| ২ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

রুমা আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেরানো হলো হোস্টেলে।

রুমা আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেরানো হলো হোস্টেলে।

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদরে উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে হঠাৎ খাদ্য সংকটের প্রভাবে বিদ্যালয় কতৃপক্ষের আগাম ছুটির ঘোষণা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের আবারও হোস্টেল ও শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অভিভাবকরা জানায়, গত শুক্রবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভলু ত্রিপুরা আকস্মিকভাবে দুর্গাপূজার ছুটি পাঁচ দিন এগিয়ে দিয়ে প্রায় ২৮৬ জন আবাসিক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। যদিও নির্ধারিত ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর।

এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে শনিবার সকাল থেকে আবারও শিক্ষার্থীরা আবাসিক হোস্টেলে ফেরা শুরু করেছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাভলু ত্রিপুরা জানান, গত তিন মাস ধরে ছাত্রাবাসের খাদ্য বাবদ কোনো বিল পাচ্ছেন না। তাই স্থানীয় একটি দোকান থেকে ধার নিয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। “কিন্তু এখন দোকানদারের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া থাকায় তারা আর নতুন করে মাল দিতে রাজি নন। সেই কারণেই আমরা সংকটে পড়ে আগাম ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।

বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছুটি বাতিল হওয়ায় আমাদের সন্তানেরা সরকারি ছুটির আগেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে। এটা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত।

স্থানীয় দোকানদার শৈক্যচিং মারমা বলেন, “অনেকদিন ধরে টাকা বকেয়া রয়েছে। পুরোনো বিল পরিশোধ না হলে আর খাবার সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সাময়িক ছুটি দেয়া হয়েছিল।”

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা জানায়, হঠাৎ করে ছুটি ঘোষণায় তারা পড়াশোনার ক্ষতির শঙ্কায় ছিল।

দশম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেলের ফিরে এসে জানান, আমরা আবার ফিয়ে এসেছি গত কাল ১৯ তারিখ আমাদেরকে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে আজ আবার ফিরে আসার জন্য বলা হয় তাই আমরা আবার বিদ্যালয়ে আসছি।পরীক্ষা ঘনিয়ে এসেছে হঠাৎ ছুটি হলে আমরা পড়াশোনায় পিছিয়ে যেতাম। ক্লাসে ফিরতে পেরে আমরা খুশি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, শুধু খাদ্য সংকটই নয়, শিক্ষক ও কর্মচারীরা গত তিন মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। এতে তাদের পরিবারের মধ্যে চরম ভোগান্তি চলছে।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত এ সংকট সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে বাঘাইছড়িতে উত্তাল জনতা, বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

রুমা আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেরানো হলো হোস্টেলে।


আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের গুঞ্জনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘পদত্যাগ মানি না, মানব না’ স্লোগানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

‎রবিবার (পহেলা জুন) বিকাল ৫ টায় কাচালং বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌমুহনী শাপলা চত্বরে এসে টায়ার জ্বালিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‎সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন বাহারি, রাঙ্গামাটি জেলা জিয়া পরিষদের উপদেষ্টা অলক বিকাশ চাকমা, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজালাল চৌধুরী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

‎বক্তারা বলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর জানতে পেরেছেন। যদি এ খবর সত্য হয়ে থাকে, তবে তা পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

‎তারা দাবি করেন, রাঙ্গামাটি জেলার জনগণের বিপুল সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

‎সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “অজ্ঞাত কোনো কারণে যদি তিনি পদত্যাগ করে থাকেন, তবে তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে পুনরায় তাঁকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্বে বহাল রাখা হোক।”

‎বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

রুমা আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেরানো হলো হোস্টেলে।

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ রিপোর্টার:

রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ২৯৯ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এডভোকেট  দীপন দেওয়ান বিপুল ভোটে এমপি জয়ী হন। তিনি বিগত শাসন আমল হতে কত নিপীড়িত নির্যাতিত হয়েও বিএনপি দল রাঙ্গামাটি জেলা রাজপথে বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে হাল ধরে তার নেতৃত্বের সু-সজ্জিত মাঠ পযার্য়ের বিএনপি দল সংগঠনকে শক্তিশালী গঠন করেছে, তার নেতৃত্বের বর্তমানের পুরো জেলা বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন শান্তি শৃঙ্খলা পরিবেশের এগিয়ে নিয়ে গেছে তার অবদান অপরিসীম। তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি হতে সোস্যাল মিডিয়াসহ প্রচারিত আজ ০১ তারিখ জুন হতে তার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বরাবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিকট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী পদ হতে নানা শারীরিক অসুস্থ জতিলতায় ভুগছি, বর্তমানের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

আরো বিস্তারিত উল্লেখ্য, আবেদনের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান মন্ত্রী পদ থেকে থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি। অন্যদিকে জেলা জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এর দলীয় নেতাকর্মীরা তার সমর্থিত দলীয় লোকরা এডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী পূর্নবহাল রাখার দাবীতে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কিছু বিএনপি দলীয় নেতা তার সমর্থিত জানান, কেন হঠাৎ করে মন্ত্রী পদ অব্যাহতি  ছাড়ছে সেটা চিন্তা বিষয় ও কোন ষড়যন্ত্র করছে কিনা সেটা বাবার আছে বলে দলীয় সূত্রে অনেকে মনে করেন।

রাজধানীমুখী মানুষের ভিড়ে সরগরম দীঘিনালা বাস টার্মিনাল

রুমা আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেরানো হলো হোস্টেলে।

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

টানা ঈদের ছুটি ও বিভিন্ন প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা বাস টার্মিনাল।

সোমবার ১ জুন ২০২৬ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দূর-দূরান্তের মানুষ রাজধানীতে কর্মস্থলে যোগদান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পারিবারিক কাজে যাতায়াতের জন্য বাস টার্মিনালে ভিড় করছেন।

বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে এসে অপেক্ষা করছেন। যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

টার্মিনালে অবস্থানরত কয়েকজন যাত্রী জানান, ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে এবং জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হওয়ায় তারা আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

অন্যদিকে বাস চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে টার্মিনালজুড়ে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টার্মিনাল এলাকায় তৎপর থাকতে দেখা গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।
রাজধানীমুখী মানুষের এই ব্যাপক যাত্রাচাপে দীঘিনালা বাস টার্মিনাল এখন যেন এক ব্যস্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শান্তি পরিবহনের লাইম্যান মো: নাছির উদ্দিন জানান সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাহাতে গন্তব্যে স্হানে পৌঁছাতে এটাই আমাদের দায়িত্ব।

×