শিরোনাম:

টাইগারপাসে উত্তেজনার পর গ্রাফিতি আঁকায় নিজেই নামলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

টাইগারপাসে উত্তেজনার পর গ্রাফিতি আঁকায় নিজেই নামলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রাম নগরীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে টানা দুই দিন ধরে উত্তেজনা, রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নগরী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত নিজেই গ্রাফিতি আঁকতে নামেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার (১৮ মে)২৬ খ্রিঃ রাতে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় ওয়াসিম ফ্লাইওভারের পিলারে নিজ হাতে গ্রাফিতি অঙ্কনের উদ্বোধন করেন মেয়র। এ সময় বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চারুকলার শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে রাতভর বিভিন্ন স্থানে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি চলে। এর আগে গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোববার রাত থেকেই নগরীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ ওঠে, টাইগারপাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে থাকা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতির ওপর চসিকের পক্ষ থেকে হলুদ ও সাদা রঙ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামে এনসিপির নেতাকর্মীরা। এনসিপির বিক্ষোভ থেকে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে একই এলাকায় রাতেই মিছিল করেন ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগারপাস এলাকায় এবং বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নিলে মুখোমুখি উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে রাত ১২ঃ০০টার সময় মেয়র শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সোমবার সকাল থেকে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

পুলিশ কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ৩০ ধারা অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সোমবার দুপুরে টাইগারপাস এলাকায় কিছু শিক্ষার্থী গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বেলা পৌনে ১ টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পরে তারা তিনজন করে গিয়ে গ্রাফিতি আঁকার কথা জানালেও পুলিশ বাধা দেয়। বেলা ২টার দিকে রং-তুলি নিয়ে দেয়ালে আঁকতে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রঙের বালতি থেকে রঙ ছিটকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীর গায়েও পড়ে। পরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে বেলা আড়াইটার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি ঘিরে নগরজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি থাকার পরও ৫০-৬০ জন সেখানে জড়ো হয়েছিল। তাদের সরতে বলা হলেও তারা শোনেনি। সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের গায়ে রঙ মারে। কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল, পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। পরে দুপুরে অস্থায়ী নগর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তিনি নিজে গ্রাফিতি অঙ্কনে অংশ নেন। মেয়রের উপস্থিতিতে চারুকলার শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবারও দেয়ালে জুলাই আন্দোলনের নানা প্রতীক, স্লোগান ও চিত্র অঙ্কন করেন। একই সময়ে নগরীর অন্য এলাকাতেও এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা পৃথকভাবে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি পালন করেন।

বর্তমানে নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে গ্রাফিতি মুছে ফেলা এবং তা পুনরায় আঁকাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে, তা এখনো চট্টগ্রামের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

কর্নফুলীর মোহনায় জাহাজে দুই ক্রুর মারামারি ছুরিকাঘাতে থাইল্যান্ড নাগরিক নিহত

টাইগারপাসে উত্তেজনার পর গ্রাফিতি আঁকায় নিজেই নামলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ :

চট্টগ্রামের কর্নফুলী নদীর মোহনায় আনোয়ারা উপকূলে নোঙর করা একটি বিদেশি জাহাজে দুই ক্রুর মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক থাইল্যান্ডের নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি এমটিকেপিপি০১ (MTKPP01) নামের জাহাজের ক্রু সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে)২৬খ্রিঃ রাত ৮ঃ০০টার সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাফিফং কালাহান (৩০) থাইল্যান্ডের নাগরিক। তার বাবার নাম সানইয়াপং কালাহান।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সূত্র জানায়, আনোয়ারা থানাধীন সমুদ্রের চার্লি অ্যানকর পয়েন্টে নোঙর করা জাহাজটিতে কর্মরত দুই বিদেশি ক্রুর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় এক ক্রু অপরজনকে ছুরিকাঘাত করলে রাফিফং গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আহত থাইল্যান্ড নাগরিককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন শিপিং এজেন্ট মোঃ সোহেল উদ্দিন।

তিনি জানান, ঘটনার পর জাহাজের অন্যান্য ক্রুরা দ্রুত আহত রাফিফংকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের মরদেহ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত করা হবে।

পুলিশ ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত বিদেশি ক্রুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আনোয়ারা থানা পুলিশ, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্সি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জাহাজে কর্মরত অন্যান্য ক্রুদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বান্দরবান লামায় হাতি তাড়ানোর তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু।

টাইগারপাসে উত্তেজনার পর গ্রাফিতি আঁকায় নিজেই নামলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

মোহাম্মদ আলম; বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ফসল রক্ষায় বসানো বিদ্যুতায়িত তারের ফাঁদে পড়ে রুবি আক্তার (৪৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ইউনিয়নের দক্ষিণ হায়দারনাশী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যহাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কিছু কৃষক গোপনে বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদ ব্যবহার করে থাকেন। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ হায়দারনাশী এলাকার একটি কৃষিজমির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুতায়িত তারে স্পৃষ্ট হয়ে রুবি আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহত রুবি আক্তার দক্ষিণ হায়দারনাশী গ্রামের আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন জানান, গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর আমবাগান সংলগ্ন কৃষিজমিতে তিন কৃষক ধান চাষ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যহাতির হাত থেকে ফসল রক্ষায় তারা বৈদ্যুতিক তারের বেড়া স্থাপন করেছিলেন। সেই তারেই বিদ্যুতায়িত হন রুবি আক্তার।

লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হায়দারনাশী এলাকায় বিদ্যুতায়িত তারে স্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বাঘমারা বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতি গ্রস্ত ৫০টি পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন।

টাইগারপাসে উত্তেজনার পর গ্রাফিতি আঁকায় নিজেই নামলেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন

মো.আলম; বান্দরবান প্রতিনিধি:

উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাওয়া ৫০টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ালো জেলা প্রশাসন।

১৯মে মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মো.সানিউল ফেরদৌস অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৫০টি পরিবারের হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ৫হাজার নগদ টাকা, ৩০ কেজি চাউল এবং এক বান্ডিল করে টেউটিন প্রদান করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক মো.সানিউল ফেরদৌস বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের সান্তনা দেয়ারমত কিছুই নেই, যার ক্ষতি হয় সে জানে কতটা কষ্ট। এসময় জেলা প্রশাসক অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৫০টি পরিবারকে আগামীতে আরো সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদসহ সমাজের বিত্তবানদের অসহায়দের পাশে দাড়াতে আহবান জানান।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.আবু তালেব, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল মনসুর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো.নাছির উদ্দিন,কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবানের উপপরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জয়া দাশ, বুলবুল আক্তার সেতু, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, জামছড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিম্প্রু মারমা’সহ জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাওয়া ৫০টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের উপস্থিত ছিলেন।

×