| ৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়ের পবিত্র বুকে দুই রাত : বহিরা গাছের ছায়ায় আদিবাসী জীবন ও জুমের রূপকথা

পাহাড়ের পবিত্র বুকে দুই রাত : বহিরা গাছের ছায়ায় আদিবাসী জীবন ও জুমের রূপকথা

ছন্দ সেন চাকমা, বিলাইছড়ি থেকে ফিরে :

১০ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা নামার আগেই আকাশটা কালো হয়ে এলো। শুরু হলো ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। আমরা তখন রাঙামাটির এক প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামের মাটির ঘরের বারান্দায়। রাতের অন্ধকারে বৃষ্টির ছন্দে মিশে যাচ্ছিল পাহাড়ি ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম, কালকের পথটা তো আরও কঠিন হবে!

​কিন্তু পরদিন সকালেই প্রকৃতি অন্য রূপ ধারণ করল। রোদ এমন চড়া যে গা পুড়তে শুরু করল। বৃষ্টিতে ভেজা মাটি থেকে একটা সোঁদা গন্ধ আসছে, রোদের তাপ আর সেই বাষ্প মিশে এক অদ্ভুত গুমোট পরিবেশ। আমাদের সামনে কঠিন পথ—গ্রাম পেরিয়ে পাহাড়ে, তার পর আরও পাহাড়ে।

​সাত ঘণ্টার হাঁটাপথ: কিলোমিটারের গল্প —–

​আমরা সমতলের হিসাব নিকাশ ছেড়ে পাহাড়ি সময়কে সঙ্গী করে বেরিয়ে পড়লাম। ঘড়ির কাঁটায় দেখলাম পুরো সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে। পাহাড়ি পথে এই সাত ঘণ্টা মানে আপনি প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন। হ্যাঁ, শুধু পাহাড়ি টিলা বেয়ে চলা, মাঝে মাঝে ঝরনার স্বচ্ছ পানি দিয়ে তৃষ্ণা মেটানো আর ঘন বনের মধ্য দিয়ে যাওয়া।

​জমিনের পথ থেকে গ্রাম পেরিয়ে আমাদের প্রথম যাত্রা শুরু হয়। এই গ্রামগুলো অদ্ভুত শান্ত। দূর থেকে পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট মাটির বা বাঁশের ঘর। গ্রাম ছাড়িয়ে শুরু হলো জুম চাষের রাজত্ব।

জুম চাষ: আদিবাসী জীবনের গল্প —–

​পাহাড়ে উঠতেই চোখে পড়ল আদিবাসী জুমিয়াদের জুম ক্ষেত। এখানকার আদিবাসী পাহাড়িরা পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে চাষ করে। এটিকে তারা ‘জুম চাষ’ বলে ডাকে। তারা পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে, তারপর পুড়িয়ে ছাই ছাই করে ফেলে। সেই ছাইয়ে বীজ বুনে দেয়। এই ছাই যেমন জমির উর্বরতা বাড়ায়, তেমনি মাটিকে অনেকদিন পর্যন্ত শক্ত রাখে। এই জুম ক্ষেতে তারা ধান, সবজি, আর অন্যান্য অনেক রকমের শস্য ফলায়। তাদের এই কঠোর পরিশ্রমের ফল—পাহাড়ি জনপদের প্রধান খাবার।

​শত বছরের বহিরা গাছের মিতালী—–

​পথের মাঝে মাঝে আমাদের অবাক করে দিচ্ছিল বড় বড় বহিরা গাছ। শত বছর বয়সী এই গাছগুলো যেন পাহাড়ের প্রহরী। তাদের বিশাল ডালপালা আর শিকড় পাহাড়ি মাটি আঁকড়ে ধরে আছে। আদিবাসীরা এই গাছগুলোকে খুব সম্মান করে। তারা বিশ্বাস করে, এই গাছগুলো তাদের রক্ষা করে। কোনো গাছ কাটার আগে তারা অনুমতি নেয়, পূজো দেয়। এই বন শুধু গাছ নয়, এটা তাদের জীবন, তাদের ঐতিহ্য।

​বৈচিত্র্যময় চরিত্রের পবিত্র বন —–

​বনটা অদ্ভুত। তার বৈচিত্র্যময় চরিত্র আমাকে বার বার অবাক করছিল। এক মুহূর্ত মনে হচ্ছে, এখানে কোনো দিন কেউ আসেনি, পরের মুহূর্তেই দেখতাম কোনো একটা আদিবাসী নারী কাঠ সংগ্রহ করছে। বনের এক কোণে দেখলাম একটি বন্যপ্রাণী ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, কোনো অচেনা পাখির মিষ্টি সুর—সব মিলে এক অদ্ভুত জাদুকরী পরিবেশ।
​রাতের বেলা বনের রূপ আরও রহস্যময়। চাঁদের আলোয় পাহাড়ের চূড়াগুলো রূপালী রং ধারণ করে। বনের মধ্য দিয়ে ঝরনার পানির শব্দ গভীর নিস্তব্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

​এই ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল এক একটি নতুন অভিজ্ঞতা। প্রকৃতি, মানুষ, আর তাদের এই মিতালী—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত কাব্যিক রূপ ধারণ করেছে। আমি, ছন্দ সেন চাকমা, সেই রূপ ক্যামেরায় বন্দি করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু জানি, এই সৌন্দর্য ক্যামেরায় সবটুকু ধরা দেওয়া কঠিন। পাহাড়ের পবিত্র বুকেই এই অমূল্য সম্পদ সংরক্ষিত হয়ে থাক।

বাঘাইছড়ির করেঙ্গাতলীতে বিদ্যুৎ লাইনে কাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই কর্মী আহত ‎

পাহাড়ের পবিত্র বুকে দুই রাত : বহিরা গাছের ছায়ায় আদিবাসী জীবন ও জুমের রূপকথা

 

‎আনোয়ার হোসেন,  ‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৫নং বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী বাজার সংলগ্ন ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উত্তম ও অরুণ নামে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ‎শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে কাজ শুরু করার আগে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের কাছে প্রধান (মেইন) বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ করার আবেদন করা হয়। এরপর তারা খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ মেইন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়ে গেলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং খুঁটির ওপরেই গুরুতর আহত অবস্থায় আটকা পড়ে যান। ‎পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে একজন পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। ‎ ‎

ঘটনার বিষয়ে জানতে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক রাজস্ব কর্মকর্তা সুগত চাকমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ‎তবে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আখিনু চাকমা জানান, মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের মেইন লাইন দিঘীনালা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। ‎তিনি বলেন, “উত্তম ও অরুণ কাজের জন্য মেইন লাইন বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমি মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে করেঙ্গাতলী বাজারের লাইন বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার আগেই তারা খুঁটিতে উঠে কাজ শুরু করেন।

এ সময় দিঘীনালা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মারিশ্যা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের মেইন লাইন পুনরায় সচল করে দেওয়া হয়। ফলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।” ‎ ‎ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ‎

রুমায় এমপি রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরীকে সংবর্ধনা, “বিটিকেএস” ভবন সংস্কার ও আসবাবপত্র প্রদানের প্রতিশ্রুতি

পাহাড়ের পবিত্র বুকে দুই রাত : বহিরা গাছের ছায়ায় আদিবাসী জীবন ও জুমের রূপকথা

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের ৩০০নং সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী এমপি’র রুমা উপজেলা সফর উপলক্ষে তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়েছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ (বিটিকেএস) রুমা উপজেলা শাখা। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে “বিটিকেএস” ভবনের জরুরি সংস্কার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের দাবি জানানো হলে সংসদ সদস্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় রুমা উপজেলা শাখার “বিটিকেএস” ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সভাপতি শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরার নেতৃত্বে কার্যনির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নারী-পুরুষ সদস্যরা পুষ্পমাল্য পরিয়ে সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা “বিটিকেএস” ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে আনেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, দেয়ালের রং খসে পড়া, গ্রিল নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং ভবনের চারপাশের মাটি ধসে পড়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভবনটি প্লাবিত হওয়ার পর এর ক্ষয়ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভবনটিতে অসচ্ছল পরিবারের কয়েকজন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী অবস্থান করে পড়াশোনা করছে। ভবনটি সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সরকারিভাবে দ্রুত সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

জবাবে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরী “বিটিকেএস” ভবনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবনের জরুরি সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্যের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে রুমা উপজেলার ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সামাজিক, সাংগঠনিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

সাইক্লিস্ট রাকিবুল ও কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের মানবিকতায় বদলে গেল এক পরিবারের জীবন

পাহাড়ের পবিত্র বুকে দুই রাত : বহিরা গাছের ছায়ায় আদিবাসী জীবন ও জুমের রূপকথা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​”দিন আনি দিন খাই, বৃষ্টি নামলে সারা রাত জেগে বসে থাকি, মাটির মেঝেতে পানি জমে বিছানা ভিজে যায়। খুুঁটি নড়বড়ে, যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার ভয়ে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরি।”— রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা ইউনিয়নের কাঠালতলী এলাকার চন্দ্রলাল তনচংগ্যা ও ফুলবী তনচংগ্যা দম্পতির কণ্ঠে ছিল বেঁচে থাকার সেই দীর্ঘশ্বাস। দুই সন্তান নিয়ে ভাঙাচোরা আর পচন ধরা খুঁটির ঘরে বর্ষার রাতগুলো ছিল তাদের জন্য এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার নাম। তবে সেই দুশ্চিন্তার রাত ফুরিয়েছে মানবিকতার ছোঁয়ায় আজ তারা পেলেন মাথা গোঁজার একটি মজবুত নতুন ঠিকানা। এই পরিবারের জীবনে আলোর দিশারী হয়ে এসেছেন জাতীয় সাইক্লিস্ট ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রাকিবুল ইসলাম। গত চার বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাইক্লিং প্রশিক্ষণের সুবাদে পাহাড় ও স্থানীয় মানুষের সাথে গড়ে উঠেছে এক গভীর আধ্যাত্বিক সম্পর্ক।

রাকিবুল ইসলাম জানান, “পাহাড়ের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়েছে, তার প্রতিদানস্বরূপ এটি আমার পক্ষ থেকে একটি সামান্য উপহার।” তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং দেশ-বিদেশে থাকা শুভাকাঙ্কীদের অর্থায়নে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই ঘর।

উল্লেখ্য, রাকিবুল ইসলাম এর আগেও খাগড়াছড়িতে আরও তিনটি অসহায় পরিবারকে গৃহনির্মাণে সহায়তা করেছেন। এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা বীর কুমার তনচংগ্যা। তার নিরলস প্রচেষ্টায় এবং কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় পরিবারটি আজ নিরাপদ আশ্রয় পেল।

ঘরটি হস্তান্তরের সময় আবেগাপ্লুত বীর কুমার তনচংগ্যা বলেন, “সমাজের মানুষের বিপদে মানুষই যদি পাশে না দাঁড়ায়, তবে পৃথিবীটা অনেক বেশি রূঢ় হয়ে যেত। আজ এই পরিবারটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে দেখে যে শান্তি পাচ্ছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবিমল তনচংগ্যা, ওয়াগ্গা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আশীষ কুমার তনচংগ্যা ও শ্যামল তনচংগ্যা, সাফছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা উজ্জ্বলা রাণী তনচংগ্যা।​ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি সুগত তনচংগ্যা, সাধারণ সম্পাদক টিপু তনচংগ্যা, সহ-কোষাধ্যক্ষ সোহেল তনচংগ্যা, সদস্য অপু তনচংগ্যা, লেডি বাইকার ও স্কুটি প্রশিক্ষক জেমিয়া ফারজানা নিতু।

এছাড়া বাংলাদেশ তনচংগ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম (কাপ্তাই অঞ্চল), কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংকের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম কর্মী এবং স্থানীয় যুব সমাজের নেতৃবৃন্দ এই মহতী কাজের সাক্ষী হন।​ নতুন ঘরে আশ্রয় পাওয়ার পর চন্দ্রলাল-ফুলবী দম্পতির চোখে ছিল আনন্দাশ্রু।

তারা বলেন, “আমরা ভাবতেও পারিনি আমাদের জীবনে এমন একটি দিন আসবে। আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় ছিলাম, এখন এই ঘরটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার।”মানুষের জন্য মানুষের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতার নজির এলাকা জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাকিবুল ইসলাম ও তার অকুতোভয় স্বেচ্ছাসেবকরা।

×