শিরোনাম:

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আডমস কেপ কারখানায় ছয়মাসের ফের আবারও আগুন

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আডমস কেপ কারখানায় ছয়মাসের ফের আবারও আগুন

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রাম ইপিজেড (CEPZ) এলাকায় আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল)২৬খ্রিঃ দিবাগত রাত আনুমানিক ১১ঃ৪০ মিনিটের সময় ইপিজেডের অভ্যন্তরে অবস্থিত “আডমস কেপ”(Adams Apparels) নামক পোশাক কারখানায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

রাত পৌনে ১২টার সময়ের দিকে কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চারপাশ থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় চালিয়ে যাচ্ছে। মাত্র ছয় মাস আগে অর্থাৎ গত বছর (২০২৫ সালে) এই একই কারখানায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।
সেই সময় আগুনের তীব্রতায় কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং দীর্ঘ সময় লেগেছিল তা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও একই প্রতিষ্ঠানে আগুনের ঘটনায় কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নি-নির্বাপণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দিঘীনালায় ৫ দিনব্যাপী বৈসাবি মেলার উদ্বোধন

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আডমস কেপ কারখানায় ছয়মাসের ফের আবারও আগুন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বৈসাবিকে কেন্দ্র করে ৫ দিনব্যাপী বৈসাবি মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। ৮ এপ্রিল সকাল থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মেলার শুভ সূচনা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিঝু উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও দিঘীনালা ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চীপ বেরিষ্টার দেবাশীষ রায়। অনুষ্টানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন শ্রী বিমল কান্তি চাকমা সভাপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাবেক মহালছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘীনালা ৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা, সচেতন নাগরীক সমাজের সদস্য সমির চাকমাসহ জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্টানে চাকমা সার্কল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। এই মেলা সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে এনে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। মেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, খাবার এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের৷ আকর্ষণ করছে। শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে নাচ, গান ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আয়োজকরা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। বৈসাবি মেলার মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আডমস কেপ কারখানায় ছয়মাসের ফের আবারও আগুন

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, পরিচয়পত্রসহ নানা সেবা পেতে জনগণকে এই প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতেও চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব সেবা নিতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি জন্মনিবন্ধন অনলাইনে করতে ২০ থেকে ৩০ দিন, কখনো তারও বেশি সময় লাগছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন, যা সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, একটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়। সরকার তো এত টাকা নির্ধারণ করেনি, তাহলে আমরা কেন দেব? একই ইউনিয়নের শিক্ষার্থী রিপন ম্রো জানান, জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়নে না পেয়ে রুমা উপজেলা সদরে যেতে হয়, এতে যাতায়াতে প্রায় ৪০০/১০০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে একটি জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি ফি অনুযায়ী, জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য দেশে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা জানান, আমাদের নির্ধারিত কোনো বেতন নেই। অতিরিক্ত টাকা নিতে হয় এবং এই টাকা একা আমরা নেই না—চেয়ারম্যান, সদস্য ও সচিবদেরও ভাগ দিতে হয়। এছাড়া জন্মনিবন্ধন করতে গেলে নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে বারবার ঘোরানো হয়। কখনো বিদ্যুৎ নেই, কখনো সার্ভার সমস্যা, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত—এভাবে দিনের পর দিন হয়রানি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। শুধু জন্মনিবন্ধনই নয়, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতেও ঘুষ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়নের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাত ও কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিক সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়িতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আডমস কেপ কারখানায় ছয়মাসের ফের আবারও আগুন

 

বিশেষ প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার কুকিছড়া এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার (৮ এর্প্রিল) সকালে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর গুইমারা সেক্টরের ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড। অভিযানে অংশ নেয় সিন্দুকছড়ি, মহালছড়ি ও মাটিরাঙা জোন।

জোন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট” (ইউপিডিএফ-মূল) ১০ হতে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ কুকিছড়াপাড়ার একটি বাড়িতে অবস্থান করছে। পরে সিন্দুকছড়ি জোনের নেতৃেত্ব ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে সিন্দুকছড়ি, মহালছড়ি ও মাটিরাঙা জোনের সমন্ব ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ’ অপারেশন পরিচালনা করে।

আরো জানায়, “সেনাবাহিনীর তল্লাশি দল ইউপিডিএফ এর পোস্ট পরিচালক তনিমং মারমার বাসভবন ঘেরাও করার সময় সেখানে অবস্থানরত দুই জন ইউপিডিএফ (মূল) সদস্য দৌড়ে নিকটস্থ ছড়ায় ঝাঁপ দেয়। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তারা পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সেনাসদস্যরা তাদের পিছু ধাওয়া করলেও দূর্গম ভূ-প্রকৃতির কারণে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১টি দেশীয় পিস্তল, ১টি দেশীয় পাইপ গান, ৬ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন (গুলি) ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী ঘটনার সততা নিশ্চিত করে বলেন, সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলাবারুদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

×