লামায় বন্যহাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও বনায়ন উপকারভোগীদের আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ
সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামায় বন বিভাগের আওতায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুরে ১২টায় লামা বন বিভাগের রেস্ট হাউজ চত্বরে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন, বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম। সভাপতিত্বে করেন, লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন,সহকারী কমিশনার (ভূমি) লামা রুবায়েত আহমেদ, লামা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুদ আলম, লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দিন, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা. এস.এম. হাবিবুল্লাহ, রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ও মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মালেক সহ প্রমূখ। এছাড়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক বনায়নের অংশীদার, বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা’সহ প্রমূখ।

বন বিভাগের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্যহাতি দ্বারা আক্রান্ত মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ ও ফসলের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২১ জনকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়। অত্র বন বিভাগের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে মাতামুহুরী রেঞ্জের আলীকদম বিটে ক্রাইক্ষ্যং ও চিতারঝিরি এলাকায় ২০০৪ ও ২০০৫ অর্থবছরে সৃজিত ৫০ হেক্টর ব্লকউড ব্লক এ-১ ও এ-২ বাগানের ৫০ জন উপকারভোগী ও ২০০৪ ও ২০০৫ অর্থবছরে সৃজিত ৫০ হেক্টর ব্লকউড ব্লক এ-৩ ও এ-৪ বাগানের ৪ জন উপকারভোগীর মাঝে লভ্যাংশ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৬ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
বন্যহাতি সংরক্ষণ ও মানুষ হাতির সহবস্থান নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন, বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিম। তিনি বলেন, হাতিকে আঘাত না করলে হাতি কখনো মানুষকে আঘাত করেনা। কখনো শুনেছেন বন বিভাগের কোন স্টাফকে বন্য প্রাণী আঘাত করেছে কিনা ? হাতি মানুষের জায়গায় আসেনি, আমরা মানুষ হাতির আবাসস্থলে গিয়েছি।পৃথিবীকে মানুষের আবাদযোগ্য রাখতে হলে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ আমাদের রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক বনায়নে অংশীদার হয়ে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ করা হয়। এতে উপকারভোগীরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বন বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।















