শিরোনাম:

সাজেকে করলা চাষে সাফল্য রারেন্দু চাকমা

সাজেকে করলা চাষে সাফল্য রারেন্দু চাকমা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা প্রতিনিধি:

পার্বত্য এলাকা সাজেকে কড়লা চাষ করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ কৃষক রারেন্দু চাকমা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে তিনি যেমন নিজের ভাগ্য বদলেছেন, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছেন।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে পারিবারিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কড়লা চাষ শুরু করেন রারেন্দু চাকমা। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও নিজ উদ্যোগে উন্নত বীজ ব্যবহার, সঠিক পরিচর্যা এবং জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়েই ভালো ফলন পান তিনি। চলতি মৌসুমে তার কড়লা ক্ষেত থেকে উৎপাদিত কড়লা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

রারেন্দু চাকমা জানান, “আগে পাহাড়ে মূলত জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। কিন্তু কড়লা চাষ করে বুঝেছি পরিকল্পিত কৃষি করলে পাহাড়েও ভালো আয় করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, কড়লা চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলেও লাভ বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে চাষের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় বাঘাইহাট ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার দয়াধন চাকমা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া কড়লা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। রারেন্দু চাকমার সাফল্য দেখে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক কড়লা ও অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সাজেকে রারেন্দু চাকমার এই উদ্যোগ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পাহাড়ি কৃষিতে বিকল্প আয়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আলীকদমে আদালতের আদেশ অমান্য করে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের অভিযোগ পারুলে বিরুদ্ধে

সাজেকে করলা চাষে সাফল্য রারেন্দু চাকমা

 ‎

আলীকদম প্রতিনিধি, ‎বান্দরবান (আলীকদম) প্রতিনিধি:

‎বান্দরবানের আলীকদমে ২ন চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের সিরাজ কারবারী পাড়া এলাকায় আদালতের রায় অমান্য করে এক নারীর ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে পারুল বেগমের বিরুদ্ধে। ‎বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) অভিযোগকারী শাহেনা বেগম (৩৫) জানান, পারুল বেগমের লোকজন গায়ের জোরে আমার ক্রয়কৃত জমিতে জোরপূর্বক ভাবে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রতিবাদ করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ‎ভুক্তভোগী শাহেনা বেগম আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ওবাইদুল হাকিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি জানান, ২৮৯নং চৈক্ষ্যং মৌজায় তার মৃত মায়ের নামীয় হোল্ডিং নং–৫০৭ এর অধীন ০.৭০ একর জমি তিনি ২০১৮ সালে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে বৈধ ভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পারুল বেগম, মোঃ দারুসালাম, মোঃ বেলাল উদ্দিন, নুর বেগম ও লোকমান দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে। এ ঘটনায় পূর্বে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বান্দরবানে সি আর নং–৬৬/২০২০ মামলা দায়ের করা হলে আদালত অভিযোগকারীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। তবে আদালতের রায় অমান্য করে গত ৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় গায়ের জোরে জমিতে প্রবেশ করে পাহাড়ের মাটি কেটে ঘর নির্মাণের প্রস্তুুতি নেয় বলে অভিযোগ করেন শাহেনা বেগম। এ সময় তিনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে বাড়িতে আশ্রয় নেন।

‎শাহেনা বেগম আরও জানান, অভিযুক্তরা এলাকার প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোনো সময় তার জানমালের ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় শৃঙ্খলা শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ‎

আদালতের রায় অমান্য করে জমি দখলের পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে পারুল বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৮৯নং চৈক্ষ্যং মৌজায় আমাদের মৃত মায়ের নামীয় হোল্ডিং নং–৫০৭ এর অধীনস্থ ভোগদখলীয় জমি। এখানে আমরা চার (৪) বোন সবাই ইসলামিক শরীয়া মোতাবেক জমি ভাগ বণ্টন করি সবাই। এখানে আমার বিরুদ্ধে যে পাহাড়/জমি দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণতা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। ‎

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আলীকদম থানার এস.আই মো. আবু সাঈদ বলেন, কোর্টের আদেশ অমান্য করে কাজ না করতে বলা হয়েছে। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয় পক্ষ কে শান্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

গৌরবময় সাফল্যে জারি গানে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করলো কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ ​

সাজেকে করলা চাষে সাফল্য রারেন্দু চাকমা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ। জারি গান ও বাংলা রচনা প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা একাধিক গৌরবজনক স্থান দখল করেছে। ​

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় জারি গান (ক-বিভাগ) গ্রুপে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছে কাপ্তাই নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের নাজিফা জাহান ও তার দল। বিজয়ী দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— আদৃতা দে, আদৃতা দাশ, আরধ্য ত্রিপুরা, অদ্বিতীয়া মারমা এবং জ উইন। ​

এছাড়াও জারি গানের খ-বিভাগে নিং নিং ফ্রু চৌধুরী ও তার দল এবং গ-বিভাগে স্বর্নালী বড়ুয়া ও তার দল বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ​অন্যান্য অর্জন ​সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মেধার স্বাক্ষর রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। বাংলা রচনা প্রতিযোগিতার (ক-বিভাগ) ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অভিজ্ঞ চাকমা বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। ​মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার বিজয়ী প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।

কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তামান্না ইসলাম জানান, দিনব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে এবং ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ এর এই সাফল্যে তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কমান্ডার আলিফ উল্লাহ, উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম, কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান, কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্তসহ আরও অনেকে।  ​

অভিনন্দন বার্তায় সাফল্যের তারা বলেন, এই সাফল্য কাপ্তাই তথা রাঙ্গামাটি জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষিতে অবদান রাখায় জলপাই চাষিদের সংবর্ধনা

সাজেকে করলা চাষে সাফল্য রারেন্দু চাকমা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, লংগদু :

রাঙ্গামাটির দুর্গম লংগদু উপজেলায় প্রথমবারের মত উন্নতজাতের জলপাই বীজ আবিস্কারের মাধ্যমে বাগান মালিকদের আয়ের নতুন পথ সৃষ্টি করায় এবং কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখায় এরশাদ মাস্টার সহ ৬ জনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) বিকালে গুলশাখালী চৌমুহনী বাজারে ফল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আয়োজনে সভাপতি ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

নাভিজাতের উন্নতমানের জলপাই বীজ চারা রোপন করে সফল হয়েছেন এমন ছয়জন সফল জলপাই চাষীকে সমিতির পক্ষ হতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু নাছের, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জহুরুল হক মিলন এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল সহ এলাকার বাগান মালিকরা।

উন্নতজাতের জলপাই চাষি এরশাদ মাস্টার বলেন, আমি সবসময় নানারকম ফসলাদি নিয়ে নতুনত্ব খুঁজি। যেন এলাকার মানুষের জন্য নতুন কিছু দেওয়া যায়, যা দিয়ে এখানকার চাষীরা সফল হবে। তারই ধারাবাহিকতায় জলপাই চাষকে আরও প্রসারিত করতে ২০০৬ সালে এ বীজের বিশেষত্ব বের করি। দীর্ঘ পাঁচবছর নিজেই পর্যবেক্ষণ করে, ২০১১ সালে চারা আকারে বাজারজাত করি। পরে অনেকেই জলপাই চাষে সফল হয়েছেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলপাই চাষে শুধু কৃষকরাই সফল হয়েছে বিষয়টা এমন নয়, জলপাই যেহেতু উঁচু নিচু সকল জায়গায় চাষ করা হয়, তাই পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি ভাঙ্গা রোধ, অনাবাদি জায়গায় চাষ করা সহ নান উপকার হচ্ছে। তাই সকলকে উন্নত জাতের জলপাই চাষের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

×