমরা দৃঢ়ভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে, অতীতের সরকারসমূহ সামরিক ও বেসামরিক আমলা কর্তৃত্বের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদেরকে দমন-পীড়নের মধ্যে রেখে শাসন করার চেষ্টা করেছে। তার বিপরীতে আমরা পেয়েছি সংঘাত, রক্তপাত, বিভেদ এবং বিদ্বেষের চাষ। সেই সংঘাত ও বিভেদ থেকে সরে এসে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসেও এ ধরণের সামরিক ও বেসমারিক আমলা কর্তৃত্বের প্রেসক্রিপশনে পার্বত্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করাটা হবে সেই উল্টো পথে যাত্রা যা কার্যত শান্তি ও সম্প্রীতির বিপরীতে পুনরায় সংঘাত ও বিদ্বেষের পরিবেশ সৃষ্টিতেই ইন্ধন যোগাবে, যা আমাদের কারোরই কাম্য নয়।

এমতাবস্থায় আমরা সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমূহের সকল বৈধ প্রতিনিধির সাথে পুনরায় আলোচনা করে কমিটিগুলো গোয়েন্দা-নিয়ন্ত্রনমুক্ত ভাবে পুনর্গঠনসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানাচ্ছি। এবং একই সাথে সদ্য গঠিত কর্তৃত্ববাদী আমলাতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোন প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জোর দাবি জানাই।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন-

১. আনু মোহাম্মদ, প্রাক্তন অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
২. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন
৩. খুশী কবির, সমন্বয়কারী, নিজেরা করি
৪. শিরীন পারভিন হক, সদস্য, নারীপক্ষ
৫. ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআই-বি
৬. আবু সাঈদ খান, লেখক ও সাংবাদিক
৭. অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
৮. শহিদুল আলম, আলোকচিত্রী
৯. শামসুল হুদা, নির্বাহী পরিচালক, এএলআরডি
১০. ড. সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১১. ড. সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১২. ড. জোবাইদা নাসরীন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৩. তাসনিম সিরাজ মাহবুব, সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৪. ড. খাইরুল চৌধুরী, অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫. মাহমুদুল সুমন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়
১৬. ফারহা তানজীম তিতিল, সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
১৭. রেহনুমা আহমেদ, লেখক
১৮. অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
১৯. অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোট
২০. পাভেল পার্থ, লেখক ও গবেষক
২১. ড. ঈশিতা দস্তিদার, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক
২২. সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক ও গবেষক
২৩. এ্যাড. ইমতিয়াজ মাহমুদ, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
২৪. মনিন্দ্র কুমার নাথ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
২৫. রোজিনা বেগম, গবেষক ও অধিকার কর্মী
২৬. জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ
২৭. এড. সাইদুর রহমান, প্রধান নির্বাহী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন
২৮. মোঃ আলমগীর কবির, সাধারণ সম্পাদক, বাপা
২৯. সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন
৩০. হিরণ মিত্র চাকমা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম
৩১. শাহেদ কায়েস, কবি ও প্রাবন্ধিক
৩২. মিঠুন রাকসাম, কবি, প্রকাশক ও আদিবাসী সংস্কৃতি কর্মী
৩৩. এ্যড. প্রকাশ বিশ্বাস, আইনজীবী ও গল্পকার
৩৪. সাঈদ আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী
৩৫. আবু আহমেদ ফয়জুল কবির, মানবাধিকারকর্মী
৩৬. দীপায়ন খীসা, মানবাধিকার কর্মী
৩৭. ড. হানা শামস আহমেদ, অধিকার কর্মী
৩৮. মুক্তাশ্রী চাকমা, অধিকার কর্মী
৩৯. বিজয় কেতন চাকমা, লেখক
৪০. প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, অব: উপ সচিব
৪১. শিশির চাকমা, কবি ও সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব
৪২. ইন্দু লাল চাকমা, অব: মৎস্য কমকর্তা
৪৩. নব কুমার চাকমা, সমাজকর্মী
৪৪. প্রজ্ঞা জ্যোতি চাকমা, আদিবাসী অধিকার কর্মী
৪৫. সিদ্ধেশ্বর চাকমা, আদিবাসী সমাজ কর্মী
৪৬. প্রবৃত্তি কুমার চাকমা, অব: কর্মচারী ও সমাজ কর্মী
৪৭. উক্রাচিং মারমা, নারী অধিকার কর্মী
৪৮. ডা: মংউষা থোয়াই, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ও লেখক
৪৯. মংথুইপ্রু বাবুল, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক
৫০. তনয়া ম্রো, কবি ও লেখক
৫১. প্রসন্ন কুমার চাকমা, অবঃ প্রধান শিক্ষক ও লেখক
৫২. মো. নুর খান, মানবাধিকার কর্মী

 

বার্তা প্রেরক,

শামসুল হুদা
নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের ; কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল রেখেই সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিন কমিটি গঠন এবং সামরিকায়ন বৃদ্ধির আশংকায় নাগরিক সমাজের গভীর উদ্বেগ

“চূড়ান্ত জরুরি সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তি”

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা অফিস :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল রেখেই সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বাতিলকরণ করে নতুনভাবে পুর্নগঠনের লক্ষ্য কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি তাৎক্ষণিক এই সিদ্ধান্তে গৃহিত হয়। নিম্নে বিস্তারিত ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর বর্ণনা দেয়া হলো –

বিষয়: ২৩ মে ২০২৫ তারিখের কাউন্সিল-পরবর্তী সকল কমিটি বাতিল, পূর্বের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল, সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন প্রসঙ্গে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের সকল নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সদস্য, কর্মী, সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, বৈধতা, ধারাবাহিকতা, ঐক্য ও কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রাখার স্বার্থে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে নিম্নোক্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করা হলো।

১। ২৩ মে ২০২৫-এর কাউন্সিল-পরবর্তী সকল কমিটি বাতিল।

গত ২৩ মে ২০২৫ (শুক্রবার) বান্দরবান সদরস্থ নবোদয় সংঘের হলরুমে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা ও কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং উক্ত কমিটির অধীনে পরবর্তীতে গঠিত সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কমিটি ও উপ-কমিটি অদ্য তারিখ থেকে বাতিল, বিলুপ্ত ও অকার্যকর ঘোষণা করা হলো।

উক্ত কমিটিসমূহের কোনো সদস্য, পদধারী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি অদ্য থেকে উক্ত কমিটির পদ-পদবি বা সাংগঠনিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা বা প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

২। পূর্বের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল।

সংগঠনের সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের স্বার্থে পূর্বে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি বহাল থাকবে।

পরবর্তী লিখিত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিই সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সমন্বয়, অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

৩। পূর্ববর্তী সকল পদ-পদবি ও সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার বন্ধ

অদ্য থেকে বাতিল বা বিলুপ্ত ঘোষিত কোনো কমিটির—

– আহ্বায়ক
– সদস্য সচিব
– সভাপতি
– সাধারণ সম্পাদক
– সাংগঠনিক সম্পাদক
– সদস্য
– উপদেষ্টা
– সমন্বয়ক
– প্রতিনিধি

অথবা অন্য কোনো পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচার, ঘোষণা বা প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, আমন্ত্রণপত্র, চিঠিপত্র বা অন্য কোনো প্রচারমাধ্যমে বাতিল কমিটির পদ-পদবি ব্যবহার করে সংগঠনের বর্তমান দায়িত্বশীল হিসেবে পরিচয় প্রদানও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ছাড়া গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪। অনুমোদনবিহীন কার্যক্রমের সাংগঠনিক স্বীকৃতি থাকবে না।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পূর্বানুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী—

ক. সভা, বৈঠক বা মতবিনিময় সভা আহ্বান
খ. সমাবেশ, মিছিল বা কর্মসূচি ঘোষণা
গ. নতুন কমিটি গঠন বা ঘোষণা
ঘ. কোনো ব্যক্তিকে পদায়ন বা দায়িত্ব প্রদান
ঙ. সাংগঠনিক প্রতিনিধি মনোনয়ন;
চ. সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রচার
ছ. সংগঠনের নামে চিঠি, বিবৃতি, বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস রিলিজ প্রকাশ
জ. সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহ বা আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা
ঝ. কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ
ঞ. সংগঠনের নাম, লোগো, প্যাড, সিল বা সাংগঠনিক পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের অনুমোদিত সাংগঠনিক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে না।

৫। নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গঠনের কর্তৃত্ব।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন ও পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনক্রমে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কর্তৃক গঠিত কোনো কমিটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের অনুমোদিত সাংগঠনিক কমিটি হিসেবে স্বীকৃত হবে না।

৬। সাংগঠনিক সমন্বয়ের দায়িত্ব।

সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কার্যকর, গতিশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব প্রকৌশলী দিপু বড়ুয়াকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

তিনি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও অনুমোদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সদস্য ও কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তবে কোনো সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হতে পারবে না।

৭। সাংগঠনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সমন্বয়।

এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর সংগঠনের সাংগঠনিক যোগাযোগ, নতুন কমিটি গঠন, দায়িত্ব বণ্টন, কর্মসূচি গ্রহণ, সাংগঠনিক প্রতিনিধি মনোনয়ন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদিত সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও কর্মীরা সাংগঠনিক বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্বে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবেন।

সাংগঠনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগ, পৃথক কমিটি বা সমান্তরাল সাংগঠনিক কাঠামো সৃষ্টি থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

৮। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সতর্কীকরণ।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও অনুমোদন অমান্য করে কেউ সংগঠনের নাম, পদ-পদবি, লোগো, প্যাড, সিল, পরিচয় বা সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা ব্যক্তিগত দায় ও দায়িত্বে সংঘটিত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির কোনো সাংগঠনিক অনুমোদন বা দায় থাকবে না।

প্রয়োজনে সংগঠনের সাংগঠনিক স্বার্থ, নাম, পরিচয় ও সম্পদ সুরক্ষার জন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি সংরক্ষণ করে।

৯। বিভ্রান্তিকর প্রচার ও সাংগঠনিক পরিচয়ের অপব্যবহার নিষিদ্ধ।

কেউ যদি বাতিল কমিটির পদ-পদবি ব্যবহার করে নিজেকে সংগঠনের বর্তমান দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন, সংগঠনের নামে বক্তব্য প্রদান করেন, কমিটি ঘোষণা করেন অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন, তাহলে তা সংগঠনের অনুমোদিত বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে না।

সকল নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও কর্মীদের প্রতি অনুরোধ করা হচ্ছে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হয়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুসরণ করুন।

১০। চূড়ান্ত সাংগঠনিক নির্দেশনা।

এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর পূর্ববর্তী সাংগঠনিক কাঠামো ও পদ-পদবি সংক্রান্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ব্যতীত পূর্বে গঠিত সকল কমিটি বাতিল ও অকার্যকর হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন কমিটি গঠন, পদায়ন, সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রদান এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনক্রমে সম্পন্ন হবে।

পরবর্তী কোনো বিজ্ঞপ্তি বা লিখিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনাসমূহ কার্যকর থাকবে।

১১। সকলের প্রতি আহ্বান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্টের সকল নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সদস্য ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো যাচ্ছে যে, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য, বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ পরিহার করে সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক আনুগত্য বজায় রাখুন।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

এই বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জারি করা হলো এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আদেশক্রমে বাবু লুসাই মং প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।

বার্তা প্রেরক

প্রকৌশলী নিউটন চাকমা
যুগ্ম আহবায়ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফ্রন্ট
কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।

সাজেকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সংবর্ধনা

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিন কমিটি গঠন এবং সামরিকায়ন বৃদ্ধির আশংকায় নাগরিক সমাজের গভীর উদ্বেগ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ উপলক্ষে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন সাজেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অমর আলি, ৩৬নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ সাজেক ইউনিয়নের বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে সাজেকসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

প্রধান অতিথি বক্তব্য রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে রাঙ্গামাটি জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাজেকসহ পুরো জেলার উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাহাড়ের মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

লংগদুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উপজেলা সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তিন কমিটি গঠন এবং সামরিকায়ন বৃদ্ধির আশংকায় নাগরিক সমাজের গভীর উদ্বেগ

 

লংগদু প্রতিনিধি :

রাংগামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন উপজেলা শাখার আগামী ২ বছর মেয়াদী দায়িত্বশীল নির্বাচনের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লংগদু উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মূল ভিত্তি হলো ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তাআলাকে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক মেনে শাসননীতি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য ‘শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই’ এই নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সম্মেলনের শেষ পর্বে উপস্থিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী মেয়াদের জন্য পুনরায় হাফেজ আব্দুল মতিন-কে সভাপতি এবং মোহাম্মদ আলী-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়

×