| ৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি তীব্র দাবদাহ, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়া এবং নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই অঞ্চল। একদিকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে, অন্যদিকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। পর্যটননির্ভর এই জনপদ এখন কার্যত পর্যটকশূন্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চরম স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পানির অভাবে থমকে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

​বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র গরমে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে।
​কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট চালু রয়েছে। যা থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে—যা স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। ফলে রাঙ্গামাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দিন-রাত দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমে।
​নৌ-চলাচল ব্যাহত ও মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা
​হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ খাল ও উপখালগুলোতে নৌ-চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় দুই-ই বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এরই মধ্যে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন রক্ষায় ২৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে হ্রদে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তার কথা জানানো হলেও জেলেরা একে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাপ্তাই এখন পর্যটকশূন্য। তীব্র গরম, হ্রদে নাব্যতার সংকট এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটকরা কাপ্তাই বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ফলে হ্রদকেন্দ্রিক বোট মালিক, হোটেল-রিসোর্ট ও স্থানীয় দোকানদাররা লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, অনুকূল পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটন খাতে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি না হলে হ্রদের পানির স্তর বাড়বে না, আর পানি না বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১টি সচল (মাত্র ৪০ মেগাওয়াট) হ্রদের পানি অস্বাভাবিক নিম্নস্তর, নৌ-চলাচল বিঘ্নিত,মৎস্য খাত ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু (২৫ এপ্রিল থেকে)

প্রকৃতি, অর্থনীতি ও জীবিকার এমন চতুর্মুখী সংকট কাটাতে এখন বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টির দিকেই চেয়ে আছে কাপ্তাইয়ের সাধারণ মানুষ।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে থানচিতে গণসংহতি আন্দোলনের গণসমাবেশ

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠন এবং নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণসমাবেশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে থানচি বাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপজেলা শাখার অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক উ থোয়াই ওয়াং মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের জাতি বৈচিত্র্য বিষয়ক সম্পাদক উবা থোয়াই মারমা।

উপজেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী সিনয়া ম্রোর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন, উপজেলা সমন্বয়কারী মংসাই মারমা। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশন থানচি উপজেলা কমিটির সদস্য অং ম্যা থোয়াই মারমা। এছাড়াও সমাবেশে উপজেলা শাখার সদস্য শৈচৌওয়াং মারমা, রুমাজন ত্রিপুরা, রেমাক্রী ইউনিয়ন কমিটির সদস্য থংপং ম্রোসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছেন। কিন্তু এখনো জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও চেতনা ধারণ করতে হলে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

এ গণসমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

ইয়ংম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

বিশেষ প্রতিনিধি, রাঙামাটি :

“জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ০৫ আগস্ট বুধবার সকালে ইয়ংম্রং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজস্থলীতে ‘জুলাই জাতীয় গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, রচনা প্রতিযোগীতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।

বিদ্যালয়’র সিনিয়র সহকারী শিক্ষক অরুপ কুমার মুৎসুদ্দীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্রানুচিং মার্মা এবং সুমিত্রা চাকমা।

বক্তারা বলেন, সকলের আগে জনতা, জনতার আগে দেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ এটাই আমাদের মনে রাখতে হবে। শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

রাইখালীতে দুস্থদের চাল বিতরণ করতে গিয়ে বিপাকে বিএনপি নেতা

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

 

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত বন্যার্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ নিয়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি মো. আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হলেও পরিবহন ও লেবার খরচ বাবদ কিছু চাল সমন্বয় করাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ​

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কাপ্তাই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত ও হতদরিদ্র দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাইখালী ইউনিয়নে মোট ৮ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়, যার প্রথম ধাপে ৬ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া ২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ নিয়ে এলাকার কিছু মহলে কানাঘুষা শুরু হয়। ​

রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ক্যওসিংমং চৌধুরী জানান, পরিষদের বরাদ্দ অনুযায়ী রাইখালী ইউনিয়ন যথাযথ নিয়মেই ৮ মেট্রিক টন চাল পেয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজি মো. আবুল হাসেম গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, রাইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সহজে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল সংগ্রহ করতে পারেন না। এই বাস্তবটি মাথায় রেখে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরাসরি দুস্থদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। গত ৩০ জুন জীপ গাড়িতে করে ২ টন বা (৪০ বস্তা) চাল বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে ১৯১ জন দুস্থ পরিবারকে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ​

বিতরণকৃত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বড়খোলা পাড়া, ডংনালা পাড়া, পূর্ব কোদালা মারমা পাড়া, কারিগর পাড়া, ভালুকিয়াপাড়া, চাকোয়া পাড়া, বড়পাড়া, নাড়াইছড়ি পাড়া, কচুরি পাড়া, গবছড়া পাড়া, তিনছড়ি পাড়া, তিনছড়ি নোয়া পাড়া, তিনছড়ি মধ্যম পাড়া, কালামাইস্যা পাড়া, বটতলি পাড়া, গংগ্রি ছড়া, বালামছড়ি পাড়া, হাফছড়ি এবং জগনাছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাজি মো. আবুল হাসেম আরও বলেন, “জেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যখন চালগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তখন গাড়ি ভাড়া বা লেবার খরচের জন্য কোনো আলাদা বরাদ্দ বা অর্থ দেওয়া হয়নি। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় চাল পরিবহনের খরচ মেটানোর জন্যই সামান্য কিছু চাল সমন্বয় করে খরচ মিটানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিজ দলের একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি বা পাড়ায় পাড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে যাতায়াত খরচ বা পরিবহন ব্যয় সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না থাকায় অনেক সময় এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

×