| ৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

তবলার বোলে নারীদের জয়গান: কাপ্তাইয়ে বিটিভি’র নান্দনিক অনুষ্ঠান ধারণ, বদলে যাচ্ছে চেনা গল্প

তবলার বোলে নারীদের জয়গান: কাপ্তাইয়ে বিটিভি’র নান্দনিক অনুষ্ঠান ধারণ, বদলে যাচ্ছে চেনা গল্প

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​পাহাড়, নদী আর সবুজের মিতালী ঘেরা কাপ্তাইয়ের নিসর্গ পড হাউস তখন মুখরিত তবলার গুরুগম্ভীর অথচ সুমধুর বোলে। একসময় যে বাদ্যযন্ত্রের ওপর কেবল পুরুষদের একছত্র অধিকার ভাবা হতো, সেই চেনা ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তবলার চামড়ায় ঝড় তুললেন ৬ জন অদম্য নারী।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বিশেষ উদ্যোগে, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে ধারণ করা হলো এক অনন্য ও নান্দনিক সংগীতানুষ্ঠান, যা কাপ্তাইয়ের বুকে এক নতুন ইতিহাস রচনা করলো। ​বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. ঈমাম হোসাইনের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং প্রযোজক মো. ইয়াদ আহমেদের সুনিপুণ প্রযোজনায় এই নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানটির শুটিং সম্পন্ন হয়। ​

এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল কাপ্তাইয়ের স্থানীয় “সুরের ধারা” সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক ও বিশিষ্ট তবলা শিল্পী অর্ণব মল্লিকের হাত ধরে গড়ে ওঠা একঝাঁক তরুণী। তাঁরই নিবিড় প্রশিক্ষণে “সরগম সঙ্গীত একাডেমির ছয়জন প্রতিভাবান ছাত্রী—অর্পিতা বণিক, কৃপা দাশ, সমৃদ্ধি ধর, মৃত্তিকা দে, হিরণ বড়ুয়া এবং অদিতি মনি অর্চি—তাদের চমৎকার যুগলবন্দী পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। প্রকৃতির আবহে তবলার লহরী যেন এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল।​ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের সমাজে ভাবা হতো—তবলা শুধু পুরুষদেরই বাদ্যযন্ত্র। কিন্তু যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে নারীরাও যে এই কঠিন বিদ্যায় পারদর্শী হতে পারে, তা প্রমাণ করলেন এই ছয় কন্যা।

অনুষ্ঠান শেষে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শিল্পীরা বলেন, ​”তবলা বাজানো আমাদের জন্য শুধু কোনো পারফরম্যান্স নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন এবং আত্মবিশ্বাসের লড়াই। একসময় অনেকেই ভাবতেন মেয়েরা তবলা বাজাতে পারবে না। কিন্তু আজ বিটিভি’র মতো এত বড় একটি মাধ্যমে পারফর্ম করতে পেরে আমাদের দীর্ঘদিনের সাধনা সার্থক মনে হচ্ছে। এই সুযোগ আমাদের ভেতরের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দেখে পাহাড়ের আরও অনেক মেয়ে এই শিল্পে এগিয়ে আসতে সাহস পাবে।”

​প্রশিক্ষক অর্ণব মল্লিক তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “একসময় সকলের ধারণা ছিল তবলা শুধু পুরুষরাই শিখবে বা বাজাবে। কিন্তু কাপ্তাইয়ের এই মেয়েরা প্রমাণ করেছে, সুযোগ আর সঠিক নির্দেশনা পেলে নারীরাও যেকোনো কঠিন শিল্পকে জয় করতে পারে। নারীদের তবলা শিক্ষায় আগ্রহী ও উৎসাহিত করতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের এই চমৎকার উদ্যোগ সমগ্র দেশের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।” ​

পাহাড়ি জনপদে নারীদের এই সংগীত সাধনা এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাদের এই অনন্য স্বীকৃতি কেবল কাপ্তাই নয়, পুরো দেশের সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে এক গভীর আবেগ ও অনুপ্রেরণার জন্ম দিয়েছে। তবলার প্রতিটি বোলে যেন ধ্বনিত হচ্ছিল—নারীরা আর পিছিয়ে নেই, তারা ভাঙছে পুরোনো দেয়াল, গড়ছে নতুন ইতিহাস।

রাঙামাটির সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়স উদ্দিন গ্রেপ্তার

তবলার বোলে নারীদের জয়গান: কাপ্তাইয়ে বিটিভি’র নান্দনিক অনুষ্ঠান ধারণ, বদলে যাচ্ছে চেনা গল্প
সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃষকেতু চাকমা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দু’জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতয়ালী থানার মামলা জিআর ০৯/২৫ এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বেলা ২টায় শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকা থেকে এ দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। পরে সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিকেল ৪টায় কোতয়ালী থানা থেকে জেলা আদালতে দু’জনকে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত দু’জনকেই কারাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, দুপুরে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানাতে আদালতে আসেন বৃষকেতু চাকমা ও গিয়াস উদ্দিন। পরে আদালত এলাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা দু’জনকে।
রাঙামাটির কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকে কোতয়ালী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা জিআর ০৯/২৫ এ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

তবলার বোলে নারীদের জয়গান: কাপ্তাইয়ে বিটিভি’র নান্দনিক অনুষ্ঠান ধারণ, বদলে যাচ্ছে চেনা গল্প

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে দীঘিনালা মাহেন্দ্র সমিতি।

সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার ৫ জুলাই থেকে দীঘিনালা হইতে বাঘাইহাট বাজার মাহিন্দ্র যানবাহনের ভাড়া ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীঘিনালা মাহিন্দ্র সমিতির সাধারন সম্পাদক মো; রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় যাত্রীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাড়া কমানোর ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তারা এ মানবিক উদ্যোগের জন্য মাহিন্দ্র সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাহিন্দ্র সমিতির লাইমেন্স বাবুধন চাকমা বলেন জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সমিতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

রুমার দুর্গম চারটি স্কুলে ১১২ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করল রুমা জোন (৩৬ বীর)

তবলার বোলে নারীদের জয়গান: কাপ্তাইয়ে বিটিভি’র নান্দনিক অনুষ্ঠান ধারণ, বদলে যাচ্ছে চেনা গল্প

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করেছে রুমা জোন (৩৬ বীর)।

গত (৪ জুলাই) রোজ শনিবার “সবার জন্য সেনাবাহিনী” এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি-এর নির্দেশনায় এবং মো: নেওয়াজ মোর্শেদ -এর তত্ত্বাবধানে রাইংখিয়ং পুকুর আর্মি ক্যাম্পের আওতায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সহায়তা পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, চারটি বিদ্যালয়ের মোট ১১২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে স্কুল ড্রেস ও একটি করে ছাতা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থী এ সহায়তা পেয়েছে।

এ সময় স্থানীয় কারবারি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা প্রসার ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ ধরনের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও পোশাক পেয়ে উপকৃত হবে।

এদিকে সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের পাশে থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা সর্বদাই প্রশংসনীয়।

রুমা জোন কর্তৃপক্ষ জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

×