| ৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে বন্য হাতির উপদ্রব: চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে বন্য হাতির উপদ্রব: চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী বন রেঞ্জের আওতাধীন ফ্রিংখিয়ং বিট সংলগ্ন চিৎমরম মুসলিম পাড়া এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত লোকালয়ে হাতির পালের হানায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, বন্য হাতির দল প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এ সময় তারা মানুষের কষ্টে সৃজিত কলার বাগানসহ বিভিন্ন ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি করছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করায় সাধারণ মানুষের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বন্য হাতিকে দেশের সম্পদ উল্লেখ করে কোনো প্রকার ক্ষতি না করে হাতি ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি জানান, বন্য হাতির চলাচলের প্রাকৃতিক করিডোর দখল করে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে হাতির স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। করিডোর সংকীর্ণ হওয়ার কারণেই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।

​এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে বনাঞ্চলে হাতির খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানেই হাতির দল লোকালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া হাতির আক্রমণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতি-মানুষের এই দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতির করিডোরগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা জরুরি। সেই সাথে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাতি চলাচলের পথে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তাসহ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই হাতি ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

​ছবি:  কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও ফসলি জমির চিত্র।

রাঙামাটির সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়স উদ্দিন গ্রেপ্তার

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে বন্য হাতির উপদ্রব: চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা
সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :
রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃষকেতু চাকমা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাঘাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। দু’জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতয়ালী থানার মামলা জিআর ০৯/২৫ এ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) বেলা ২টায় শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকা থেকে এ দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। পরে সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিকেল ৪টায় কোতয়ালী থানা থেকে জেলা আদালতে দু’জনকে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত দু’জনকেই কারাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, দুপুরে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি রাজনৈতিক মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানাতে আদালতে আসেন বৃষকেতু চাকমা ও গিয়াস উদ্দিন। পরে আদালত এলাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা দু’জনকে।
রাঙামাটির কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, কোতয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকে কোতয়ালী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা জিআর ০৯/২৫ এ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দীঘিনালায় যাত্রীদের দুর্ভোগে কথা চিন্তা করে মাহেন্দ্র সমিতির নতুন ভারা নির্ধারন

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে বন্য হাতির উপদ্রব: চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা:

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে দীঘিনালা মাহেন্দ্র সমিতি।

সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার ৫ জুলাই থেকে দীঘিনালা হইতে বাঘাইহাট বাজার মাহিন্দ্র যানবাহনের ভাড়া ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীঘিনালা মাহিন্দ্র সমিতির সাধারন সম্পাদক মো; রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের কষ্টের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় যাত্রীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভাড়া কমানোর ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তারা এ মানবিক উদ্যোগের জন্য মাহিন্দ্র সমিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাহিন্দ্র সমিতির লাইমেন্স বাবুধন চাকমা বলেন জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে সমিতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

রুমার দুর্গম চারটি স্কুলে ১১২ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করল রুমা জোন (৩৬ বীর)

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে বন্য হাতির উপদ্রব: চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস ও ছাতা বিতরণ করেছে রুমা জোন (৩৬ বীর)।

গত (৪ জুলাই) রোজ শনিবার “সবার জন্য সেনাবাহিনী” এই মূলমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি-এর নির্দেশনায় এবং মো: নেওয়াজ মোর্শেদ -এর তত্ত্বাবধানে রাইংখিয়ং পুকুর আর্মি ক্যাম্পের আওতায় এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সহায়তা পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, চারটি বিদ্যালয়ের মোট ১১২ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে স্কুল ড্রেস ও একটি করে ছাতা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে পুকুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০ জন, প্রংজং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন, সুরহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন এবং চার্জিং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থী এ সহায়তা পেয়েছে।

এ সময় স্থানীয় কারবারি, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা প্রসার ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এ ধরনের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও পোশাক পেয়ে উপকৃত হবে।

এদিকে সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের পাশে থাকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা সর্বদাই প্রশংসনীয়।

রুমা জোন কর্তৃপক্ষ জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

×