| ২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন : চালু রয়েছে সব কয়টি ইউনিট

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন : চালু রয়েছে সব কয়টি ইউনিট

 

রিপন মারমা, কাপ্তাইঃ

এবার ২ শত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রবিবার (২০ জুলাই) রাত ৯ টায় পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, আজ (রবিবার) রাত ৮ টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২ শত ২০ মেগাওয়াট। তৎমধ্যে ১ ও ২  ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪৬ মেগাওয়াট করে ৯২ মেগাওয়াট, ৩নং ইউনিট হতে ৪৮ মেগাওয়াট  এবং ৪ ও ৫নং ইউনিট হতে প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তিনি আরোও জানান এর আগে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো গত ১৪ জুলাই রাত ৮ টায় এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু করার পর সর্বোচ্চ ২ শত ১৮  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল।

এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, রবিবার (২০ জুলাই) রাত ৮ টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ছিল ৯৮.৭৮ ফুট মীনস সি লেভেল। রুলকার্ভ অনুযায়ী এসময় লেকে পানি থাকার কথা ৮৭.০৪ ফুট মীনস সি লেভেল। কাপ্তাই লেকে পানির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট মীনস সি লেভেল।

প্রসঙ্গত: ২ শত ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রে ৫টি ইউনিট পানির জন্য একসাথে চালু করা সম্ভব হতো না। চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের পরিমান বেশী হওয়ায় কাপ্তাই লেকে ধীরে ধীরে পানি বাড়ার ফলে গত ২ জুন হতে এই কেন্দ্রের ৪টি ইউনিট চালু করা হলেও গত ৯ জুলাই রাত ৮ টায় একযোগে চালু করা হয়েছিল ৫টি ইউনিট, সেদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ২ শত ১২ মেগাওয়াট। আবার গত ১৪ জুলাই ৫টি ইউনিট হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২ শত ১৮ মেগাওয়াট। আজ রবিবার (১৪ জুলাই) বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২ শত ২০ মেগাওয়াট। যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হচ্ছে বলে জানান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা।

ছবির ক্যাপশন: বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ছবি এবং মেইন গেইটের ছবি।

রামগড়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অভিযোগে আটক ১

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন : চালু রয়েছে সব কয়টি ইউনিট

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে অনলাইন জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন, হিসাব সংবলিত খাতা ও অনলাইন জুয়ার স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করেছে রামগড় থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন (সোমবার) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রামগড় থানার এসআই মোঃ আব্দুল মান্নান মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়ায় ক্যজাই মারমা (৩৯) এর বসতঘরে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জুয়া খেলা চলছে। সংবাদের সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২/৩ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘরের ভেতর থেকে ক্যজাই মারমাকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেন যে, তিনি একটি OPPO স্মার্টফোন ব্যবহার করে shillongteerground.com ও teernightindia.com নামের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও খেলায় অংশ নিতেন।

অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি OPPO অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি Symphony বাটন ফোন, জুয়ার হিসাব লেখা একটি খাতা এবং অনলাইন জুয়ার স্ক্রিনশট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত খাতার ২৯টি পাতায় বিভিন্ন তারিখ ও টাকার অঙ্ক উল্লেখ ছিল বলে পুলিশ জানায়।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় এফআইআর নং-১, তারিখ ২ জুন ২০২৬, জিআর নং-১৬ মূলে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর ২০/২৭ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

দীঘিনালায় চিরকুটসহ যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন : চালু রয়েছে সব কয়টি ইউনিট

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় মো. হাসান (৩৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দীঘিনালা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রাণতোষ বণিক বলেন, “প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাসান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। নিহতের স্ত্রী জানান, সোমবার বিকেলে পারিবারিক বিরোধের পর তিনি বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যান। পরদিন সকালে ফিরে এসে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

দুর্গম গালেংগ্যা ও আশপাশের ইউনিয়নে উন্নয়নের ছোঁয়া নেই, চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন : চালু রয়েছে সব কয়টি ইউনিট

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম গালেংগ্যা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা, যোগাযোগ, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে। উন্নয়নের সুবিধা থেকে বঞ্চিত এসব এলাকার বাসিন্দারা নিত্যদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাংতং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যথুরাম পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গালেংগ্যা হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গালেংগ্যা বাগান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে দেখা যায় না। ফলে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবও শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।

এদিকে, শুকনো মৌসুম এলেই গালেংগ্যা ইউনিয়নসহ রুমা উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় ও ব্যবহারযোগ্য পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। বন উজাড় ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে পাহাড়ি ঝিরি ও প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলো ক্রমশ শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক অবিরাম ত্রিপুরা, রাইমং ত্রিপুরা ও আব্রাহাম ত্রিপুরা বলেন, পানি সংকটের পাশাপাশি রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, শিক্ষার অনগ্রসরতা এবং চিকিৎসাসেবার অভাব আমাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। উন্নয়নের অনেক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার সুফল আমরা পাচ্ছি না।

অন্যদিকে, অতীতে ভিজিডি কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, খাদ্য সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এলাকাবাসীর দাবি, দুর্গম গালেংগ্যা ইউনিয়নসহ রুমা উপজেলার পিছিয়ে পড়া জনপদগুলোতে শিক্ষা, যোগাযোগ, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

তাদের মতে, সরকারি নজরদারি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এসব এলাকার মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

×