| ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

বান্দরবান প্রতিনিধি:

ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার পর্যটন স্পট দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ঘোষণাটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৮ জুন সন্ধ্যায় রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৮ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৭ দিন দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী করা তথ্যটি জানানো হয়েছে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে  জানা যায়, সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় টানা ভারি বর্ষণের ফলে নদী, ছড়া, ঝিরি পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার অর্ন্তগত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘দেবতাখুম’ এ পর্যটকদের চলাচল অত্যন্ত ঝু্ঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

“স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতে দেবতাখুমে যাতায়াত ও অবস্থান কোনোভাবেই নিরপদ নয়। তার কারণে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যটকদের ১৮ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দেবতাখুমে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হল।”

এছাড়া, দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রচার-প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রোয়াংছড়ি উপজেলায় পর্যটন কেন্দ্র দেবতা খুম এর অবস্থান। পাহাড়ের নিরাপত্তা জনিত কারনে দীর্ঘ ১৫ মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটন স্পটটি  গত ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারনে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভ্রমনে আবারো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সাজেকে রুইলুই পাড়ায় গীর্জা ও লুসাই ক্লাবের দেয়াল নির্মাণ করে দিল সেনাবাহিনী

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রুইলুই পাড়ায় গীর্জা ও লুসাই ক্লাবের দেয়াল নির্মাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোন। বাঘাইহাট জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল তারেকুল ইসলাম পিএসসি এর নির্দেশনায় স্থানীয়দের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ক্লাব দুটির নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়নে এ নির্মাণ কাজ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রুইলুই পাড়ায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গীর্জা ও লুসাই ক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্লাব দুটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে তারা আশা করছেন।

বাঘাইহাট জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল তারেকুল ইসলাম পিএসসি বলেন, স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও কল্যাণে বিভিন্ন সময় বাঘাইহাট জোনের পক্ষ থেকে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় রুইলুই পাড়ায় গীর্জা ও লুসাই ক্লাবের দেয়াল নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে হারিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন লীগ রেকর্ড করলেন বিলাইছড়ি উপজেলা

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘রাঙামাটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম শিরোপা জিতেছে বিলাইছড়ি উপজেলা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর)  বিকেলে রাঙামাটি মারী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে রাঙামাটি সদর উপজেলাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিলাইছড়ি।

নির্ধারিত সময়ে দুই দলের কেউই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে রাঙামাটি সদরকে পরাজিত করে শিরোপা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি উপজেলা। আর এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের নাম লেখায় দলটি।

রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের খেলোয়াড়রা অংশ নেন। টুর্নামেন্টকে ঘিরে শুরু থেকেই রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের একসঙ্গে খেলায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য বার্তা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙামাটির মানুষের কাছে ফুটবল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত হোক সমাজ, ক্রীড়া হোক হাতিয়ার।” খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সুস্থ ও সুন্দর পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিপি,এনডিইউএসসি ,পিএসসির সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম ভূট্টো।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয় রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু—জেলার ১০ উপজেলা।

আয়োজকদের ভাষ্য মতে, এ টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য শুধু ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন নয়; বরং খেলাধুলার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে সম্পৃক্ত করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বিলাইছড়ির এই জয় শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের জয় নয়, বরং প্রথম আসরের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিলাইছড়িতে মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

 

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় গর্ভবতী মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই সপ্তাহব্যাপী বিশেষ মিড ওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জোন (২৯ বীর)-এর উদ্যোগে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর ২১ জন স্থানীয় নারী প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদপত্র বিতরণ করেন বিলাইছড়ি সেনা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. সুরজিত দত্ত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষিত জনবলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ মাতৃত্ব ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।” অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন মেডিকেল অফিসার, নার্স এবং সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান আয়োজকেরা।

×