| ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

বান্দরবান প্রতিনিধি:

ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার পর্যটন স্পট দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ঘোষণাটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৮ জুন সন্ধ্যায় রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৮ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ৭ দিন দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী করা তথ্যটি জানানো হয়েছে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে  জানা যায়, সম্প্রতি বান্দরবান পার্বত্য জেলায় টানা ভারি বর্ষণের ফলে নদী, ছড়া, ঝিরি পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার অর্ন্তগত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘দেবতাখুম’ এ পর্যটকদের চলাচল অত্যন্ত ঝু্ঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

“স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা মূল্যায়নে দেখা গেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতে দেবতাখুমে যাতায়াত ও অবস্থান কোনোভাবেই নিরপদ নয়। তার কারণে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যটকদের ১৮ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দেবতাখুমে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হল।”

এছাড়া, দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রচার-প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বান্দরবান জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রোয়াংছড়ি উপজেলায় পর্যটন কেন্দ্র দেবতা খুম এর অবস্থান। পাহাড়ের নিরাপত্তা জনিত কারনে দীর্ঘ ১৫ মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটন স্পটটি  গত ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারনে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভ্রমনে আবারো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

চন্দ্রঘোনায় অভিযানে একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত মাদক কারবারি মাসুম গ্রেপ্তার

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি):

​রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাসুম তালুকদার ওরফে ছোট মাসুমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ।

​রবিবার (২ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৩নং সফিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ​

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম বাঙ্গালহালিয়ার সফিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এবং এলাকার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মাসুম তালুকদারকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজস্থলী থানাসহ জেলার বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। ​

চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাকের আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সোমবার তাকে চন্দ্রঘোনা থানা ও রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বান্দরবানে পাহাড় কাটার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

 

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার দায়ে সুমন বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বান্দরবান সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(খ) ও ১৫(১) অনুযায়ী এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালাঘাটা বড়ুয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সুমন কোনো ধরনের বৈধ অনুমতি ছাড়াই পাহাড় কেটে মাটি অপসারণ করছেন। ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকার এবং আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ: চন্দ্রঘোনা থেকে বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক উদ্ধার, আদালতে সোপর্দ ১

বান্দরবানের দেবতাখুম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাইয়ে পাল্পউড বন বিভাগ ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়া ও রাইখালী এলাকা থেকে পাচার চক্রের হাত থেকে একটি বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির ‘হাঁসপা তক্ষক’ উদ্ধার করেছে। গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে পরিচালিত এই অভিযানে বন্যপ্রাণীটি অবৈধভাবে আটকে রেখে পাচারচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং তিনছড়ি বিট কাম রাইখালী ডিপো কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দেওয়ানের নেতৃত্বে কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগ ও চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা অবস্থায় বিরল প্রজাতির তক্ষকটি উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে উদ্ধারকৃত তক্ষকটি রাইখালী রেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাইখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতিময় চাকমা এবং বিট কর্মকর্তা ফিরোজ আল-আমিনের উপস্থিতিতে বন বিভাগের কর্মীরা প্রাণীটিকে রাইখালী রেঞ্জের অধীন গহীন অরণ্যের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরাপদে অবমুক্ত করেন।

এ বিষয়ে কাপ্তাই পাল্পউড বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যপ্রাণী আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের অমূল্য সম্পদ। বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় যেকোনো বন্যপ্রাণী ধরা, কেনাবেচা বা পাচার করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: উদ্ধার করা বিরল প্রজাতির হাঁসপা তক্ষক।

×